ঈদে চিকন সেমাইয়ের ১২ পদ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০১৯ | ৪ আষাঢ় ১৪২৬

ঈদে চিকন সেমাইয়ের ১২ পদ

পরিবর্তন ডেস্ক ১:০৬ অপরাহ্ণ, জুন ০২, ২০১৯

ঈদে চিকন সেমাইয়ের ১২ পদ

ঈদ মানেই ভিন্নধর্মী আয়োজন আর দারুণ সব রেসিপি। আর ঈদ সেমাই ছাড়া তো ভাবাই যায় না। অনেকে আবার ঈদে দুধ সেমাই, সেমাইয়ের জর্দা, লাচ্ছা সেমাই, এমনকি ঝাল সেমাইও রান্না করে থাকেন। আর আজ আপনাকে জানাবো চিকোন সেমাই রান্নার ১২ পদের ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের সেমাইয়ের রেসিপি। আসুন আপনার এই ঈদের চিকন সেমাই রান্নায় নিয়ে আসুন ভিন্নতা।

১. ক্রিমি লেয়ার সেমাই

উপকরণ:

ঘন দুধ-২ কাপ,

চিকন সেমাই ১ কাপ,

চিনি ১ কাপ, কিশমিশ,

কাঠবাদাম কুচি ২ টেবিল চামচ,

গুড়াদুধ ১ কাপ,

ফ্রেশ ক্রিম ১ কাপ,

ডিম ৪টা,

ঘি ২ টেবিল চামচ।

প্রণালি: প্রথমে সেমাইগুলো হাত দিয়ে ভেঙে ছোট করে নিন। প্যানে ঘি গরম করে সেমাইগুলো বাদামি করে ভেজে নিন। আরেকটি প্যানে দুধ জ্বাল দিন। দুধের মধ্যে ফেটানো ডিম দিয়ে নাড়ুন। এর মধ্যে চিনি, গুড়াদুধ, বিট করা ফ্রেশ ক্রিম দিয়ে নেড়ে ঘন করে নিন। এই মিশ্রণের কিছুটা একটি পাত্রে তুলে রাখুন। আর বাকি মিশ্রণটিতে ভাজা সেমাই দিয়ে রান্না করুন। সেমাইগুলো সেদ্ধ হয়ে ঝরঝরে হলে নামিয়ে নিন। একটি পাত্রে রান্না করা সেমাই এবং দুধের মিশ্রণটি লেয়ার করে সাজিয়ে নিন। এর উপরে কিশমিশ, কাঠবাদাম কুচি ছড়িয়ে দিয়ে এবার পরিবেশন করুন।

২. দুধ সেমাই

উপকরণ :

সেমাই ২০০ গ্রাম (৪০০ গ্রামের প্যাকেট দিয়ে ছোট পরিবার দুই পদের সেমাই রান্না করা যায়),

চিনি হাফ কাপ (আপনার ইচ্ছা কেমন মিষ্টি করবেন, খেয়াল করে),

এলাচি ৩টা,

দারুচিনি ৩ টুকরা,

তেজপাতা ১টা,

এক লিটার দুধ।

প্রণালি : এক লিটার দুধ ভালো করে গরম করে কমাতে থাকুন, তাতে হাফ কাপ চিনি দিয়ে দিন (চিনি আপনার ইচ্ছার উপর)। এলাচি, দারুচিনি এবং থাকলে একটা তেজপাতা দিন। প্যাকেট থেকে সেমাই হাফ করে (২০০ গ্রাম) নিন। তার আগে খালি একটা গরম কড়াইতে সেমাইগুলো ভেজে নিন (তেল ছাড়াই ভালো, অনেকে তেল বা সামান্য ঘি দেন। ইচ্ছে হলে আপনিও দিতে পারেন)। মচমচে হলে তা গরম দুধে ঢেলে দিন। হালকা গরম থাকতেই পরিবেশন করুন।

৩. সেমাইয়ের মালাই ক্ষীর :

উপকরণ:

