রোগীকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন, তদন্ত কমিটি গঠন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

রোগীকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন, তদন্ত কমিটি গঠন

নুর আলম, নীলফামারী ৬:১০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

রোগীকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন, তদন্ত কমিটি গঠন

আধুনিক সদর হাসপাতালে এক নারী রোগীকে মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন প্রয়োগ করার প্রতিবাদে নীলফামারীতে বিক্ষোভ করেছেন রোগীর স্বজনরা।

রোববার দুপুরে সিভিল সার্জন অফিসের সামনে প্ল্যাকার্ড বহন করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।

এদিকে ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। আগামী ১০ কার্য দিবসের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

মানববন্ধনে অংশ নেয়া জেলা শহরের নতুন বাজার কলোনি মহল্লার আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে সানোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, শনিবার রাতে মা মল্লিকা বেগমের বুকে ব্যথার কারণে ভর্তি করি আধুনিক সদর হাসপাতালে। এ সময় হাসপাতালে থাকা সোডিয়াম ক্লোরাইড স্যালাইন প্রয়োগ করা হয় মাকে।

বিষয়টি দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ করি এবং হাসপাতালে আরো চারজনকে রোগীকে একই স্যালাইন প্রয়োগ করা হয়।

পরে ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানানো হলে সেখানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে বিষয়টির সত্যতা পান।

নতুন বাজার এলাকার শামসুল হক অভিযোগ করেন, এখানকার চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নিয়ম কানুন নেই। সঠিক চিকিৎসা সেবা পাচ্ছেন না রোগীরা। এর আগেও মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন প্রয়োগ করার ঘটনা ঘটেছিলো। সেটি ধামাচাপা পড়ে যায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মল্লিকা বেগম (৪৫) নামে যে রোগীকে স্যালাইন প্রয়োগ করা হয়েছিলো সেটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত মাসে। এতদিন পরও এসব স্যালাইন কীভাবে স্টোরে থাকে এনিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনার রাতেই আমি সেখানে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি প্রত্যক্ষ করি এবং হাসপাতালের স্টোরে আরো মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রয়েছে কিনা সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য দেখা হবে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তা সিভিল সার্জন রনজিৎ কুমার বর্মণ বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কেন এমন ঘটলো এটি উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রেজাউল করিমকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আগামী দশ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি তদন্ত রিপোর্ট প্রদান করবেন। রিপোর্টের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এইচআর

 

রংপুর: আরও পড়ুন

আরও