জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ: দিনাজপুরে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ: দিনাজপুরে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

দিনাজপুর প্রতিনিধি ৫:৪২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৬, ২০১৯

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ: দিনাজপুরে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে দিনাজপুরে ক্ষমতাসীন দলের দুই নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তারা হলেন- দিনাজপুর কোতয়ালী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইমাম আবু জাফর রজ্জব।

বুধবার সকাল ১১টায় দুদক দিনাজপুর জেলা সমন্বিত কার্যালয়ে প্রথমে হাজির হন বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন। পরে সাড়ে ১১টার দিকে উপস্থিত হন আবু ইমাম। দুদকের দুই ঘন্টার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তারা দুদক কার্যালয় থেকে বের হয়ে আসেন।

দুদক জানিয়েছে, জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ ও বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধানের জন্য তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

আগামী ১১ নভেম্বর দিনাজপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক আখতারুজ্জামান জামান ও দিনাজপুর পৌরসভার প্যানেল মেয়র আবু তৈয়ব আলী দুলালকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এছাড়া জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ ও অনুসন্ধানের তালিকায় ৬ পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছেন।

 জানা যায়, জেলা উপজেলা পর্যায়ে দিনাজপুর সদরে ৪ জন রাজনীতিবিদ ও ৬ পুলিশ কর্মকর্তার  সম্পদ ও বিভিন্ন অভিযোগ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দিনাজপুর দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়।

মোট ১০ জনের মধ্যে ৪ জন রাজনীবিদকে তলবের নোটিশ দেয়া হয়। যার মধ্যে দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হল এবং আগামী ১১ নভেম্বর বাকী ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এছাড়াও শিগগিরই বাকী ৬ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও আয় ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করা হবে। ওই ৬ পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন- দিনাজপুর কোতয়ালী থানার সদ্য বদলিকৃত পরিদর্শক (ওসি) রেদওয়ানুর রহিম, দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ জামান আশরাফ, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মনছুর আলী মন্ডল, নীলফামারী সৈয়দপুর জিআরপি পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) রবিউল ইসলাম, গাইবান্ধা সদর থানার পরিদর্শক (ওসি) শাহরিয়ার এবং দিনাজপুর ট্রাফিক পুলিশের সাবেক পরিদর্শক সাদাকাতুল বারী।

দিনাজপুর দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমান জানান, জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদের অভিযোগে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আগামী ১১ নভেম্বর আরও ২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এছাড়া বাকী ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সেটির তদন্ত করছেন সহকারী পরিচালক আসহানুল কবীর পলাশ। তিনি বিদেশে প্রশিক্ষণের জন্য রয়েছেন, দেশে ফিরে কার্যক্রম শুরু করবেন।

এদিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুই রাজনীতিবিদ বলেছেন, সরকারী নিয়মের মধ্যে কর্মকর্তারা যা যা প্রশ্ন করেছেন তার জবাব দেয়া হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাগজপত্রসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে এবং তাদের সাথে কথা বলে সন্তুষ্ট।

দিনাজপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন বলেন, একটি সরকারী সংস্থা দুদক। যে কোন নাগরিককে তাদের কর্মকান্ডে সহযোগিতা করা উচিত। তারা কিছু প্রশ্ন করেছেন এবং আমার যেটি জানা আছে তার উত্তর দিয়েছি। সরকারী নিয়মের মধ্যেই তারা প্রশ্ন করেছেন এবং তাদের আচরণসহ কথাবার্তায় আমি সন্তুষ্ট।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবু ইমাম ইবনে রজব বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা আমাদের ডেকেছেন এবং তাদেরকে সহযোগিতা করা হয়েছে। আমার ব্যক্তিগত ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন এবং কাগজপত্র চেয়েছেন। তাদের সব প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়েছে এবং যেসব কাগজপত্র চেয়েছেন তা দাখিল করা হয়েছে।

এটি/পিএসএস

 

রংপুর: আরও পড়ুন

আরও