গ্রেফতার আতংকে জলঢাকার সাবেক সাংসদসহ আ.লীগের শীর্ষ নেতারা

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

গ্রেফতার আতংকে জলঢাকার সাবেক সাংসদসহ আ.লীগের শীর্ষ নেতারা

নুর আলম, নীলফামারী ৪:৪৯ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৭, ২০১৯

গ্রেফতার আতংকে জলঢাকার সাবেক সাংসদসহ আ.লীগের শীর্ষ নেতারা

নীলফামারীর জলঢাকায় জাতীয় শোক দিবসে আওয়ামীলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় অবশেষে মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে মামলা নথিভুক্ত(রেকর্ড) করা হয়। মামলার পর থেকেই গ্রেফতার আতংকে আছেন দুই পক্ষের আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা।

একটি মামলার বাদী হয়েছেন জলঢাকা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আনসার আলী মিন্টু এবং অপরটির বাদী হয়েছেন সাবেক সাংসদ গোলাম মোস্তফার অনুসারী জলঢাকা শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি আশরাফ আলী। দুই গ্রুপের মামলাতেই উপজেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ নেতারা আসামী হিসেবে রয়েছেন। এরফলে গ্রেফতার আতংক শুরু হয়েছে নেতাদের মধ্যে।

এদিকে শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে যুবলীগের চারজনকে গ্রেফতার করেছে জলঢাকা পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন ইন্দ্রজিৎ রায়, হেলালুজ্জামান হেলাল, হারুন উর রশিদ ও ইবনে নুর। তারা মীরগঞ্জ, শিমুলবাড়ি ও বালাগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা।

জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ১৮নম্বর মামলার বাদী আনসার আলীর এজাহারে ৭০জন এবং ১৯নম্বর মামলার বাদী আশরাফ আলীর এজাহারে ৬৩জনকে আসামী করা হয়েছে।

তিনি জানান, এছাড়াও পুলিশের উপর হামলা এবং আক্রমণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় ২২জন আসামী রয়েছেন। এই মামলার বাদী হয়েছেন থানার উপ-পরিদর্শক(এসআই) আব্দুর রশিদ।

সুত্র জানায়, দশম জাতীয় সংসদে নীলফামারী-০৩ আসনের সাবেক সদস্য ও জলঢাকা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফার অনুসারী পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আশরাফ আলীর মামলায় উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আনসার আলী মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক সহিদ হোসেন রুবেল, শহর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ এবং উপজেলা সভাপতি আনসার আলী মিন্টুর মামলায় সাবেক সাংসদ গোলাম মোস্তফা, শহর কমিটির সভাপতি আশরাফ আলী, সাবেক উপজেলা সভাপতি আব্দুল মান্নান, জলঢাকা পৌরসভার সাবেক মেয়র ইলিয়াস হোসেন উল্লেখযোগ্যদের তালিকায় রয়েছেন।

উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আনসার আলী মিন্টু বলেন, শোক দিবসে বঙ্গবন্ধু চত্বরে সংঘর্ষের ঘটনায় কারা জড়িত তা দৃশ্যমান। সবাই দেখেছেন। আমরা চাই সঠিক তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগিক ব্যবস্থা করা হোক।

তবে সাবেক সাংসদ গোলাম মোস্তফা বলেন, বলার কিছুই নেই। পুলিশ প্রশাসন নিরপেক্ষ ভুমিকা পালন করে জড়িতদের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সঠিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(নীলফামারী সার্কেল) রুহুল আমিন বলেন, শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা পুলিশের উপর হামলা এবং আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপ নেতাদের দায়ের করা মামলায়ও চিহিৃত।

তবে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, জাতীয় শোক দিবসে এ রকম ঘটনা পীড়াদায়ক। পরস্পর বিরোধী নেতাদের নিবৃত্ত করতে গিয়ে হামলা করা হয়েছে পুলিশের উপর। মারাত্মক আহতও হয়েছে আমাদের পুলিশ সদস্য। 

শোক দিবসে দু’পক্ষের হামলা ও সংঘর্ষের পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে যাদেরকে জড়িত পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এক্ষেত্রে কোন ছাড় দেয়া হবে না।

প্রসঙ্গত জাতীয় শোক দিবসে জলঢাকা শহরের বঙ্গবন্ধু চত্বরে উপজেলা আওয়ামীলীগের বিবাদমান দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন পুলিশসহ পাঁচজন আহত হন।

এনএ/এফএ/

 

রংপুর: আরও পড়ুন

আরও