আটকে পড়া ভারতীয় পেঁয়াজ ঢুকছে বাংলাদেশে

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৪ কার্তিক ১৪২৬

আটকে পড়া ভারতীয় পেঁয়াজ ঢুকছে বাংলাদেশে

দিনাজপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ৭:৫৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৪, ২০১৯

আটকে পড়া ভারতীয় পেঁয়াজ ঢুকছে বাংলাদেশে

হিলি স্থলবন্দরের ওপারে ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দরে টানা পাঁচদিন আটকে থাকার পর অবশেষে বাংলাদেশে ঢুকেছে পেঁয়াজবাহী ভারতীয় ১৫৭টি ট্রাক।

শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার পর থেকে পেয়াঁজবোঝাই ট্রাকগুলো বন্দরে ঢুকতে শুরু করেছে।  

বন্ধের দিনে এই পেঁয়াজ আসলেও বন্দরে আটকে থাকার ফলে বেশিরভাগ পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন আমদানিকারকরা।

হিলি স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, এই বন্দর দিয়ে গত ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারত থেকে প্রায় ১০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খোলে হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারকরা। কিন্তু গত রোববার বিকেলে হঠাৎ করে এক নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ভারতীয় কাস্টম্স কর্তৃপক্ষসহ রফতানিকারকদের বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি না করার জন্য আদেশ জারী করে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

ফলে গত রোববার বিকেল ৪টার পর বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয় ভারত। হঠাৎ পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশি আমদানিকারকদের এলসি করা পেঁয়াজবাহী ৭০টি ট্রাক বাংলাদেশের মুখে ভারতের হিলি স্থলবন্দরে আটকে পড়ে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আটকে পড়া ৭০টি ট্রাকের মধ্যে ৫৭টি  ট্রাকে ৯শ ৪৬ মেট্রিক টন পেঁয়াজ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে দেশে এসেছে।

আমদানিকারক বাবলুর রহমান বলেন, ‘আমদানিকৃত পেঁয়াজ নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে। গরমে অনেক গাড়ি দিয়ে পেঁয়াজ পচার পানি ঝরছে। বন্দরে যেসব পেঁয়াজ এসেছে তার মধ্যে অধিকাংশ পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্দর থেকে পেঁয়াজ গুদামে নিয়ে গিয়ে বাছাই করে তারপর বিক্রি করা হবে। একসাথে বেশি পেঁয়াজ দেশে ঢুকায় দাম কমে যাওয়ায় অনেক আমদানিকারককেই লোকসান গুনতে হবে।’

সোনামসজিদ স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ জানিয়েছেন, ‘ভারতের হঠাৎ পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার পর থেকেই, মোহদীপুরে আগের রপ্তানির জন্য অপেক্ষামান থাকা ট্রাকগুলো শুক্রবার আসা শুরু করেছে। বিকেল পর্যন্ত প্রায় ১০০ ট্রাক পেঁয়াজ এসেছে, আরো ১০০ ট্রাক পথে আসছে।’

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পেয়াজের আমদানিকারক মনিরুল ইসলাম জানান, ৫ দিন আগে ট্রাকে পেঁয়াজ লোড করা হয়েছিলো, কিন্তু রপ্তানী বন্ধের কারণে আসেনি, সেগুলো আজ আসছে।

তিনি বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, প্রতিটি ট্রাকের অন্তত ৩০-৪০ ভাগই পেঁয়াজ পচে গেছে। তারপরও পুজোর ছুটি হয়ে গেল, এই পেঁয়াজগুলো আসাতে বাজার স্বাভাবিক হবে।

হিলির খুচরা বিক্রেতা আহম্মেদ আলী জানান, ‘দুর্গাপুজার ছুটিতে হিলি বন্দর ১১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। এই বন্ধের মাঝে আবারও আমদানিকারক ও পাইকার ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ মজুত করলে খুচরা বাজারে দাম আবারও অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই তারা বাজার মনিটরিং টিম হিলিতে রাখার দাবি জানান।

হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ভারত সরকার পেয়াঁজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার আগেই দুর্গাপূজার বন্ধের সময় দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক রাখতে নির্ধারিত মূল্যে প্রচুর এলসি করা হয়েছে। ভারত সরকার পেয়াঁজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর সেই পেয়াঁজগুলো ভারত অভ্যন্তরে আটকে যায়। নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে শুক্রবার সেই পেয়াঁজগুলো বন্দরে প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম।

এইচআর

 

রংপুর: আরও পড়ুন

আরও