শবে বরাতে স্পেশাল রুটি ‘কুলচা’ ও ‘ছিটা’

ঢাকা, রবিবার, ২৬ মে ২০১৯ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

শবে বরাতে স্পেশাল রুটি ‘কুলচা’ ও ‘ছিটা’

পরিবর্তন ডেস্ক ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০১৯

শবে বরাতে স্পেশাল রুটি ‘কুলচা’ ও ‘ছিটা’

সেই বহু বছর ধরেই আমরা দেখে আসছি শবে বরাতের খাবার মানেই হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের হালুয়া রুটি ও মাংস। হালুয়ার চাইলেই নানা ধরনের তৈরি করা যায়। কিন্তু রুটির তেমন কোনো ভিন্নতা নেই। তবে এখন কিন্তু রুটিতেও আপনি চাইলে ভিন্নতা আনতে পারেন। এবার শবে বরাতে আপনার রুটির ভিন্নতা আনতে তৈরি করুন ভিন্ন স্বাদের দুইটি রুটি। একটি হচ্ছে ‘ছিটা’ রুটি অন্যটি ‘কুলচা’ আসুন তাহলে দেখে নিন মজার রেসিপি দুটি। 

১. ‘কুলচা’

উপকরণ:

ময়দা ২ কাপ,

দই ৩ টেবিল চামচ,

বেকিং সোডা আধা চা চামচ,

তেল ২ টেবিল চামচ,

লবণ স্বাদ মতো।

পুরের জন্য উপকরণ:

সেদ্ধ আলু এক কাপ,

কাঁচা মরিচ ৪টি,

আদা কুচি ১ চা চামচ,

মরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ,

গরম মসলা ১ চা চামচ,

ধনেপাতা কুচি ১ টেবিল চামচ,

লবণ স্বাদ মতো।


কুলচা তৈরির প্রণালি:

কুলচা বানানোর উপকরণগুলো দিয়ে ভালো করে ময়দা মাখতে হবে। ময়দা মাখা হয়ে গেলে একটি ভিজে কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখুন ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা।

অন্য একটি পাত্রে খোসা ছাড়ানো সেদ্ধ আলু ভালো করে চটকে মাখুন। পুরের বাকি উপকরণগুলোও ভালো করে মিশিয়ে নিয়ে পুর তৈরি করতে হবে।

এবার মেখে রাখা ময়দা থেকে সমান ভাগে পাঁচটা লেচি তৈরি করুন। রুটির ভিতরে আলুর পুর ভরে ভালো করে মুড়ে মুখ বন্ধ করে নিন। এবার ভালো করে আর একবার হাল্কা হাতে বেলে নিন। যেন রুটি ফেটে পুর বেরিয়ে না আসে।

তাওয়া গরম হয়ে গেলে একটি একটি করে কুলচা দিন। যতক্ষণ না হাল্কা খয়েরি রং ধরছে সেঁকতে থাকুন। একদিক হয়ে গেলে কুলচার দিকটা পাল্টে আবার ভালো করে সেঁকে নিন। একইভাবে বাকি কুলচাগুলো বানিয়ে নিন। এবার পরিবেশন করুন পছন্দ মতো সস, চাটনি, সালাদ, কাবাব বা তরকারির সঙ্গে।


কিছু টিপস:

আপনি চাইলে একই নিয়মে পনির দিয়ে ‘পনির কুলচা’ তৈরি করতে পারেন।

আলুর বদলে চাইলে ফুলকপি, গাজর বা বিভিন্ন শাক ব্যবহার করতে পারেন।

২. ছিটা রুটি

উপকরণ:

চালের গুড়া ২ কাপ (এতে ১২-১৫টি রুটি হতে পারে)

পানি ৩ কাপ

১টা ডিমের অর্ধেকটা ফেটানো

লবণ পরিমানমতো

তেল পরিমানমতো


প্রণালি:

বাটিতে পরিমাণমতো লবণ এবং ৩ কাপ পানি দিন। ভালো করে মেশান। লবণ-পানি মিশে গেলে ২ কাপ চালের গুড়া দিয়ে মিশিয়ে নিন ভালো করে। পাতলা মিশ্রণ তৈরি হবে।

মিশ্রণটির সঙ্গে ১টি ডিমের অর্ধেকটা ভালো করে মিশিয়ে নিন। এই অবস্থায় মিশ্রণটি ১৫ মিনিট রেখে দিন।

১৫ মিনিট পর একটি কড়াইতে তেলের প্রলেপ দিয়ে মিশ্রণটির মধ্যে হাত চুবিয়ে কড়াইতে ছিটা দিন অর্থাৎ আঙ্গুলগুলো প্রলেপ দেয়া তেলের উপর ঝেড়ে নিন। এভাবে প্রতি রুটির জন্য ৩/৪ বার মিশ্রণটিতে হাত চুবিয়ে পরপর কড়াইতে ছিটা দিন। চুলার আঁচ কমানো থাকবে।

রুটি যেন পুড়ে না যায় খেয়াল রাখবেন। রুটি হয়ে গেলে আলতো করে রুটির কোনায় খোঁচা দিয়ে তুলে নিন যেন ভেঙ্গে না যায়। এমনিতেই রুটি খুব পাতলা হবে তাই ভেঙে গেলে ভালো দেখায় না।

এভাবে প্রতিবারে তেলের হালকা প্রলেপ দিয়ে ৩/৪ বার ছিটা দিয়ে পাতলা করে রুটি তৈরি করুন। রুটিগুলো যেন গরম থাকে এমন কিছুতে তুলে রাখুন পরিবেশনের আগে পর্যন্ত।

মিশ্রণটি জমে যাওয়ার মতো হলে আবার ভালোভাবে মিশিয়ে নিন, প্রয়োজন হলে আরেকটু পানি (সামান্য) মিশিয়ে ভালো করে নেড়ে নিতে পারেন, তরল হয়ে উঠবে।

ছিটা রুটি গরম গরম ভূনা মাংস বা মাংসের ঝোলের সঙ্গে পরিবেশন করুন। পছন্দ অনুযায়ী সালাদ থাকতে পারে। আর শীতের সকালে একটু ঘন করে জ্বাল দেয়া খেজুরের রসের সঙ্গে পরিবেশন করতে পারেন। এই রসে একটু নারকেল কুরানো দিতে পারেন।

ইসি/