করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৭:৪১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০২, ২০১৯

করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব

আগামী অর্থ বছরের বাজেটে করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৩ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।

মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সম্মেলন কক্ষে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রাক বাজেট আলোচনায় এ প্রস্তাব দেওয়া হয়।

এসময় ডিসিসিআই থেকে করপোরেট করহার কমানো, ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো, সার চার্জ পুনর্নির্ধারণ, ডিভিডেন্ট আয়ের ওপর করহার কমানো, ঋণ হিসাব হতে দুইবার আবগারি শুল্ক প্রত্যাহার, সঞ্চয়ী হিসাবে সুদের ওপর উৎসে কর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়।

প্রাক বাজেট আলোচনায় ডিসিসিআই সভাপতি ওয়াসামা তাসির এসব প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।

ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ২০১৫-১৬ অর্থ বছর থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা রয়েছে উল্লেখ করে ওয়াসামা তাসির বলেন, ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে ২০১৮-১৯ অর্থ বছর মোট মূদ্র্যাস্ফীতি ২২.৫৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে জীবন ধারণ ব্যয় বেড়েছে ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে।

করমূক্ত সীমা বাড়ানো ও করের হারহ্রাস করা হলে মানুষ কর প্রদানে উৎসাহিত হবে। এতে সহজে করের আওতা বাড়বে।

তিনি বলেন, বর্তমানে প্রথম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর শূন্য, পরবর্তী ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ, অবশিষ্ট মোট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর পরিশোধের বিধান আছে।

এছাড়া মহিলা করদাতা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সের করদাতার করমুক্ত আয় সীমা ৩ লাখ টাকা, প্রতিবন্ধী করদাতার ৪ লাখ টাকা এবং গেজেটভূক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা আছে।

আগামী অর্থ বছরের জন্য প্রথম ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর শূন্য, পরবর্তী ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ৫ শতাংশ, পরবর্তী ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৯ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত মোট আয়ের ওপর ২০ শতাংশ, অবশিষ্ট মোট আয়ের ওপর ২৫ শতাংশ হারে কর নির্ধারণে প্রস্তাব করছি।

একই সঙ্গে মহিলা করদাতা ও ৬৫ বছরের বেশি বয়সের করদাতার করমূক্ত আয় সীমা ৪ লাখ টাকা, প্রতিবন্ধী করদাতা এবং গেজেটভূক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

করপোরেট করহার কমানোর দাবি জানিয়ে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, নন পাবলিকলি ট্রেডেড কম্পানির জন্য বাংলাদেশের করপোরেট করহার ভিয়েতনামের তুলনায় ১৫ শতাংশ, মালয়েশিয়ার তুলনায় ১১ শতাংশ, চীন, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমারের তুলনায় ১০ শতাংশ, পাকিস্তানের তুলনায় ৬ শতাংশ এবং ভারত ও ফিলিপাইনের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি।

পর্যায়ক্রমে আগামী তিন অর্থ বছরে প্রগেসিভ হারে স্টক একচেঞ্জ মার্কেটে নন লিস্টেট কোম্পানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩৫ শতাংশ করপোরেট করের পরিবর্তে ২৫, ২৩ ও ২০ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করছি। অন্য সকল স্তর থেকেও কপোরেট কর হার আগামী তিন বছরে ৫, ৭ ও ১০ শতাংশ হারে কমাতে বলেছে ডিসিসিআই।

ডিসিসিআই সভাপতি বাজেট শিক্ষা ব্যয়ে কর অব্যাহতি, বিনিয়োগ কর রেয়াত বাড়ানো, রাজস্ব জালের বিস্তার, কর প্রদান ব্যবস্থা সহজীকরণ, বহুস্তর বিশিষ্ট ভ্যাট বহাল, আপিল ট্রাইবুন্যালে আপিলকালীন ১০ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান, বীমার আওতায় আরো বেশি মানুষ অন্তর্ভুক্তি, মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবহার উৎসাহিত করা, এ ফান্ডের ওপর স্ট্যাম্প ডিউটি বিলুপ্ত করা, ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সর্বনিম্ন ২০ শতাংশ মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করার অনুমোদন ও ৫ বছরের জন্য গ্রিন ফিল্ড অবকাঠামো প্রকল্প বিনিয়োগে কর অব্যাহতি দিতে বলা হয়েছে।

এফএ/এসবি