‘বিবিএসর কাল্পনিক তথ্যে মূল্যস্ফীতি নির্ণয়’

ঢাকা, ২৫ মে, ২০১৯ | 2 0 1

‘বিবিএসর কাল্পনিক তথ্যে মূল্যস্ফীতি নির্ণয়’

পরিবর্তন প্রতিবেদক ৮:৩৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৮

‘বিবিএসর কাল্পনিক তথ্যে মূল্যস্ফীতি নির্ণয়’

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বর্তমানে সব নিত্যপণ্যের দাম নিম্নমুখী, নির্বাচনী হাওয়ায়ও নিত্যপণ্যের বাজারে নেতিবাচক কোনো প্রভাব পড়বে না। বরং সামনে নিত্যপণ্যের দাম আরও কমবে। দেশে কৃষি পণ্যের বাম্পার ফলন হয়েছে। চাল উৎপাদনও ভালো হয়েছে। তাই সব পণ্যের দামই সহনীয় পর্যায়ে আছে। ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময়মূল্যও সহনীয় পর্যায়ে আছে। ফলে আদা, রসুন, পেঁয়াজ, তেল ও ডাল কিনতে বাড়তি খরচ হয় না। গত অর্থবছরের তুলনায় এ বছর মূল্যস্ফীতি স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য প্রকাশ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

সিপিআইয়ের হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিশ্ববাজারে তেল, ডাল ও চিনির দাম কমেছে। ফলে দেশে মূল্যস্ফীতির হারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এর প্রভাবে চলতি বছরের নভেম্বরে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার কমে হয়েছে ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অক্টোবর মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৫ দশমিক ৪০ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত বিবিএসর হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, শহর এলাকায় ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসের তুলনায় ২০১৮ সালের নভেম্বরে সব পণ্যের দাম কমেছে। ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচের দাম ছিল ১৬ টাকা, এ বছরের নভেম্বর মাসে কমে হয়েছে ৮ টাকা। একইভাবে তুলনায় দেখা যাচ্ছে, প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৮৪ টাকা থেকে কমে ৫৮ টাকা হয়েছে, রসুন ১১০ থেকে ১০০, ব্রয়লার মুরগি ১৫৯ থেকে ১৫০, হলুদ ২০০ থেকে ১৯০, চিনি ৬০ টাকা থেকে কমে ৫৮ টাকা হয়েছে। তবে পেট্রল ও ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।  

তবে সরজমিন বাজার অনুসন্ধান ও অর্থনীতিবিদদের মতে বিবিএসর এ দর দাম কাল্পনিক। বাস্তবিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে এর কোনো মিল নেই।

এ অবস্থায় পরিকল্পনামন্ত্রীর দেওয়া মূল্যস্ফীতির তথ্য সঠিক নয় বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ।

তিনি পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, বিবিএস দর দামের যে তালিকা দিয়েছে তার একটাও ঠিক নেই। তারা অফিসের এসিতে বসে নিত্যপণ্যে দর-দামের তালিকা করে। বাস্তব বাজার পরিস্থিতি তাদের তালিকায় নেই। সুতরাং মূল্যস্ফীতি নিয়ে দেওয়া তথ্য সঠিক নয়।

এদিকে বিবিএস বলছে নভেম্বরে উন্নতমানের মসুর ডাল, খেসারির ডাল, আতপ চাল, নাজিরশাইল, খাসির মাংস, চিংড়ি মাছের দাম বেড়েছে। এছাড়া প্রতিকেজি আতপ চাল ৪২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৪ টাকা, খাসির মাংস ৭৪৮ থেকে ৭৭০, চিংড়ি ৭১৮ থেকে ৭৩৫, গরুর মাংস ৪৯৬ থেকে ৫০০, পাম অয়েল প্রতিলিটার ৭৮ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা। অন্যদিকে দেশি মানের বাইসাইকেল ৫ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৯০০ টাকা।

এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আবু আহমেদ বলেন, দেখুন কতটা হস্যকর তালিকা। যারা এ তালিকা করে তারা মনে হয় কখনোই নিজেরা বাজারে যায় না। ৪২ টাকা আর ৪৪ টাকায় কবে এ দেশের মানুষ আতপ চাল কিনতে পেরেছে বলুন? এখনতো ৪৫ থেকে ৫০ টাকা লাগে মোটা সাদা ভাতের চাল কিনতেই। এছাড়া মাছ মাংসের দাম বৃদ্ধির যে তালিকা দিয়েছে এটাও হস্যকর। এসব পণ্যের দর দামে আমাদের দেশে ফিগার ম্যান্টেইন করা হয়। কখনো খুচরা হিসাব করা হয় না।

নির্বাচনের আগে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির শঙ্কা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ভোটের সময় আমরা চাল ও সবজি বেশি খাবো না। কিন্তু চা তৈরির জন্য চিনি একটু বেশি লাগবে। ভোটে অন্যান্য উৎসবের মতো আমরা সন্তানদের নতুন নতুন কাপড়-চোপড়ও কিনে দেই না। সুতরাং ভোটে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কোনো সম্ভাবনা নাই। এখন সব কিছুর দাম কম, ভোটের পরও দাম কম থাকবে।

এফবি/এসবি

 

রাজস্ব: আরও পড়ুন

আরও