দুধ-দেড় লিটার,

চিনি-পরিমান মতো,

মালাই-আধা কাপ,

কাজু, কিসমিস, পেস্তা, কাঠবাদাম-আধা কাপ

সেমাই-এক কাপ,

এলাচ, দারুচিনি-৬/৭,

ঘি-২ টেবিল চামচ,

জাফরান- সামান্য

প্রণালি : প্রথমে বাদামগুলো খোসা ছাড়িয়ে মোটা কুচি করে নিন। এরপর দের লিটার দুধ জ্বাল দিয়ে অর্ধেকের কম পরিমাণ করে রাখুন। এবার প্যানে ঘি দিয়ে গরম করুন। এরপর এলাচ দারুচিনি দিয়ে একটু ভাজুন। বাদাম কুচি, কিসমিস ও সেমাই দিয়ে দিন। মৃদু আঁচে হালকা ভাজুন। ঘ্রাণ ছাড়লেই ঘন দুধ দিয়ে দিন। নেড়ে নেড়ে রান্না করুন। সেমাই সিদ্ধ হয়ে আসার সাথে সাথে দুধও ঘন হয়ে আসবে। সেমাই সিদ্ধ হয়ে গেলে মালাই দিয়ে দিন। জাফরান দিন। এরপর ভালো করে মিশিয়ে চুলা বন্ধ করে ফেলুন। এবার ছোট ছোট বাটিতে এই ক্ষীর সাজান। এরপর ফ্রিজে রেখে সেট হতে দিন। সেট হলে বাদাম ও কিসমিস ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।

৪. সেমাইয়ে মুজাফের

উপকরণ:

সেমাই ১০০ গ্রাম

বাটার ১০০ গ্রাম

এলাচ ৬/৭ টি

চিনি ১ কাপ বা সাদমত

পানি পোনে এক কাপ

গুড়া দুধ ২ কাপ ( দেড় কাপ পানিতে গুলে নেয়া )

কেওরা জল ১ টেবিল চামচ

জাফরান রঙ সামান্য

লেবুর রস একটি

কিসমিস,বাদাম ও মাওয়া পরিমান মত

প্রস্তুত প্রনালি:

একটি ছড়ানো পানে বাটার গলিয়ে এলাচ দিয়ে সামান্য ভেজে সেমাই দিয়ে দিতে হবে। সেমাই হালকা বাদামি করে ভাজতে হবে।

এবার অন্য একটি চুলায় ৩/৪ পানিতে এক কাপ চিনি গলিয়ে নিয়ে জাফরান রং দিতে হবে। এই চিনির মিশ্রন টি সেমাই এর মধ্যে দিয়ে নারাচারা করে পানি শুকিয়ে আসলে দুধ দিয়ে একটু নেড়ে লেবুর রস দিতে হবে।

লেবুর রস দুধ ফেটে ছানার মত হবে এবং এইটাই এই সেমাইয়ের বিশেষত্ব। সেমাই কিসুক্ষন নাড়াচাড়া করার পর মাখা মাখা হয়ে আসলে ২০-২৫ মি: দমে রাখতে হবে। একটি তাওয়া এর ওপর দম দিলে খুব ভালো হবে। দম শেষে সেমাই টা ঝর ঝরে হবে। এবার একটি সার্ভিং ডিসে ঢেলে বাদাম, কিসমিস ও মাওয়া দিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

৫. শের খোরমা সেমাই

উপকরণ:

ফুল ফ্যাট মিল্ক ৫০০ মিলি

ঘি এক টেবিল চামচ

চিনি ১ থেকে দেড় চা চামচ

সেমাই দেড় কাপ

কাজুবাদাম কুচি ৭/৮টি

কাঠ বাদামকুচি ৮/৯টি

পেস্তাবাদাম ৮/৯টি

এলাচ ৪টি

কিশমিশ এক টেবিল চামচ

গোলাপজল ১/২ চা চামচ

প্রণালী: ফ্রাইপ্যানে সেমাই ঘিয়ে ভেজে নিন। সোনালি রং হলে নামিয়ে নিন। একই প্যানে কাজুবাদাম, কাঠ বাদাম, পেস্তাবাদাম, কিশমিশ সবগুলো একসঙ্গে ৩/৪ মিনিট ভেজে নিন।

সসপ্যানে দুধ জ্বাল দিন। ফুটে উঠলে ৮-১০ মিনিট অল্প আঁচে রেখে দুধ ঘন হতে দিন। দুধে চিনি মেশান। চিনি কতটা দেবেন তা নির্ভর করবে কতটা খেজুর ও কিশমিশ ব্যবহার করছেন, তার ওপর। খেজুর ও কিশমিশ বেশি দিলে চিনির পরিমাণ কম দিতে হবে। এবার ভাজা সেমাই দুধের পাত্রে ঢেলে খুব অল্প আঁচে ৮-১০ মিনিট রাখুন। সেমাই ও দুধ যেন আঠালো হয়ে যায়।

