দিনাজপুরে এক চতুর্থাংশ চামড়াও সংগ্রহ করতে পারেনি ব্যবসায়ীরা

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

দিনাজপুরে এক চতুর্থাংশ চামড়াও সংগ্রহ করতে পারেনি ব্যবসায়ীরা

একরাম তালুকদার, দিনাজপুর ৮:২৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৯

দিনাজপুরে এক চতুর্থাংশ চামড়াও সংগ্রহ করতে পারেনি ব্যবসায়ীরা

পুঁজির অভাব ও দাম না থাকায় কোরবারীতে এবার জবাইকৃত পশুর এক চতুর্থাংশ চামড়াও সংগ্রহ করতে পারেনি উত্তরবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার দিনাজপুরের রামনগর চামড়া বাজারের ব্যবসায়ীরা।

তবে প্রতিবার লোকসান আর ট্যানারী মালিকদের কাছে কোটি কোটি টাকা বকেয়া থাকার পর যেটুকু চামড়া তারা সংগ্রহ করেছে, বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্তে তা নিয়ে এবার আশার আলো দেখছেন এই বাজারের দু’শতাধিক ব্যবসায়ী। পাশাপাশি বাজারে না আসা চামড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের আশংকাও করছেন তারা।

দিনাজপুর প্রাণী সম্পদ বিভাগের হিসাব মতে, এবার দিনাজপুরে ১ লাখ ৮ হাজার ৫’শ পশু কোরবানি দেয়া হয়েছে। দিনাজপুর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শাহিনুর আলম জানান, জবাইকৃত এসব পশুর মধ্যে ৮২ হাজার ৪’শ গরু এবং ২৬ হাজার ১’শ ছাগল। কিন্তু উত্তরবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার দিনাজপুরের রামনগরের ব্যবসায়ীরা এবার কোরবানিতে চামড়া সংগ্রহ করেছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ হাজারের মতো।

পুঁজির অভাব ও দাম না থাকায় বাজারে অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী চামড়া নিয়ে না আসায় সিংহভাগ চামড়া সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান চামড়া ব্যবসায়ীরা।

রামনগর চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি জুলফিকার আলী স্বপন জানান, বিগত কয়েক বছর থেকে ট্যানারী মালিকদের কাছে তাদের কোটি কোটি টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। ট্যানারী মালিকরা বকেয়া টাকা না দেয়ায় তারা পুঁজি সংকটে রয়েছেন। এ জন্য তারা কাঙ্খিত চামড়া সংগ্রহ করতে পারেননি।

তাছাড়া সরকারের বেঁধে দেয়া দামে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ করতে পারেননি তারা।

তিনি জানান, সরকার ঢাকার বাইরে প্রতি বর্গফুট লবনযুক্ত চামড়া নির্ধারণ করেছেন মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। পাশাপাশি এক পিস চামড়া তাদের পরিষ্কার করতে মজুরি খরচ, লবন ও ভাড়াসহ খরচ পড়ে ২৫০ থেকে ৩’শ টাকা। এই খরচ দিয়ে তাদের চামড়া কেনা দুস্কর হয়ে পড়ে। এই জন্যই মৌসুমী ব্যবসায়ীরা দাম না পাওয়ায় অনেকেই চামড়া বাজারে আনেননি। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা এসব চামড়া লবন দিয়ে সংরক্ষণ করে রেখেছেন বলে জানান তিনি।

জুলফিকার আলী স্বপন জানান, উপযুক্ত দাম না পেলে এই চামড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের আশংকা ররেছে। এ জন্য সীমান্তে কড়া নজরদারীর দাবী জানান তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি জুলফিকার আলী স্বপন বলেন, এর আগে আমরা ট্যানারী মালিকদের কাছে খাঁচার মধ্যে বন্দী অবস্থায় ছিলাম। বছরের পর বছর বকেয়া পড়ে থাকলেও তাদের কাছেই আমাদের চামড়া বিক্রি করতে হতো আবার বাকী দিয়ে। এতে এবার যে স্বল্প পরিমাণ চামড়া আমরা ক্রয় করেছি, সেটা নিয়েই সংশয়ে ছিলাম। কিন্তু বিদেশে কাঁচা চামড়া রপ্তানি সিদ্ধান্ত হওয়ায় আমরা যেনো ট্যানারী মালিকদের বন্দী খাঁচা থেকে মুক্ত হয়েছি। ট্যানারী মালিকদের কাছে আমাদের আর চামড়া নিয়ে ধর্ণা দিতে হবে না। সরকার আমাদের চামড়া রপ্তানি করলে আমরা ভালো দামও পাবো বলে আশা করছি।

তিনি বলেন, চামড়া রপ্তানি হলে এবং ভালো দাম পেলে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা যে সিংহভাগ চামড়া সংরক্ষণ করে রেখেছে-সেটি পাচারেরও আশঙ্কা নেই। সেই চামড়া আমরাই কিনে সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবো। তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ট্যানারী মালিকদের কাছ বকেয়া টাকা আদায়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

দিনাজপুরের রামনগর চামড়া ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি তৈয়বউদ্দীন চৌধুরী জানান, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারী শিল্পকে সরানোর পর সাভারে এখনও ট্যানারী শিল্পগুলো পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একারনেই চামড়া ব্যবসায় মোড়ক ধরেছে। এটি কেটে উঠতে আরও ৪/৫ বছর সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

এদিকে দিনাজপুরে এবার পানির দামে চামড়া বেচা-কেনা হওয়ায় চামড়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট বলে দাবী করছেন মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, চামড়া ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করেই চামড়ার দাম নির্ধারণ করেছে। এতে মারাত্মকভাবে লোকসানের মুখে পড়ে পুঁজি হারিয়েছেন তারা। 

উল্লেখ্য, দিনাজপুরে এবার কোরবানিতে প্রতি পিস গরুর চামড়া বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ২’শ টাকায়। আর প্রতি পিস ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে ৮ থেকে ১০ টাকায়। এতে অনেকেই চামড়া ফেলে দিয়ে পালিয়েছে।

এমএইচ

 

রংপুর: আরও পড়ুন

আরও