‘আলোর কণা’, বিনে পয়সার বাতিঘর

ঢাকা, ২৬ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

‘আলোর কণা’, বিনে পয়সার বাতিঘর

নুর আলম, নীলফামারী ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০১৯

‘আলোর কণা’, বিনে পয়সার বাতিঘর

নীলফামারীতে কোমলমতিদের প্রাথমিক পাঠ দিচ্ছে ‘আলোর কণা’ নামের পাঠশালা। মাত্র সাড়ে চার বছরে জেলায় প্রতিষ্ঠানটি বিনে পয়সার ‘বাতিঘর’ হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে।

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে জেলা শহর থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরে জলঢাকা সদরের দন্দিবাড়িতে পাঠশালাটির যাত্রা শুরু। তখন শিক্ষার্থী ছিল মাত্র ৫ জন, এখন সহস্রাধিক।

আলোর কণাতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা এখানে বিনামূল্যে পড়ালেখা ছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রী পেয়ে থাকে। মজার বিষয়, এখানকার শিক্ষকেরাও শিক্ষার্থী। মূলত জলঢাকা সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি ও স্নাতক পর্যায়ের সাত শিক্ষার্থী আলোর কণাতে পাঠদান করেন।

শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দিতে কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন, হাতের সুন্দর লেখা, উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। বিজয়ীদের দেয়া হয় পুরস্কার।

টিনের দোচালা ঘরে বাঁশের বেড়া। পাঠশালায় একটি গ্রন্থাগার ও সৎ মানসিকতা প্রস্তুতে রয়েছে সততা স্টোর।

আলোর কণার শিক্ষক জলঢাকা সরকারি ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী আতিকা আকতার জানান, ভোর ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। ঘরের ভেতরে চট, অনেক সময় বাইরেও একইভাবে শিক্ষার্থীদের বসিয়ে পাঠদান করা হয়।

একই কলেজের ডিগ্রি অধ্যয়নরত আলোর কণার আরেক শিক্ষক লিপসি খাতুন জানান, তাদের পাঠশালায় যারা আসে, সবাই দরিদ্র, অতিদরিদ্র পরিবারের সন্তান। তাদের শিক্ষায় মনোযোগী করে তুলতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে শিক্ষাসামগ্রী দেয়া হয়।

তিনি বলেন, ‘কোমলমতিদের পড়িয়ে নিজেরাও উপকৃত হচ্ছি। চর্চাটা থাকছে, বলা চলে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি এখান থেকেই হয়ে যাচ্ছে।’

আলোর কণার চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র সাকিব হোসেন বলে, ‘সকালে এখানে এসে পড়া শেষ করি। বাড়ি ফিরে গোসল ও খাওয়া শেষে স্কুলে যাই। এখানে আসতে খুব ভালো লাগে।’

সংশ্লিষ্টরা জানান, জলঢাকা শহরের দন্দিবাড়ি ডাঙ্গাপাড়া এলাকার নয়টি ইউনিয়নে আলোর কণার ১০টি ফ্রি পাঠদান কেন্দ্র রয়েছে। প্রতি কেন্দ্রে কমপক্ষে ১০০ জনকে পড়ানো হয়।

জলঢাকা ডিগ্রি কলেজের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ফুয়াদ হোসেন, হিরণ রায় ও লিওন ইসলামের উদ্যোগে ২০১৫ সালে আলোর কণার কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রধান উদ্যোক্তা ফুয়াদ হোসেন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘আমরা সাত ভাই-বোন। বাবার ছোট্ট ব্যবসা। অর্থাভাবে সবাই পড়ালেখা করতে পারিনি। মূলত ওই বোধ থেকেই এমন কিছু করার তাগিদ অনুভব করেছি। পরে ২০১৫ সালে তিন বন্ধু মিলে শুরু করি, অনেক ভালো সাড়া পাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে পড়াই মানে শিক্ষক। কিন্তু, বাচ্চাদের আমরা আমাদের ভাই বলতে বলি। এতে করে তারা নিজেরা আমাদের তাদের পরিবারেরই সদস্য মনে করে। অন্য রকম পরিবেশ, বলে বোঝানো যাবে না।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা চঞ্চল ভৌমিক বলেন, ‘অনুকরণীয় উদ্যোগ। দেশের প্রত্যেক এলাকায় এমন উদ্যোগ ছড়িয়ে পড়া দরকার। তাহলে গরিবের সন্তানেরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হবে না।’

এনএ/আইএম

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও