নিরামিষ ও রস ভোজে অষ্টমীর থালা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

নিরামিষ ও রস ভোজে অষ্টমীর থালা

পরিবর্তন ডেস্ক ২:২৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৮

নিরামিষ ও রস ভোজে অষ্টমীর থালা

পুজো মানেই জমিয়ে খাওয়া। পাঁচদিন ধরে চলবে মহাভোজ। তবে অষ্টমীতে নিরামিষ নিয়ে নাক সিঁটকোয় অনেকেই। সবাই চায় খাবারে একটু ভিন্নতা আসুক। আবহমান কাল ধরে মা-জেঠিমা-দিদিমা-ঠাকুমার হাতের জাদুকেই আর আমারা একটু ভিন্নভাবে আপনার জন্য তুলে ধরবো। আসুন তাহলে আজ অষ্টমীর স্পেশাল থালা। যেখানে থাকবে নিরামিষ ও মিষ্টি রসের ভোজ। আসুন তাহলে দেখে নেই রেসিপিগুলো।

১. বাহারি খিচুড়ি

উপকরণ:
মুগ ডাল ২ কাপ
আতপ চাল ২ কাপ
আলু ৪-৫ টি (চার টুকরো করা)
ফুলকপি ১টি বড় (বড় টুকরো করা)
ফ্রোজেন মটরশুঁটি ২৫০ গ্রাম
টমেটো ৪টা টুকরো করা
কাঁচা মরিচ ৭-৮ টি

ফোড়নের জন্যে
দারচিনি ৪-৫ টি
লবঙ্গ
ছোট এলাচ
আস্ত জিরা ১ চা চামচ
শুকনো মরিচ ৩টি
তেজপাতা ৩-৪টি
আদাবাটা ২-৩ টেবিল চামচ
হলুদ আন্দাজমতো
জিরা গুঁড়া ৩ চা চামচ
লবণ স্বাদ অনুযায়ী
চিনি ১ টেবিল চামচ
তেল ৫ টেবিল চামচ
ঘি ১-২ টেবিল চামচ
গরম মশলার গুঁড়া ১ টেবিল চামচ
গরম পানি ৯-১০ কাপ

প্রণালি:
• প্যান বা কড়াই গ্যাসে বসিয়ে মুগের ডাল বাদামি করে ভেজে নিন, খেয়াল রাখবেন, পুড়ে না যায়।
• এবার ডাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। চালও ধুয়ে রাখুন।
• এবার বড় একটি হাঁড়ি গ্যাসে বসিয়ে তেল গরম করতে দিন।
• ভালো করে গরম হলে আঁচ কমিয়ে আলুর টুকরোগুলো ভেজে নিন নরম হওয়া অবধি।
• এরপর ফুলকপির টুকরোগুলো ভাজুন সামান্য বাদামী করে।
• এবার গরম তেলে ফোড়নের উপকরণ দিয়ে দিন। ফোড়নের গন্ধ বের হলেই হলুদ, জিরা গুঁড়া ও আদা বাটা দিয়ে নাড়ুন, আঁচ কমিয়ে। সামান্য জলের ছিটে দিন।
• ভাজা মুগের ডাল মিশিয়ে আরও কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করুন।
• খানিকটা পরে ৬ কাপ মতন গরম পানি দিন, আর আঁচও বাড়িয়ে দিন।
• ফুটতে শুরু করলে হিট সামান্য কমিয়ে ডেকচি ঢাকা দিয়ে দিন।
• ৪-৫ মিনিট পরে ধুয়ে রাখা চাল ছেড়ে দিন ও প্রয়োজনে আরও খানিকটা গরম পানি দিন।
• আন্দাজমতো লবণ দিয়ে ডেকচি আবার ঢাকা দিয়ে দিন। ৪-৫ মিনিট পর ঢাকা খুলে দেখুন চাল ডাল অর্ধেক সেদ্ধ হয়েছে কি না।
• এবার ভাজা আলু ও ফুলকপি দিয়ে দিন ও মাঝে মাঝে ঢাকা খুলে নাড়াচাড়া করুন। খেয়াল রাখবেন তলায় লেগে না যায়।
• এবার টমেটো ও ফ্রোজেন কড়াইশুঁটি দিয়ে দিন ও প্রয়োজনে একটু গরম পানি ।
• যখন দেখবেন চাল-ডাল-আনাজ সব সেদ্ধ হয়ে মাখো মাখো হয়েছে তখন কাঁচা মরিচ দিয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিন।
• এবার একটি ছোট প্যানে ঘি গরম করতে দিন।
• গরম হলে গরম মশলাগুঁড়া দিয়ে নেড়ে নিয়ে খিচুড়িতে মিশিয়ে দিন। ভোগের খিচুড়ি তৈরি।

