চার মাসেই ভেঙে গেল ৩১ লাখ টাকার সেতু

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

চার মাসেই ভেঙে গেল ৩১ লাখ টাকার সেতু

ইউনুছ আলী আনন্দ, কুড়িগ্রাম ৭:৩৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৯

চার মাসেই ভেঙে গেল ৩১ লাখ টাকার সেতু

কুড়িগ্রামের ফুলাড়ী উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের পূর্ব-ধনিরাম আবাসনগামী রাস্তার খালের উপর নির্মাণাধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘গ্রামীণ রাস্তার কম-বেশি ১৫ মিটার দৈর্ঘের সেতু/কালভার্ট নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্প ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের একটি সেতু নির্মাণের ৪ মাসের মধ্যে দেবে গিয়ে ভেঙে গেছে।

সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছে সেতুটির কাজের অনিয়ম নিয়ে।

এ অবস্থায় দুর্ভোগ কবলিত এলাকাবাসী অভিযোগ করছেন, সেতুটি নির্মাণে অনিয়ম হয়েছে। সেতুটি নির্মাণে ইট, সিমেন্ট, রডের পরিমাণ কম দেয়ায় হয়তো সেটি ভেঙে গেছে।

দুর্ভোগকবলিত এলাকাবাসী ভেঙে যাওয়া সেতুটির ব্যাপারে অনিয়ম খতিয়ে দেখে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ সেতুটি পুনর্নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।

সেতুটি ৩০ লাখ ৭৭ হাজার ৬৫৬.১০ টাকা ব্যয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের তত্ত্বাবধানে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে মে মাসে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।

সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ হলেও নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যে চলতি মাসের ১১ আগস্ট সেতুটি দক্ষিণ মাথা দেবে গিয়ে ভেঙে যাওয়ায় সেতু দিয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়েছে।

এবারের বন্যায় সেতুটির দু’ধারের মাটি সরে গেলে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে বাঁশের চাটাই দিয়ে যাতায়াত করছিল। কিন্তু এক সপ্তাহের ব্যবধানে হঠাৎ সেতুটি দেবে গিয়ে ভেঙে যাওয়ায় এলাকাবাসী পড়েছে দুর্ভোগে।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক ওবায়দুল হক জানান, সেতুটি নির্মাণে অনিয়মের কারণে এটি হয়তো নির্মাণের ৪ মাসের মধ্যে ভেঙে গেল। তিনি সেতুটির পুনঃসংস্কার ও কাজের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান।

স্থানীয় জশমত আলী ও আব্দুর রহমান জানান, বন্যায় রাস্তা ভাঙবে কিন্তু সেতু ভাঙবে কেন। সেতুটি নির্মাণে অনিয়মের কারণেই এটি হঠাৎ দেবে গিয়ে ভেঙেছে।

ফুলবাড়ী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত জানান, সেতুটি চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে কাজ শুরু হয়ে মে মাসে নির্মাণ কাজ শেষ হয়।  নিমার্ণের পর দুই পাশে মাটি ভরাট ছিল।

বন্যায় মাটি সরে গিয়ে সেতুটি ভাঙন কবলিত হয়েছে।

সেতুটি নির্মাণে অনিয়ম হয়নি। এলাকাবাসীর এ অভিযোগটি মিথ্যা বলেও জানান তিনি।

এইচআর

 

রংপুর: আরও পড়ুন

আরও