‘শেখের বেটি মোর খুব উপকার করি দিল’

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

‘শেখের বেটি মোর খুব উপকার করি দিল’

নুর আলম, নীলফামারী ৭:১৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৬, ২০১৯

‘শেখের বেটি মোর খুব উপকার করি দিল’

‘খুব কষ্ট হইছিলো। খড়ের একটা ঘরোত থাকিছোনো। এইবার পাকার হয়ছে, এ্যালা ভালো করি নিন পারিব পারমো।’ কথাগুলো বলছিলেন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের কিসামতডাঙ্গী এলাকার গৃহহীন ও হতদরিদ্র ওবায়দুল ইসলাম। বর্তমানে ভিক্ষা করে দিন চলে তার।

ওবায়দুল বলেন, আমি দীর্ঘদিন থেকে আওয়ামীলীগ করি। এলাকার সবাই জানে। আওয়ামীলীগ বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় দিনাজপুরে নেত্রীর সমাবেশে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার শিকার হই। সে সময় একটি পা আমার নষ্ট হয়ে যায়। আর ভালো হয়নি। সেই থেকে কষ্ট করে দিন চলছে। সরকারিভাবে ঘরটি পেয়ে তিনি খুবই উৎফুল্ল।এই খুশিতে আত্মহারা হয়ে তিনি বললেন, ‘শেখের বেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোর খুব উপকার করি দিল।’

শুধু ওবায়দুল নন জেলার ২১২ জন হতদরিদ্র মানুষ পেয়েছেন দূর্যোগ সহনীয় বাসঘর।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসুচীর আওতায় ইতোমধ্যে এসব ঘর নির্মাণ কাজ শেষের পথে।

হতদরিদ্র সুবিধাভোগী ২১২ জনের মধ্যে ডোমারে ৩২জন, ডিমলায় ৩৬, নীলফামারী সদরে ৩৮, জলঢাকায় ৪৪, কিশোরগঞ্জে ৩২ এবং সৈয়দপুরে ৩০জন রয়েছেন।

জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন দফতর সুত্র জানায়,  দুই লাখ ৫৮ হাজার টাকা ব্যয়ে দু’কক্ষ বিশিষ্ট বাসঘর, রান্না ঘর এবং স্যানিটারী ল্যাট্রিন করে দেয়া হচ্ছে প্রত্যেককে। উন্নত মানের গাঢ় নীল রঙ এর ঢেউটিন ব্যবহার করা হচ্ছে তাতে।

এছাড়াও চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে দুই লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা ব্যয়ে ২৫৫ জনকে অনুরুপ ঘর প্রদান করা হচ্ছে একই প্রকল্পের আওতায়। এর মধ্যে ডোমারে ৩৮ জন, ডিমলায় ৪৩ জন, নীলফামারী সদরে ৪৬ জন, জলঢাকায় ৫৪ জন, কিশোরগঞ্জে ৩৮ জন এবং সৈয়দপুরে ৩৬ জন রয়েছে।

ইতোমধ্যে নতুনদের তালিকা যাচাই বাছাই সম্পন্ন করেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি)।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সুত্র জানায়, ইউনিয়ন থেকে চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের তালিকা প্রাপ্তির পর যাচাই বাছাই শেষে পিআইসি চুড়ান্ত তালিকা নির্বাচন সম্পন্ন করে। সুবিধাভোগী ব্যক্তির ঘর নির্মাণে স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্যকে সভাপতি করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য আকতারা বেগম জানান, যে ব্যক্তির ঘর তৈরি হচ্ছে তিনি কখনো ভাবেননি এরকম ঘর পাবেন।  তিনি বলেন, বিশেষ করে কাজের মনিটরিং করছেন উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, পিআইও এমননি  ইউনিয়ন চেয়ারম্যানও।

সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোখছেদুল মোমিন জানান, যেসব ব্যক্তি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ এই সুবিধা পাচ্ছেন তা সর্বোচ্চ ভাবে দেখভাল করছি আমরা। সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সরেজমিনে পরিদর্শন এবং সত্যতা নিরুপণ করা হয়েছে। যাতে প্রকৃত বঞ্চিত মানুষরা উপকৃত হন।

সম্প্রতি চলমান এসব ঘর নির্মাণ কাজ পরিদর্শণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী। সরেজমিনে গিয়ে কাজের মান, সুবিধাভোগী এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন তিনি।

জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা সৈয়দ আবুল হায়াত (এস এ হায়াত) জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদান, টিআর-কাবিটা কর্মসুচীর আওতায় দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়। কমিটিতে সংসদ সদস্য প্রধান উপদেষ্টা, উপজেলা চেয়ারম্যান উপদেষ্টা এবং ইউএনও সভাপতি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার (পিআইও) সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প সম্পন্নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। কোথাও কোন অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তাৎক্ষনিক ভাবে। 

তিনি বলেন, হতদরিদ্র যেসব ব্যক্তি এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী হয়েছেন তারা কখনো এ রকম ঘর তৈরির ক্ষমতা ছিলনা। চলতি অর্থ বছরের আওতায় যেসব ঘর তৈরি করা হবে সেগুলো আরো ভালো মানের হবে বলেও জানান তারা।

এনএ/এমকে

 

রংপুর: আরও পড়ুন

আরও