শোক দিবসের অনুষ্ঠানে পুলিশের ওপর হামলায় আসামি ২২

ঢাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | 2 0 1

শোক দিবসের অনুষ্ঠানে পুলিশের ওপর হামলায় আসামি ২২

নীলফামারী প্রতিনিধি ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৬, ২০১৯

শোক দিবসের অনুষ্ঠানে পুলিশের ওপর হামলায় আসামি ২২

নীলফামারীর জলঢাকায় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ২২ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে জলঢাকা থানায় মামলাটি করেন উপ-পরিদর্শক(এসআই) আব্দুর রশিদ।

এ ঘটনায় মিল্লাদ হোসেন নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এদিন সন্ধ্যায়। গ্রেফতার মিল্লাদ জলঢাকা শহরের নুর আমিনের ছেলে।

এদিকে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি এজাহার দেয়া হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনসার আলী মিন্টু ৭০ জনের এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি গোলাম মোস্তফা ৬৭ জনের নাম উল্লেখ করে এজাহার দিয়েছেন জলঢাকা থানায়।

বৃহস্পতিবার রাতে জলঢাকা থানায় এজাহার দেয়া হলেও মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি একটিও।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিভক্তি নিরসনে দু’পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে জেলা আওয়ামী লীগ। পৃথক স্থানে বৈঠক করে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার ব্যাপারে লিখিত নেয়া হয় বিবাদমান দুই গ্রুপের শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে।

জলঢাকা পৌর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে উপজেলা সভাপতি আনসার আলী মিন্টু এবং জলঢাকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সাবেক এমপি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গোলাম মোস্তফা নেতৃত্ব দেন।

জেলার দুই শীর্ষ নেতা সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এতে সাংগঠনিক সম্পাদক হাফিজুর রশিদ মঞ্জু, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আমজাদ হোসেন ও জেলা ছাত্রলীগের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমান ছিলেন।

মমতাজুল হক বলেন, জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ রকম ঘটনা না ঘটে সেজন্য লিখিত দিয়েছে।

এছাড়া তারা যে মামলা দিয়েছে সেটি প্রত্যাহার করে নিবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, পৌর কার্যালয়ে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সাবেক এমপি গ্রুপের নেতাদের সাথে বৈঠকে বসা হয়।

এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্ট না করার ব্যাপারে তারা অঙ্গীকার করেছেন আমাদের কাছে, পাশাপাশি বিষয়টি কেন্দ্রে জানানো হবে এবং সাংগঠনিক কোনো ব্যবস্থা নেয়ার থাকলে সেটি করবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

প্রসঙ্গত, ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উদযাপনকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে জলঢাকা শহরের বঙ্গবন্ধু চত্বরে দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্যসহ পাঁচজন আহত হন। আহত জলঢাকা থানার উপ-পরিদর্শক মামুনুর রশিদকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৩টি কাঁদানে গ্যাসের সেল ও ১৫টি রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, পুলিশের ওপর হামলা ও আক্রমণের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। সঠিক তদন্ত করে এরসাথে যারা জড়িত রয়েছেন তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এইচআর

 

রংপুর: আরও পড়ুন

আরও