সোয়া ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী

ঢাকা, ১১ মে, ২০১৯ | 2 0 1

সোয়া ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৩:১০ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০১৯

সোয়া ৫ লাখ কোটি টাকার বাজেট দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী

‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে ২০১৯-২০ অর্থবছরের ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম ‍মুস্তফা কামাল।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা ৮ মিনিটে সংসদে তিনি এই বাজেটের সংক্ষিপ্তসার উপস্থাপন শুরু করেন।

এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতেই অর্থমন্ত্রী ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট এবং ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের অনুমতি চান। স্পিকার অনুমতি দেয়ার পর তিনি বাজেট উপস্থাপন শুরু করেন।

সংসদে উপস্থিত আছেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও এমপিরা।

অর্থমন্ত্রীর মতে, এবারের বাজেট হবে দেশেরে ইতিহাসের স্মার্ট বাজেট। কারণ, গতানুগতিক ৫ বছরের বাজেট না দিয়ে এবারের বাজেটে ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার একটা রোডম্যাপ দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী।

বাজেটে প্রস্তাবনায় ব্যাংকিং খাত, পুঁজিবাজার, সঞ্চয়পত্র, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও শিক্ষাক্ষেত্রে সংস্কার প্রস্তাব এনেছেন তিনি।

বাজেট প্রস্তাবে কিছু নতুন উদ্যোগও রেখেছেন অর্থমন্ত্রী। প্রথমবারের মতো শিক্ষিত তরুণ বেকারদের জন্য স্টার্ট-আপ ফান্ড নামে ঋণ তহবিল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। এ তহবিল থেকে স্বল্পসুদে সহজ শর্তে ঋণ নিয়ে ব্যবসা কবতে পারবেন বেকাররা।

এ ছাড়া বাজেটে কৃষকের জন্য ‘পাইলট প্রজেক্ট’ চালু করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এ প্রজেক্টের আওতায় প্রাথমিকভাবে বেছে নেয়া হবে একটি জেলাকে। পরবর্তী সময়ে এটি ছড়িয়ে দেয়া হবে সারা দেশে।

বাজেট প্রস্তাবে নতুন উদ্যোগের মধ্যে প্রবাসীদের জন্য বীমা সুবিধার প্রস্তাব রেখেছেন অর্থমন্ত্রী। বর্তমানে বিদেশে ৭০-৮০ লাখ প্রবাসী অবস্থান করছেন। আর প্রতিবছর নতুন করে দেশের বাইরে চাকরিতে যাচ্ছেন ৫-৭ লাখ মানুষ। এদের বীমা সুবিধার আওতায় আনা হবে।

বাজেটে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রতিটি গ্রামকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। এজন্য গ্রামে ইন্টারনেট, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেয়া হবে।

বাজেটে আসছে অর্থবছরের জন্য ৮.২০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আর মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫.৫ শতাংশ।

বাজেট প্রস্তাবে রাজস্ব আয়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। আর অনুদানসহ আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। এটি জিডিপির ১৩.১ শতাংশের সমান।

অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাব ২০১৯-২০ অর্থবছরে কর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রস্তাব করা হয়েছে ৩ লাখ ৪০ হাজার ১০৩ কোটি টাকা, এটি জিডিপির ১১.৮ শতাংশের সমান। এর মধ্যে এনবিআর থেকে সরাসরি কর রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে, যা মোট জিডিপির ১১.৩ শতাংশ।

প্রস্তাবে এনবিআরবহির্ভূত কর রাজস্ব পরিমাণ ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এটি মোট জিডিপির শূন্য দশমিক ৩ শতাংশের সমান। কর ব্যতীত আয় হবে ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এ ছাড়া বৈদেশিক অনুদান থেকে ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৬৮ কোটি টাকা।

এফএ/আইএম
আরও পড়ুন...
বাজেট বৈঠকে মন্ত্রিসভা

 

রাজস্ব: আরও পড়ুন

আরও