ড্রাই ফ্রুট ও এলাচ দিয়ে চুলা বন্ধ করে দিন। শুকনো খেজুর ব্যবহার করলে তা সারারাত জলে ভিজিয়ে রাখুন। এতে খেজুর নরম হবে।

শের খোরমা গরম বা ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে পরিবেশন করুন। জাফরান, গোলাপের পাপড়ি বা ড্রাই ফ্রুট দিয়ে শের খোরমা গার্নিশ করতে পারেন।

৬. ডিম সেমাই

উপকরণ লাগবে:

আধা কেজি দুধ, ১টি ডিম,

দু’জন খাওয়ার মতো লাচ্ছা বা লম্বা সেমাই,

চিনি পরিমাণ মতো,

এলাচ ও দারচিনি যতোটুকু প্রয়োজন মনে করেন

পরিবেশনের জন্য কিসমিস, বাদাম ও চেরি।

প্রণালি : একটি হাড়িতে দুধটুকু নিয়ে ভালো মতো গরম করুন। দুধ ফুটে উঠলে আগুনের আঁচ কমিয়ে হাড়িতে ডিমটাকে ফাটিয়ে দিয়ে দিন। এবার হাড়ির দুধ খুব ভালোভাবে নেড়ে ডিম ভালো মতো মিশিয়ে দিন। ডিম মেশানোর পর চিনি, দারচিনি, এলাচ দিন দুধে।

সবকিছু একটু গরম হওয়ার পর সেমাই দিতে হবে। লাচ্ছা সেমাই হলে সোজা দুধের হাড়িতে ঢেলে দিন। তারপর দুধটাকে একটু ফুটিয়ে নামিয়ে ফেলুন।

আর লম্বা সেমাই হলে আগে একটি পাতিলে ঘি কিংবা সয়াবিন তেল ঢেলে একটু লাল লাল করে ভেজে নিন। এরপর ভাজা সেমাই গরম দুধের হাড়িতে ঢেলে একটু ফুটিয়ে হাড়ি নামিয়ে আনুন। ব্যস, হয়ে গেলো আপনার ডিম সেমাই।

পরিবেশনের আগে একটু ঠাণ্ডা করে ছোটো বাটিতে নিয়ে নিন। সেমাইর ওপরে কিসমিস, বাদাম, চেরি ছিটিয়ে দিয়ে পরিবেশন করুন।

৭. নারকেল দিয়ে সেমাইর জর্দা

উপকরণ:

লাল সেমাই – ১/২ প্যাকেট

চিনি – ২ কাপ

নারকেল কুরানো – ১ কাপ

কিশমিশ – ২ টেবিল চামচ

পেস্তা বাদাম – ৩ টেবিল চামচ (যে কোন বাদাম চলতে পারে)

দারুচিনি – ৩ টুকরা

তেজপাতা – ২ টা

ঘি – ৪ টেবিল চামচ

পানি – ২ কাপ

লবণ – পরিমাণ মতো

প্রণালি: চুলাতে কড়াই চাপিয়ে আগুনের আচেঁ কড়াইয়ের ভেতরটা শুকাতে দিন। এবার গরম কড়াইতে ঘি দিয়ে দিন। ঘি সামান্য গরম হলে চিনি দিন।

এবার ১ প্যাকেট সেমাইয়ের অর্ধেকটা এই গরম ঘিয়ে ঢেলে দিয়ে ১০/১৫ মিনিট নাড়ুন, সেমাইটা ঘিয়ে ভাজা হবে। এবার এতে কুরানো নারকেল দিয়ে নাড়তে থাকুন, কিছুক্ষণ পর পানি দিয়ে দিন আর চুলার আঁচ কমিয়ে নাড়তে থাকুন।

পানি শুকিয়ে আসলে বাদাম, কিশমিশ, তেজপাতা, দারুচিনি দিয়ে আরো মিনিট দশেক মৃদু জ্বালে দমে রাখুন। সেমাই ঝরঝরে হলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

৮. জর্দা সেমাই :

উপকরণ :

