বারোমাস সবজি চাষে স্বাবলম্বী

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫

বারোমাস সবজি চাষে স্বাবলম্বী

পঞ্চগড় প্রতিনিধি ১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৮

বারোমাস সবজি চাষে স্বাবলম্বী

উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দর্জিপাড়া ও সারিয়াল জোত গ্রামের প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষক শুধুমাত্র শাকসবজি চাষ করে বদলে ফেলেছেন জীবন। বছরের বারোমাসেই তারা সবজি চাষ করে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা। জেলার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি তাদের উৎপাদিত সবজি এখন দেশের নানা প্রান্তে রপ্তানিও হচ্ছে।

উপজেলা শহর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে পাশাপাশি দুটি গ্রাম। দর্জিপাড়া আর সারিয়াল জোত। বারোমাস সবজি আবাদ হয় বলে এই দুটি গ্রামকে সবজি গ্রামও বলে থাকেন অনেকে। এই দুই গ্রামের কৃষকেরা বারোমাস সবজি চাষাবাদ করেন। বর্তমানে এই দুটি গ্রামের অধিকাংশ জমি ভরে উঠেছে শীতকালীন শাক সবজির আবাদে।

কৃষকেরা জানিয়েছেন, বারোমাস সবজি আবাদ করেন তারা। অন্য আবাদের থেকে লাভজনক আর চাহিদা থাকায় তারা এসব আবাদ করছেন বেশ কবছর ধরেই। এই দুই গ্রামের জমি সবজি আবাদের উপযোগী। সবজি চাষিরা একই জমিতে নানা রকমের আবাদ করে থাকেন। লাফা শাক, লালশাক, কচু শাক, ধনেপাতা, আলু, সীম বেগুন, ফুলকপি, বাঁধা কপি, বরবটি, লাউ, মিষ্টি কুমড়ো, টমেটো, শশাসহ নানা ধরনের শাক-সবজি আবাদ করেন তারা। তাদের উৎপাদিত শাক-সবজি প্রথমে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন তারা।

এ ছাড়াও দেশের নানা প্রান্তের সবজি ব্যবসায়ীরা এসে ক্ষেত থেকে সবজি কিনে নিয়ে যান। এসব সবজি ক্ষেতে এলাকার কয়েকশ শ্রমিকেরও কর্মসংস্থান হয়েছে। আর এসব কারণে দর্জিপাড়া সারিয়লজোতের চাষিরা এখন স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।

সারিয়ালজোত গ্রামের সবজি চাষি সালাউদ্দিন, মো. আব্দুল হাকিম পরিবর্তন ডটকমকে জানান, তারা মাত্র ৩-৪ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ  করে ভালোভাবে জীবনযাপন করছেন এবং তাদের ছেলেমেয়েকে কলেজ ও বিদ্যালয়ে ভালোভাবে লেখাপড়া করাতে পারছেন।

দর্জিপাড়া গ্রামের বারোমাস সবজি চাষি রহমান আলী পরিবতন ডটকমকে বলেন, আগে খুব অভাবের মধ্যে দিন কাটতে হতো। এখন সবজি চাষ করে অভাব বলতে কিছুই নেই আল্লাহর রহমতে সুন্দরভাবে দিন যাচ্ছে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, এই দুই গ্রামের সবজি চাষিদের বছরের বিভিন্ন সময়ে নানা প্রশিক্ষণ দেয়া হয়ে থকে। শাকসবজি চাষের উপর প্রশিক্ষণও দেয়া হয়। সবজি চাষিরা সবজি চাষ করে তাদের জীবন যাত্রার মান বদলে দিয়েছেন। সবজি চাষিদের যেকোন সহায়তার জন্য কৃষি বিভাগ সর্বদা পাশে থাকবে। অনেক চাষিই সরকারের এই দপ্তরের সহযোগিতা নিয়ে শাক-সবজির প্রদর্শনী খামার করেছেন। 

কেএ/বিএইচ/