আত্মপ্রত্যয়ী সাইদুল, কারিগর থেকে কার্পেট ফ্যাক্টরির মালিক

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

আত্মপ্রত্যয়ী সাইদুল, কারিগর থেকে কার্পেট ফ্যাক্টরির মালিক

পঞ্চগড় প্রতিনিধি: ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

আত্মপ্রত্যয়ী সাইদুল, কারিগর থেকে কার্পেট ফ্যাক্টরির মালিক

অদম্য মনোবল, আত্মপ্রত্যয়ী, সততা  আর একাগ্রতা দিয়ে অনেক কিছু জয় করা সম্ভব। দেশের সর্ব উত্তরের জনপদ তেঁতুলিয়ার পানিহাকা গ্রামের এমনি এক মনোবলের সৎ উদ্দোমী তরুণ উদ্যোক্তা সাইদুল ইসলাম। জীবন জীবিকার সন্ধানে আজ থেকে ৫/৭ বছর আগে ঢাকায় গিয়ে কার্পেটের ফ্যাক্টরিতে কাজ শুরু করেন তিনি।

কাজ করতে করতে মনে মনে স্বপ্ন দেখেন কিভাবে এই শিল্পকে তার গ্রামের বাড়ীতে এসে বাস্তবে রুপ দেওয়া যায়। এক সময় সাইদুল ইসলাম কার্পেটের যাবতীয় কাজ রপ্ত করে গ্রামের বাড়ীতে চলে আসেন। স্থানীয় এনজিও থেকে দুই বছর আগে ত্রিশ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে মাত্র ২টি মেশিন নিয়ে নিজের বাড়ীতে কার্পেট তৈরি শুরু করেন।

বর্তমানে তার কার্পেট কারখানায় প্রায় ২০ টি মেশিন রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় ১৫ থেকে ২০ জন বেকার ছেলে, ছাত্র, নারী পুরুষ নিয়মিত কাজ করেছেন।

পানিহাকা গ্রামের পুরুষ শ্রমিকবাবুল হোসেন, আশরাফ আলী ও  মোঃ  রিপন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমাদের গ্রামে কার্পেট কারখানা চালু হওয়ায় আমরা প্রতিদিন কাজ করে ৪’শ থেকে ৫’শ টাকা রোজগার করতে পারি। কারখানা বাড়ির পাশে হওয়ায় কাজের পাশাপাশি আমরা সংসারের দেখাশুনাসহ অনেক সুবিধা পাচ্ছি। এরকম আরো কার্পেট কারখানা হলে অনেক বেকার মানুষ কাজ করতে পারতো।

একই ভাবে ওই কারখানার স্থানীয় মহিলা শ্রমিক আসমা, শাপলা পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, প্রতিদিন কার্পেট কারখানায় কাজ করে ৩’শত থেকে ৪’শ টাকা আয় করতে পারি। আমার আয়ের টাকা দিয়ে ছেলে মেয়ের পড়ালেখাসহ সংসারের অনেক উন্নতি করতে পারছি।

রং-বেরং কার্পেট ফ্যাক্টরি মালিক সাইদুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমাদের উৎপাদিত পণ্য নজরকাড়া খুবই উৎকৃষ্ট, মানসম্মত, রুচিশীল। যা বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে জায়গা করে নিয়েছে। বর্তমানে আমার কারখানায় স্থানীয় ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক নিয়মিত ও খন্ডকালীন ভিত্তিতে কাজ করে।

তিনি বলেন, চাহিদা থাকলেও আমরা মূলধন সংকটের কারণে প্রযাপ্ত যোগান দিতে পারছি না। সরকারি বে-সরকারি ঋণ পেলে ব্যবসায়ের সম্প্রসারন করা সম্ভব হতো। এতে করে বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতো।

পঞ্চগড় জেলার জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, তেঁতুলিয়ার রং-বেরং কার্পেট কারখানার উৎপাদিত পণ্যের গুনগত মান খুবই সুন্দর। ইতিমধ্যে পঞ্চগড় জেলার সার্কিট হাউজে পঞ্চগড় ব্রান্ডিংয়ে স্থান পেয়েছে রং-বেরং কার্পেটের উৎপাদিত পণ্য। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটক সার্কিট হাউজের পঞ্চগড় ব্রান্ডিংয়ে পঞ্চগড়ের উৎপাদিত পণ্য সুলভ মূল্যে খরিদ করতে পারছেন।

তিনি বলেন, রং-বেরং কার্পেটের উৎপাদিত পণ্য পঞ্চগড়ে আসা বিভিন্ন অতিথিদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড়ের উৎপাদিত কার্পেট বিদেশে রপ্তানী করার মতো পণ্য।

কেএ/জেডএস/

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও