তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

ঢাকা, ২৫ মে, ২০১৯ | 2 0 1

তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৭:৫৪ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০১৯

তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

‘দেশজুড়ে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারসহ সমাজের সকলের সমন্বিতভাবে কাজ করার বিকল্প নেই’।

রোববার বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০১৯ উপলক্ষে সেমিনার ও ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ পদক ২০১৯ প্রদান’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন বক্তারা।

রাজধানীর পিকেএসএফ মিলনায়তনে জাতীয় তামাক বিরোধী প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আবদুর রাজ্জাক।

বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ও তামাক বিরোধী জাতীয় প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, তামাক খাত হতে বছরে ২২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সরকারি কোষাগারে আসে যা মোট রাজস্ব আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজস্ব আদায়ের পরিধি বৃদ্ধি করে তামাকের ওপর রাজস্বের এই নির্ভরশীলতা হ্রাসের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, কৃষিখাতের আধুনিকায়ন ও বাণিজ্যিকীকরণ এখন সময়ের দাবি এবং সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের সম্প্রসারণ করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন কৃষিমন্ত্রী।

জাতীয় অধ্যাপক বিগ্রেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে তামাক চাষ ও এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। তামাক নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা থাকলেও সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ও কর্ম-পরিকল্পনা নেই। তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের পাশাপাশি সমাজের সকলস্তরের মানুষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, তামাক সেবনের ফলে দেশের যুব সমাজ প্রথমে তামাকের প্রতি এবং পরে মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে যাচ্ছে।

বাজেটে প্রতিবছর তামাকজাত পণ্যের ওপর কর বৃদ্ধি তেমন ফলপ্রসু হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সমন্বিতভাবে এবং তৃণমুল পর্যায় থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি পিকেএসএফ কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি সরবরাহ, অর্থায়ন, বাজার তথ্য সরবরাহসহ নানাবিধ উদ্যোগ নিয়েছে বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে কাজ করার লক্ষ্যে ২০১৭ সালে গঠিত এই প্ল্যাটফর্ম প্রতিবছর ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ পদক’ প্রদান করে। তামাক বিরোধী কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবছর অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে ‘ব্যক্তি উদ্যোগ’ ক্যাটাগরিতে, ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)-কে ‘প্রতিষ্ঠান’ ক্যাটাগরিতে এবং বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি-কে ‘গবেষণা/প্রকাশনা’ ক্যাটাগরিতে তামাক নিয়ন্ত্রণ পদক প্রদান করা হয়। এছাড়া, তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত গবেষণামূলক কার্যক্রম সম্পাদনে উৎসাহ প্রদান করার লক্ষ্যে তরুণ গবেষক সৈয়দা সাজিয়া আফরোজ রুম্পাকে “বিশেষ সম্মাননা” প্রদান করা হয়।

এফএ/এসবি

 

রাজস্ব: আরও পড়ুন

আরও