২ বছরের মধ্যে ৫০ লাখ করদাতা চাই

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬

২ বছরের মধ্যে ৫০ লাখ করদাতা চাই

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৬:১২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৮

২ বছরের মধ্যে ৫০ লাখ করদাতা চাই

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া বলেছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে ইটিআইএন ধারী করদাতার সংখ্যা ৫০ লাখে উন্নীত করতে চাই। একই সঙ্গে প্রতি বছর রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ৩৫ লাখে নিতে চাই।

রোববার বিকালে এনবিআরের সম্মেলন কক্ষে আয়কর মেলা ২০১৮ উপলক্ষে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি করনেট বাড়াতে কাজ করছে এনবিআর। এ জন্য বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলাসহ সব কর অফিসের জন্য টার্গেট নির্ধারণ করতে বলা হয়েছে। তাদেরকে নতুন করদাতা চিহ্নিত করতে টার্গেট দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের থেকেই নতুন করদাতা চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে যে সকল জনপ্রতিনিধি (ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারসহ) ইতোমধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন তারা আয়কর রিটার্ন দাখিল করে কিনা তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এছাড়া সিটি কর্পোরেশনগুলোর সাথে করদাতা বাড়াতে আলাপ-আলোচনা চলছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দেশে বর্তমানে ২০ লাখ করদাতা রিটার্ন দাখিল করেন। এ সংখ্যা আগামী দুই বছরে এটা ৩৫ লাখে নিতে চাই। আর ইটিআইএন নিয়েছেন ৩৫ লাখ করদাতা। এটা আগামী দুই বছরে ৫০ লাখে উন্নীত করতে চাই।

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ট্যাক্স ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিয়েছে সার্টিফিকেট লাগবে না। নির্বাচন কমিশন যে ঘোষণা দিয়েছে এরপর আমার আর কিছু বলার নেই। তবে এ নির্বাচনের পর কোনো কর খেলাপী যাতে প্রার্থী না হতে পারেন সে বিষয়ে এনবিআর পদক্ষেপ নিবে। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে আইন করবে।

‘উন্নয়ন ও উত্তরণ, আয়করের অর্জন’- স্লোগানকে সামনে রেখে এ বছর আয়কর মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আয়কর প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচার ও ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ’। এবারের মেলায় কর বিষয়ক সব ধরনের সেবার পাশাপাশি অডিও ভিজ্যুয়াল পদ্ধতিতে করদাতাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকবে। 

আয়কর মেলা ২০১৮ আগামী ১৩ নভেম্বর সকাল ৯টায় বেইলি রোডের অফির্সাস ক্লাবে আয়কর মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এ অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী  আবদুল মান্নান এবং এফবিসিসিআই এর সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।

এবারের আয়কর মেলার প্রধান স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবকে। ৭ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত এ মেলায় করদাতারা ২০১৮-২০১৯ কর বর্ষের আয়কর রিটার্ন জমা দিতে পারবেন। সহজে রিটার্ন দাখিলের জন্য ঢাকার আয়কর মেলায় প্রতিটি কর অঞ্চলের জন্য আলাদা বুথ থাকবে। মেলায় রেজিস্ট্রেশন বুথে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান সাপেক্ষে নতুন করদাতাগণ রেজিস্ট্রেশন ও বর্তমান (পুরাতন টিআইএনধারী) করদাতাগণ রি-রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। এছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ই-পেমেন্ট ওয়েব সাইট ব্যবহার করে করদাতারা অনলাইনে প্রদেয় কর পরিশোধ করতে পারবেন। মুক্তিযোদ্ধা, মহিলা, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ করদাতাদের জন্য মেলায় পৃথক বুথ থাকবে। মেলায় স্থাপিত সোনালী ও জনতা ব্যাংকের বুথে করদাতাগণ আয়কর জমা দিতে পারবেন। মেলায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অধীন শুল্ক, ভ্যাট, সঞ্চয় অধিদপ্তর, বিসিএস (কর) একাডেমী, কাস্টমস্ একাডেমী এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের পৃথক বুথ থাকবে। যেখান থেকে মেলায় আগত করদাতাগণ শুল্ক, ভ্যাট, সঞ্চয় অধিদপ্তর এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যেকোনো তথ্য জানা যাবে। করদাতাগণকে মেলা প্রাঙ্গনে আয়কর রিটার্ন, ই-টিআইএন আবেদন ফরম এবং চালান ফরম সরবরাহ করা হবে। করদাতাদের সুবিধার্থে মেলায় হেল্প ডেস্ক, তথ্য কেন্দ্র ও আয়কর অধিক্ষেত্র সংক্রান্ত বুথ থাকবে। এসব বুথের মাধ্যমে করদাতাগণকে আয়কর রিটার্ন ফরম পূরণ, চালান ও পে-অর্ডার প্রস্তুতসহ আয়কর আইন বিষয়ক প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করা হবে। করদাতাদের সুবিধার জন্য মেলা প্রাঙ্গনে ফটোকপির ব্যবস্থা থাকবে।

এফএ/এএসটি