কাউনিয়ায় তিস্তার বালুচরে ফসলের নতুন দিগন্ত স্কোয়াশ চাষ

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ | ৫ শ্রাবণ ১৪২৫

কাউনিয়ায় তিস্তার বালুচরে ফসলের নতুন দিগন্ত স্কোয়াশ চাষ

রংপুর অফিস ৯:৩৯ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৮

print
কাউনিয়ায় তিস্তার বালুচরে ফসলের নতুন দিগন্ত স্কোয়াশ চাষ

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের সহায়তায় প্রথমবারের মতো রংপুরের কাউনিয়ার তিস্তা নদীর ধুঁ-ধুঁ বালুচরে জমি খুঁড়ে গর্ত করে সেখানে চাষ করা হচ্ছে থাইল্যান্ডের স্কোয়াশ। এ যেন বালুচরে নতুন দিগন্ত। স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী ও কৃষিতে লাভজনক থাইল্যান্ডের স্কোয়াশ উপজেলার চর রাজীবে ১ হাজার ৬শ’টি গর্তে চাষ শুরু করা হয়েছে। যা তাক লাগিয়ে দিয়েছে চরাঞ্চলের হাজারও কৃষককে। তারা জানায়, আগামী মৌসুমে এর ফলন আরও অনেক অংশে বাড়বে।

কাউনিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, তাদের সহযোগিতায় উপজেলায় প্রথমবারের মতো ১ হাজার ৬শ’ টি গর্তে থাই-জাতের এ স্কোয়াশ চাষ শুরু করা হয়েছে। কাউনিয়া উপজেলার চর রাজীব এলাকায় ৪০ জন কৃষক কৃষাণী স্কোয়াশ চাষ শুরু করেছেন।

কৃষক শফিকুল ইসলাম, মিন্টু মিয়া, মালা রানী, নিরঞ্জন চন্দ্র জানান, বাংলাদেশের শশা জাতীয় এ সবজির স্বাদ অন্যান্য সবজির স্বাদের চেয়ে দ্বিগুণ এবং এর ভিটামিন গুণও ভালো। আর মাত্র ১০/১৫ দিন পর আমরা স্কোয়াশ বাজারজাত করতে পারব। স্কোয়াশের বাজার মূলত ঢাকায়, সেখানে প্রতিটি স্কোয়াশ বিক্রি হয় ৫০ টাকা থেকে ৬০ টাকায়।
তারা জানায়, ইতোমধ্যেই ঢাকার পার্টি তাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। আর স্থানীয় বাজারে দাম একটু কম হলেও এর চাহিদা বেশি। তবে তারা জানান, স্কোয়াশ চাষে ফলনও বেশি হয় এবং এর রোগ বালাই নেই বললেই চলে।
কৃষকরা জানান, তাদের বালূচরে পতিত জমিতে স্কোয়াশ চাষ করতে পেরে এবং সেখান থেকে অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজে পাওয়ায় তারা বেজায় খুশি।

কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শামিমুর রহমান জানান, চলতি বছরের নভেম্বর মাসে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় কাউনিয়ার চর রাজীবে ৪০ জন কৃষক-কৃষাণীর প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে ২ হাজার ৯শ’ গর্তে স্কোয়াশ চাষ শুরু করা হয়। থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করা বীজ ও প্রয়োজনীয় সার এবং গোবর সার দিয়ে চাষ শুরু করা হয়। আর গর্তে পলিথিন বিছিয়ে পানি সংরক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় সেচ দেয়া হয়। রোগবালাই নেই, তাই কীটনাশক ব্যবহারও করতে হয় না। সে জন্য স্কোয়াশ স্বাস্থ্যসম্মত একটি প্রটিন জাতীয় খাবার। তবে হাইব্রীড জাতের স্কোয়াশের বীজ এখনও দেশে উৎপাদন করা সম্ভব না হওয়ায় স্কোয়াশ চাষ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে । চলতি মৌসুমে স্কোয়াশ চাষ সীমিত হলেও আগামী মৌসুমে এর আবাদ অনেক বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এসভি/এইচকে/আরপি

 
.



আলোচিত সংবাদ