প্রেমের নির্মম বলি মাদ্রাসাছাত্রী আসমা!

ঢাকা, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

প্রেমের নির্মম বলি মাদ্রাসাছাত্রী আসমা!

মো. খোরশেদ আলম, পঞ্চগড় ৯:৪৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০১৯

প্রেমের নির্মম বলি মাদ্রাসাছাত্রী আসমা!

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে গত সোমবার একটি পরিত্যক্ত রেলের বগি থেকে আসমা খাতুন (১৭) নামে এক মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গত রোববার সকালে মা-বাবা কাজের জন্য বাইরে গেলে আসমা তার বাবার ভোটার আইডি কার্ড, জন্ম নিবন্ধন নিয়ে নিখোঁজ হয়।

একই সময়ে বাঁধন নামে এলাকার একটি ছেলেও নিখোঁজ হয় বলে জানিয়েছে বাঁধনের পরিবার। তারা বিয়ে করার জন্যই পালিয়ে যায় বলে ধারণা স্থানীয়দের।

আসমা পঞ্চগড় জেলা সদরের কনপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুর রাজ্জাকের দ্বিতীয় মেয়ে। সে স্থানীয় খানবাহাদুর মখলেছুর রহমান মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পাস করেছে। এরপর পরিবারের আর্থিক অনটনে তাকে আর কলেজে ভর্তি করা হয়নি।

গত সোমবার সকালে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, কমলাপুর রেল স্টেশনের বলাকা কমিউটার ট্রেনের একটি পরিত্যক্ত বগি থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার ব্যাগে মোবাইল নম্বর থেকে পরিচয় সনাক্ত করে পুলিশ।

এসময় পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, পাশের গ্রামের ভুট্টোর ছেলে বাঁধনের সাথে তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রোববার সকাল থেকে বাঁধনও নিখোঁজ । স্থানীয়দের সন্দেহ, বাঁধনই আসমাকে নিয়ে পালিয়ে যায়।

তারা আরও জানায়, অষ্টম শ্রেণি থেকে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা দুজনই একই মাদ্রাসায় একই ক্লাসে পড়াশোনা করতো। একই কথা জানিয়েছে আসমার বান্ধবীরাও।

কমলাপুরে দুজনই কোনো চক্রের হাতে পড়ে আসমা খুন হতে পারে অথবা বাঁধনের সঙ্গীরা খুন করতে পারে বলে সন্দেহ করছে এলাকাবাসী। বাঁধনকে আটক করলেই এসব বিষয় পরিষ্কার হতে পারে বলে দাবি তাদের।

তবে বাঁধনের পরিবার আসমাকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। বাঁধনের মা বিলকিস খাতুন জানান, আসমার সাথে আমার ছেলের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। রোববার সকালে সে বাবা-মার সাথে ঝগড়া করে মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে আর আসেনি। বর্তমানে সে কোথায় আছে তা তারা জানেন না।

পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মজারুল হক প্রধান, জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী আসমার বাড়িতে গিয়ে সমবেদনা জানিয়েছেন।

পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী পরিবর্তন ডটকমকে জানান, নিয়ম অনুযায়ী জিআরপি থানায় মামলা হয়েছে। তারাই তদন্ত করবেন। যেহেতু নিহতের বাড়ি পঞ্চগড়ে, এজন্য তদন্তের সময় আমাদের সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। আমরা ছায়া তদন্ত শুরু করেছি। কিছু আলামতও পাওয়া গেছে। তদেন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

এইচআর

 

রংপুর: আরও পড়ুন

আরও