কুলসন সেমাই -১ প্যাকেট,

চিনি-২ কাপ,

নারকেল কুড়ানো-১ কাপ,

কিমমিশ-২ টেবিল চামচ,

চীনা বাদাম (ভাজা)-৩ টেবিল চামচ,

দারুচিনি-৩ টুকরো,

তেজপাতা-২টা,

ঘি-৪ টেবিল চামচ,

পানি-২ কাপ,

লবণ-পরিমান মতো

প্রণালি : প্রথমে চুলায় কড়াই বসান। এরপর কড়াইতে ঘি দিয়ে গরম করুন। ঘি সামান্য গরম হলে ঘি দিন। এবার প্যাকেট সেমাইয়ের অর্ধেকটা ঘিয়ে ঢেলে দিয়ে ১০/১৫ মিনিট নাড়ুন যাতে সেমাইটা ঘিয়ে ভাজা হয়। এবার এতে কুড়ানো নারকেল দিয়ে নাড়তে থাকুন। কিছুক্ষণ পর পানি দিয়ে চুলার আঁচ কমিয়ে নাড়তে থাকুন। পানি শুকিয়ে আসলে বাদাম, কিশমিশ, তেজপাতা, দারুচিনি দিয়ে ১০ মিনিট জালে দমে রাখুন। সেমাই ঝরঝরে হয়ে এলে নামিয়ে পরিবেশন করুন।

৯. সেমাই ক্ষীর

উপকরণ:

দুধ ২ লিটার

চিনি ৩/৪ কাপ (এক কাপের চার ভাগের তিন কাপ বা যে যেমন মিষ্টি পছন্দ করে)

এলাচ গুঁড়া সামান্য

ঘি ২ টে চামচ

সেমাই এক/দেড় কাপ

মাওয়া হাফ কাপ

দারচিনি ২ টুকরো

ডানো ক্রিম ১ ক্যান/১ ডিব্বা

কিসমিস, পেস্তা বাদাম, কাঠ/কাজু বাদাম, খেজুর কুচি এক কাপের চার ভাগের তিন কাপ/ভাগ/ কাপ

লবণ ১ চিমটি (ঐচ্ছিক)

কেওড়া/গোলাপ জল হাফ চা চামচ

প্রণালি: প্রথমে দুধ মিডিয়াম আঁচে জ্বাল করে অর্ধেক করে নিন। তারপর ড্রাই ফ্রুটসগুলো একটু ঘিয়ে ভেজে নিন। এবার ঐ প্যানে সেমাইটা হাতে ভেঙে ঘিতে ভেজে মচমচে করে নিন।

এবার সেই অর্ধেক দুধে চিনি দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে দারচিনি, এলাচ গুঁড়া আর সেমাই দিয়ে নাড়ুন। সেমাই হয়ে গেলে মাওয়া ও লবণ দিন। এবার দুধ ঘন হয়ে আসলে ক্রিম আর অর্ধেক ড্রাই ফ্রুটস আর গোলাপ জল দিয়ে নামিয়ে ঠান্ডা হলে উপরে ড্রাই ফ্রুটস আর মাওয়া দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।

সামান্য জাফরান দুধের সাথে ভিজিয়ে সেমাই এ দিলে স্বাদ বেড়ে যায় আরো দ্বিগুন ও গুড় দিয়ে ও করা যাবে।

১০. ফ্রুট সেমাই

উপকরণ:

দুধ দেড় লিটার,

চিকন সেমাই এক প্যাকেট,

চিনি এক কাপ,

পাকা আম কিউব করে কাটা এক কাপ,

লাল আঙুর সাতটি,

আপেল কুচি আধা কাপ,

বেদানা দুই টেবিল চামচ

যেভাবে তৈরি করবেন

প্রথমে দুধ জ্বাল দিয়ে সামান্য ঘন করে নিন। ফোটানো দুধে সেমাই দিয়ে নাড়তে থাকুন। এবার জ্বাল কমিয়ে চিনি দিয়ে নাড়ুন। সেমাই হয়ে গেলে পরিবেশন বাটিতে ঢালুন। ঠাণ্ডা হলে ফ্রিজে সাত থেকে আট ঘণ্টা রাখুন। পরিবেশনের আগে ফল মিশিয়ে পরিবেশন করুন।

১১. ঝুরা সেমাই এর নাড়ু

উপকরণ:

ঝুরা সেমাই ২ কাপ

লবণ১ চিমটি পরিমাণ

খেজুর গুড় ১/২ কাপ

চিনি ১ /২ কাপ

নারকেল মিহি কোরা ১ কাপ

এলাচ গুঁড়া ১ চিমটি

দারচিনি গুঁড়া১ চিমটি

ঘি ২ চা চামচ

গুড়া দুধ ১/২ কাপ

প্রণালী:

