ঠাকুরগাঁওয়ে লবণ নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড!

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে লবণ নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড!

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   ২:৩৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

ঠাকুরগাঁওয়ে লবণ নিয়ে লঙ্কাকাণ্ড!

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে লবণ কেনার প্রতিযোগিতা। লবণ কেনাকে কেন্দ্র করে ভোরবেলা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত লবণ বিক্রির দোকান গুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত লবণ কিনে বাড়ি ফিরছেন।

লবণের দাম বাড়বে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় হঠাৎ করেই মানুষের হৈ-হুল্লোর পুরো এলাকায়। গ্রামের মানুষগুলো ছুটে আসা শুরু করে লবণ কেনার জন্য। এমন সুযোগ নিয়ে ব্যবসায়ীরাও পেঁয়াজের মতো লবণের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ টাকা কেজি লবণ ঘন্টার ব্যবধানে দাম বেড়ে দাড়ায় ৮০ টাকায়।

বালিয়াডাঙ্গী বাজারের ফল ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম জানান, গুজবকে কাজে লাগিয়ে সকাল থেকেই লবণ ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধি শুরু করে। এলাকার সাধারণ মানুষ গুজবে বিশ্বাস করে ৩ কেজি, ৫ কেজি এমনকি ১০ কেজি পর্যন্ত লবণ কিনতে দেখা গেছে। অনেক অসাধু ব্যবসায়ী লবণ মজুদের অজুহাত দেখিয়ে চড়া মূল্যে বিক্রিও করছেন।

ষাট বছর বয়সী মঞ্জুরী বেওয়া ৩ কেজি লবণ কিনেছেন বিশ টাকা কেজিতে। যে লবণ গতকাল পাওয়া যাচ্ছিল ১০ টাকা কেজিতে। তিনি লোকমুখে শুনেছেন লবণের দাম ৮০ টাকা  প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে।

লবণ ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম জানান, সকাল থেকে লবণের চাহিদা ব্যাপক। গত ৬ মাসেও এমন লবণ বিক্রি হয়নি যা আজকে বিক্রি করেছি। আমি প্যাকেটের মূল্য অনুযায়ী গ্রাহকদের নিকট হতে লবণের দাম নিচ্ছি। বাকিদের বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে লবণ সংকট হবে এমন একটা গুজব ছড়ানোর ফলে এই প্রভাব পড়েছে বলে জানান তিনি।

চৌরঙ্গী বাজারের পান ব্যবসায়ী দবিরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই লবণ চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। এখন লবণ মজুদ থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ী লবণ সংকটের অজুহাত দাম বৃদ্ধি করছেন। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকেও অবগত করেছেন বলে জানান তিনি।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুল আলম সুমন বলেন, ইতিমধ্যে বাজারে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বাজারে পেঁয়াজের মত লবণের দাম বেড়েছে এমন গুজব ছড়ালে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসাব্বেরুল হক বলেন, বিভিন্ন মানুষ সকাল থেকে মুঠোফোনে অনেক অভিযোগ করছেন লবণের বিষয়ে। এটি একটি নিছক গুজব। গুজবে কান না দিয়ে ন্যার্যমূল্যে লবণ কেনার পাশাপাশি কোন ব্যবসায়ী লবনেণের অতিরিক্ত মূল্য দাবি করলে তার কাছ থেকে রশিদ নিয়ে লবণ কেনার জন্য বলেন তিনি। সেই রশিদ থানায় দেখালে ওই লবণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে লবণের এই লঙ্কাকাণ্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। বিভিন্ন জনের বিভিন্ন স্ট্যাটাস এবং মন্তব্যে ভরে যাচ্ছে ফেসবুকের নিউজফিড।

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কামরুজ্জামান সেলিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকের মাধ্যমে সতর্ক করে জানিয়েছেন, লবণসহ সকল নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। কেউ গুজব ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এইচআর/এমকে

 

রংপুর: আরও পড়ুন

আরও