পরীক্ষার্থী অসুস্থ, সম্মানী না পেয়ে চিকিৎসক পাঠালেন অ্যাসিস্টেন্টকে

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

পরীক্ষার্থী অসুস্থ, সম্মানী না পেয়ে চিকিৎসক পাঠালেন অ্যাসিস্টেন্টকে

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ৪:৩৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৭, ২০১৯

পরীক্ষার্থী অসুস্থ, সম্মানী না পেয়ে চিকিৎসক পাঠালেন অ্যাসিস্টেন্টকে

দিনাজপুরের বিরামপুর পৌর শহরের চাঁদপুর মাদ্রাসায় জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা কেন্দ্রে ফাহিমা খাতুন নামে এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে ওই কেন্দ্রের নিয়োগকৃত (অনকল) ডাক্তার না গিয়ে ছাত্রীর চিকিৎসার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রে আসলেন হাসপাতালের হারবাল অ্যাসিস্টেন্ট আতাউর রহমান।

ডাক্তার না এসে হারবাল অ্যাসিস্টেন্ট আসায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের মাঝে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।

চাঁদপুর মাদ্রাসাকেন্দ্র সচিব অধ্যক্ষ আ ছ ম হুমায়ুন কবীর জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে পরীক্ষা চলছিল।

তিনি জানান, বেলা ১১টার দিকে কানিকাটাল দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ছাত্রী ফাহিমা খাতুন মাথা ঘুরে পড়ে যায়। এসময় পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়োগকৃত (অনকল) হাসপাতালের ডাক্তার মশিউর রহমানকে ফোনে ডাকা হয়।

তখন মশিউর রহমান পরীক্ষা কেন্দ্রে আসতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, আপনি অনারিয়াম দেন না, তাই আপনার কেন্দ্রে যাওয়া যাবে না। অসুস্থ ছাত্রীকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

পরীক্ষা চলাকালীন ছাত্রীকে হাসপাতালে নেয়ার খবর শুনে কেন্দ্র সচিব ও উপস্থিত শিক্ষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। তারা তড়িঘড়ি করে মাদ্রাসার পাশের এক স্থানীয় চিকিৎসককে ডেকে এনে ছাত্রীর চিকিৎসা করালে কিছুক্ষণ পর ছাত্রী সুস্থ হয়ে পুনরায় পরীক্ষা দিতে বসে।

তিনি আরো জানান, অসুস্থ ছাত্রীটি সুস্থ হওয়ার অনেক পরে পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত হাসপাতালের সেই চিকিৎসক মশিউর রহমান কেন্দ্রে না গিয়ে হাসপাতালের হারবাল অ্যাসিস্টেন্ট আতাউর রহমানকে ওই ছাত্রীর  চিকিৎসা দিতে পাঠান।

জানতে চাইলে চিকিৎসক মশিউর রহমান বলেন, বিগত পরীক্ষাগুলোতে দায়িত্বে থাকার পরও কেন্দ্র সচিব আমাকে কোনো সম্মানি দেন নাই। একারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে না গিয়ে হাসপাতালের হারবাল অ্যাসিস্টেন্ট আতাউর রহমানকে চিকিৎসা দিতে পাঠানো হয়েছে।

ওই পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা নূর হোসেন মিয়া জানান, ‘ডাক্তারের এই আচরণে আমি হতভম্ব হয়েছি। আমার মতে ডাক্তার কাজটি ঠিক করেন নাই।’

বিরামপুর হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম জানান, ‘সম্মানি না পাওয়ার কারণে অসুস্থ ছাত্রীকে চিকিৎসা দিতে না যাওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। আমি এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান জানান, ‘পরীক্ষা কেন্দ্রে ছাত্রীকে চিকিৎসা দিতে না যাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এইচআর

 

রংপুর: আরও পড়ুন

আরও