২. মনোহরণ আলুর দম
উপকরণ:
আলু ৫০০ গ্রাম
সয়াবিন তেল ১ টেবিল-চামচ
তেজপাতা ১টা
চিনি ১ চা-চামচ
লবণ স্বাদ মতো
হলুদ এক চিমটি
আমচুর আধ চা-চামচ
গাওয়া ঘি আধ চা-চামচ

প্রণালি:
মশলার জন্য ৪টি শুকনো মরিচ, ১ টেবিল-চামচ করে আস্ত সাদা জিরা, আস্ত ধনিয়া, পাঁচ গ্রাম গরম মশলা (দারচিনি, লবঙ্গ, ছোট এলাচ)। আগেভাগে শুকনো তাওয়ায় ভেজে গুঁড়া করে রাখতে হবে।

৩. নিরামিষ বিরিয়ানি
উপকরণ:
বাসমতি চাল
মাঝারি সাইজের আলু
পনির (বড় বড় টুকরো করে কাটা)
কাজুবাদাম
সাদা-জিরা
সাদা গোল-মরিচ
জয়ত্রী
জায়ফল গুঁড়া
কাশ্মিরী মরিচ গুঁড়া
স্বাদমতো লবণ
কেওড়াজল
গোলাপজল ,
মিঠা আতর ( আমাদের দেশে এটা সহজে পাওয়া যায় না। আপনি এর বদলে জাফরন ব্যবহার করতে পারেন)
তেল ও ঘি পরিমাণ মতো

প্রণালি:
• সামান্য দুধে জাফরান ভিজিয়ে তার সঙ্গে মেশাতে হবে কেওড়াজল, গোলাপজল, মিঠা আতর।
• বাসমতি চাল ধুয়ে, পানি ঝরিয়ে নিতে হবে।
• তেলে আস্ত গরম মশলা ফোড়ন দিন।
• পনিরের টুকরোগুলো হালকা আঁচে সোনালি রং আসা পর্যন্ত ভেজে নিন।
• আলু সেদ্ধ করে দু’টুকরো করে কেটে হালকা আঁচে ভেজে নিন।
• এ বার তেলে সাদা-জিরা, সাদা গোল-মরিচ, জয়ত্রী, জায়ফল গুঁড়া, সামান্য কাশ্মিরী মরিচ গুঁড়া
দিয়ে তার সঙ্গে চাল দিয়ে ভালো করে নাড়াচাড়া করতে হবে।
• পরিমাণমতো লবণ দিতে হবে।
• এবার যত পরিমাণ চাল, তার দ্বিগুণ পরিমাণ পানি দিয়ে ফুটতে দিতে হবে।
• ফুটে চাল ও পানি সমান হলে আলু ও পনির মেশাতে হবে।
• এরপর জাফরানের মিশ্রণ ঢেলে দিন।
• ঘি ও কাজুবাদাম ছড়িয়ে গ্যাসের আঁচ নিভিয়ে দিন।
• পাত্রের মুখ ভালো করে বন্ধ করে ঢাকার উপর ভারী কিছু দিয়ে রেখে দিন।

