নীলফামারীর বাদুড়বাড়ি

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

নীলফামারীর বাদুড়বাড়ি

নুর আলম, নীলফামারী। ৪:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৯, ২০১৯

নীলফামারীর বাদুড়বাড়ি

পাখির মতো উড়লেও আকৃতির কারণে বাদুড়ের কদর নেই।

নানা কল্প-কাহিনীর আতংক সৃষ্টিকারী প্রাণি হিসেবে শত প্রতিকুলতার মধ্যেও নীলফামারীর সৈয়দপুরের এক পল্লীতে নির্ভয়ে আবাসস্থল গড়েছে লাখো বাদুড়।

এতে উপজেলার বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের ভগতপাড়া গ্রামটির প্রকৃতি আর আকাশ যেন অভয়ারণ্য-তে পরিণত হয়েছে।

প্রায় দেড়’শ বছর আগে প্রায় তিন একরের বাঁশঝাড় ও দু’টি প্রাচীন বটগাছে বাদুড়ের বসবাস শুরু হয়। এলাকাকে সৌভাগ্যের প্রতীক মেনে বাদুড়দের ভিন্নভাবে গ্রহণ করায় বংশবৃদ্ধি ঘটেছে এখানে।

বাঙ্গালীপুর ইউনিয়নের ভগতপাড়ায় দেখা যায়, শীত আসার আগেই এ এলাকার  বট-পাখৈর গাছের শাখায় তাদের হুকের মতো পা দু’টো আটকে নিস্তব্ধতায় ঝুলছে। যার ওজন প্রায় ২ থেকে ৩ কেজি প্রত্যেকের।

মাথায় হলুদ রঙ থাকলেও পুরো দেহটি কালো। একটু শব্দ হলেই দল বেঁধে পালক ছাড়া চামড়ায় মোড়ানো ডানা দিয়ে দিয়ে ঘুড়ির মত কিচির-মিচির শব্দে নিরব স্থানে ঝুলে পড়ছে।  রাতের অক্লান্ত শ্রমে যেন তারা শুধু একটু প্রশান্তি ঘুম খুঁজছে।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য অজিত চন্দ্র রায় বলেন, বাদুড় নিরীহ প্রাণি। এরা মাটিতে পড়ে গেলে আর উঠতে পারে না। মাটিতেই মারা যায়। এদের পা নেই। তবে পেটের নিচে দুটো হুক আছে। এই দিয়েই তারা ঝুলে থাকে। খাদ্যের অভাব মেটানো ছাড়া কোনো ক্ষতি করে না। এরা সারাদিন ঘুমায়। সন্ধ্যায় বেরিয়ে যায় আহারের সন্ধানে। আবার ফিরে আসে ভোরে।

পাখি ও পরিবেশ সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সেতুবন্ধনের’ প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর হোসেন বলেন, বাদুড় নিয়ে কল্পকাহিনীর কুসংস্কারের যুগ কেটে গেছে। এরা মানুষের উপকারই করে। বিশেষ করে কলা আর অ্যাভোকাডোসহ প্রায় ৩০০ রকমের গাছের বীজ ছড়াতে সাহায্য করে। আবার কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসলকে রক্ষা করে। তাই মানব কল্যাণকারী ও পরিবেশ বান্ধব এ স্তন্যপায়ী প্রাণিটি রক্ষা আমাদের দায়িত্ব।

শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, দেড়’শ বছর পুরোনো প্রায় ৩ একরের বাঁশঝাড় ও দুটি বটগাছের মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে এখানে বাদুড়েরা নির্ভয়ে বসতি গড়ে তোলে। এটি রক্ষায় পরিবেশবাদী সংগঠন সেতুবন্ধন ও অত্র এলাকাবাসি আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে। যার কারণে এখানকার স্তন্যপায়ী এ প্রাণির সংখ্যা দিন দিন বেড়েছে। তাদের এই আবাসস্থল ধরে রাখতে স্থানীয়দের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, বাদুড়ের অভয়াশ্রম এখানকার পরিবেশ ও প্রকৃতি সুরক্ষায় কাজ করছে। এই অভয়াশ্রম রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে জেলা প্রশাসন।

বিশেষ করে এটি দেখভাল করার জন্য উপজেলা প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনদের বলা হয়েছে।

এনএ/এএসটি

 

রংপুর: আরও পড়ুন

আরও