প্রথমে সেমাই হাত দিয়ে ভেঙে ছোট করে শুকনা কড়াইতে হালকা আঁচে বাদামী করে ভেজে নিন। ভাজা হয়ে গেলে গুড়, চিনি, এলাচ গুঁড়া, দারচিনি গুঁড়া, লবণ মিশিয়ে কম আঁচে নাড়তে থাকুন।

গুড়, চিনির রসালো ভাব কমে একটু শুকনা ভাব ধরলে নারকেল। গুড়া দুধ দিয়ে নাড়তে থাকুন। এবার ঘি মিশিয়ে নিন। চটচটে একটা ভাব ধরলে চুলা বন্ধ করুন এবং নাড়ু তৈরি করুন। নাড়ু তৈরির সময় হাতে সামান্য ঘি লাগিয়ে নিতে হবে।

টিপসঃ

এই নাড়ু বানানোর সময় হাতে ভালোভাবে চেপে নিতে হবে। হাতে সেমাই কিছুটা লেগে থাকলে ও নাড়ু কিন্তু ঠিকই তৈরি হবে। ধৈর্য্য ধরে কাজটা করতে হবে।

এই নাড়ুটা তৈরি করতে মোটেই পানি দেওয়া যাবে না।

লবণটা কেউ দিতে পারেন নাও দিতে পারেন। তবে মিষ্টি খাবারে সামান্য লবণ তার স্বাদ বাড়িয়ে দেয়।

১২. সেমাই শ্রিখান্দ

উপকরন:

মোল্ড আথবা ছোট বাটি

প্লাসটিকের রেপ

সেমাই ১০০ গ্রাম

কনন্ডেসড মিল্ক ৩ টেবিল চামচ

টক দই ১/২ কাপ

চিনি গুড়ো করা ৩ টেবিল চামচ

এলাচ

জাফ্রান

কাঠ বাদাম ১ টেবিল চামচ

আনার দানা

পেস্তা বাদাম

প্রস্তুত প্রণালি:

মোল্ড আথবা ছোট বাটিতে প্লাসটিকের রেপগুলো সুন্দর করে বসিয়ে নিন।

সেমাই গুলো ভেঙ্গে ছোট টুকরো করে ২ মিনিট ভেজে নেন ভালো করে। যখন সেমাইয়ের কালার পরিবর্তন হয়ে আসবে এবং সুন্দর ঘ্রাণ বের হবে তখন ওইখানে দিয়ে দেন ৩ টেবিল চামচ কনন্ডেসড মিল্ক। হালকা আঁচে ২ মিনিট সেমাই ও কনন্ডেসড মিল্ক মিশিয়ে নিন। যখন সেমাইটা আঠালো হয়ে আসবে নামিয়ে নিন খেয়াল রাখতে হবে সেমাইটা যেন বেশি শক্ত হয়ে না যায়।

তৈরি করা মোল্ডের ভিতর সেমাই গুলো একটু একটু করে বসিয়ে নেন গরম থাকা আবস্থায়। এমন করে বসাতে হবে যেন বাটির মত আকৃতি হয় এবং চারপাশে কোন ফাকা না থাকে। এমন করে সবগুলো সাজিয়ে নিন। সবগুলো সাজানো শেষ হলে ফ্রিজে নরমাল টেম্পারেচারে রেখে দেন।

ফিলিং তৈরি

১/২ কাপ টক দই একটা সাকনিতে রেখে দেন ১০ মিনিট পানি ঝরানোর জন্য। সেকে নেওয়া টক দই একটা বাটিতে নিয়ে নেন, ৩ টেবিল চামচ গুড়ো করা চিনি, একটু এলাচের গুড়ো, এক চিমটি জাফ্রন, ১ টেবিল চামচ কাঠ বাদাম এক সাথে মিশিয়ে নিন। হয়ে গেল ফিলিং তৈরি।

মোল্ড থেকে কাপগুলো বের করে আলতো হাতে প্লাসটিকের রেপগুলো সরিয়ে নিন। এবার তৈরি করা ফিলিংটা কাপে দিয়ে দেন। উপরে কিছু জাফ্রান ও আনার দানা ছড়িয়ে দেন। সুন্দর করে সাজানোর জন্য পেস্তা দানা ব্যবহার করতে পারেন। হয়ে গেল সেমাই শ্রিখান্দ। এখন পরিবেশন কররতে পারেন।

একটা কথা বলে দেই আপনি ইচ্ছা করলে সেমাইয়ের কাপগুলো আর ফিলিং তৈরি কররে ফ্রিজে রেখে দিতে পারেন। অতিথি আসলে সাজিয়ে পরিবেশন করেন।

ইসি/