৪. জাফরানি পোলাও
উপকরণ
গোবিন্দভোগ চাল: ১২ কেজি
চিনি: ২ কেজি ৫০০ গ্রাম
ঘি: ২ কেজি ৫০০ গ্রাম
সাদা গোল-মরিচ: ২০ গ্রাম
সাদা-জিরা : ১০ গ্রাম
ছোট এলাচ: ৫০ গ্রাম
দারচিনি: ৫০ গ্রাম
লবঙ্গ: ৫০ গ্রাম
জয়ত্রী: ১০ গ্রাম
জাফরন : পরিমাণ মতো
লবণ : ৫০০ গ্রাম
কাজুবাদাম: ১ কেজি ২৫০ গ্রাম
কিসমিস: ১ কেজি ২৫০ গ্রাম
তেজপাতা: ১০ গ্রাম
গোলাপপানি : ছোট এক বোতল
পানি : ১৮ লিটার
কলাপাতা: ৮টি
টিকে: ২ কেজি

প্রণালি:
• গোবিন্দভোগ চাল ধুয়ে জাফরনের রঙে ভিজিয়ে রাখতে হবে ১ ঘণ্টা ।
• ভেজানো চাল মার্কিন কাপড়ে ছেঁকে নিতে হবে।
• ডেকচিতে ১ কেজি ২৫০ গ্রাম ঘি দিয়ে অর্ধেক গোটা গরম মশলা এবং তেজপাতা, সা জিরা, কাজু, কিসমিস দিয়ে নাড়তে হবে।
• তারপরে পরিমাণ মতো পানি, চিনি ও লবণ দিয়ে ফোটাতে হবে।
• পরে কেশরী রঙে ভেজানো চাল ফোটানো পানিতে দিতে হবে।
• চাল তিন ভাগ ফুটে যাওয়ার পরে সা মরিচগুঁড়া, অবশিষ্ট ১ কেজি ২৫০ গ্রাম ঘি, জৈত্রি ও জায়ফল গুঁড়া এবং গোলাপজল
মিশিয়ে কলাপাতা ঢাকা দিয়ে ডেকচির ঢাকনা বন্ধ করে, তার ওপর টিকে জ্বালিয়ে ৩০ মিনিট দম দিতে হবে।
• গরম গরম পরিবেশন করুন।

গোলাপি পায়েস
উপকরণ
দুধ: ২ লিটার
বাসমতি চাল: ১৫০ থেকে ২০০ গ্রাম
চিনি: ৭৫০ গ্রাম
তেজপাতা ৩/৪টি
খেজুরের পাটালি গুড়: সামান্য
কিসমিস
কাজু
আমন্ড
এলাচ: আন্দাজমতো
গোলাপের পাপড়ি

প্রণালি:

• একটি পাত্রে চাল ভিজিয়ে রাখুন।
• কিসমিস, কাজু, আমন্ডও ভিজিয়ে রাখতে হবে।
• কম আঁচে দুধ অনেকক্ষণ ধরে জাল দিয়ে বেশ ঘন করতে হবে।
• দুধ ঘন হয়ে এলে তাতে চাল মিশিয়ে দিন।
• চাল যখন সেদ্ধ হয়ে আসবে, তখন চিনি দিতে হবে ও ভাল করে নাড়ুন।
• ঘন হয় আসলে তেজপাতা, কিশমিশ, কাজু, আমন্ড, এলাচ সব দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। নামিয়ে গোলাপের পাপড়ি ছড়িয়ে দিন।
• যখন গরম ভাবটা কমে আসবে, তখন ভালো করে গুঁড়া করে নেওয়া খেজুর পাটালি মিশিয়ে দিন।

টিপস
• গরম অবস্থাতে গুড় দিলে দুধ কেটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
• আঁচ সব সময় কম থাকবে।

ইসি/