বিএসএফের বাধায় কুড়িগ্রাম সীমান্তে ভাঙা হলো বাড়ি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

বিএসএফের বাধায় কুড়িগ্রাম সীমান্তে ভাঙা হলো বাড়ি

ইউনুছ আলী আনন্দ, কুড়িগ্রাম ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯

বিএসএফের বাধায় কুড়িগ্রাম সীমান্তে ভাঙা হলো বাড়ি

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিদ্যাবাগীশ ঠোস সীমান্তে বিএসএফের বাধায় আতিকুর রহমান (৩২) নামের এক বাংলাদেশির নবনির্মিত বসতবাড়ি ভাঙা হয়েছে। এতে আতিকুর, তার স্ত্রী ও তাদের দুই কন্যা সন্তানের ওই ঘরে থাকা বন্ধ হয়েছে।

শনিবার ভারতের কুচবিহার ৩৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কুর্শাহাট কোম্পানীর বিএসএফের আপত্তিতে বিজিবি বাড়িটি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। পরে কয়েক দিন আগে নির্মাণ করা বাড়িটি ভেঙে ফেলা হয়। এতে পরিবারের ৪ সদস্যের নিজ বসতভিটার ঘরে থাকা বন্ধ হলো। আতিকুর রহমান ফুলবাড়ী উপজেলার বিদ্যাবাগীশ ঠোস গ্রামের এছলাম মিয়ার ছেলে।

আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমি ঢাকায় গার্মেন্টেসের কাজ করে কষ্টের পয়সা দিয়ে পৈত্রিক সম্পতির কয়েক শতাংশ জমিতে ঘর উঠাই। গত দুই সপ্তাহ আগে ওই ঘরে স্ত্রী ও দুই কন্যা সন্তান নিয়ে থাকা শুরু করি।

কিন্তু ভারতের কুচবিহার ৩৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কুর্শাহাট কোম্পানীর বিএসএফ বাড়িটির ব্যাপারে আপত্তি জানায়। তারা বিজিবির কাছে বাড়িটি সীমান্তে বলে অভিযোগ করলে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির অধীনস্থ কাশিপুর কোম্পানী ও গংগারহাট বিওপির বিজিবি সদস্যরা বাড়িটির অধিকতর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়।’

অসহায় আতিকুর আরও বলেন, ‘বিএসএফ আমার প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন বাড়িটির ঘরগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়ায় আমি এখন অসহায় ও আশ্রয়হীন জীবন যাপন করছি। আমি নিজ জমিতে বাড়ি করে থাকতে না পারলে স্ত্রী, সন্তান নিয়ে পথে বেড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না।’

এ অবস্থায় বিজিবি ও বিএসএফের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের মানবিক দৃষ্টি ও সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবির অধীনস্থ কাশিপুর কোম্পানী কমান্ডার শহিদুল ইসলাম জানান, ফুলবাড়ী উপজেলার বিদ্যাবাগীশ ঠোস সীমান্তের আর্ন্তজাতিক পিলার ৯৩৯ এর কাছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরে বাংলাদেশি যুবক আতিকুর রহমান ইট ও টিনের সমন্বয়ে ঘর উঠায়।

এটি জানতে পেরে কুচবিহার ৩৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কুর্শাহাট কোম্পানীর বিএসএফ ওই বাড়িটি আর্ন্তজাতিক সীমানা লংঘন করে নির্মাণ করা হচ্ছে বলে বিজিবির কাছে আপত্তি তোলে।

পরবর্তীতে বিজিবি নির্মাণ কাজটি বন্ধ, ঘরের ইট, টিনের বেড়া খুলে ফেলার নির্দেশ দিলে পরিবারের লোকজন তা খুলে ফেলে।

ইউএএ/আরপি

 

রংপুর: আরও পড়ুন

আরও