হাইকোর্টের জাল আদেশে ইট ভাটা, ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

হাইকোর্টের জাল আদেশে ইট ভাটা, ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

দিনাজপুর প্রতিনিধি: ৬:০২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০১৯

হাইকোর্টের জাল আদেশে ইট ভাটা, ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

হাইকোর্টের জাল আদেশ ও নথি তৈরি করে ইটভাটা চালানোর অভিযোগে উচ্চ আদালতের নির্দেশে দায়ের করা মামলায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার সাইতাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চিরিরবন্দর উপজেলার ওকড়াবাড়ি নামকস্থান থেকে তাকে আটক করে চিরিরবন্দর থানা পুলিশের সহযোগিতার গ্রেফতার করে পার্বতীপুর মডেল থানার পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মোকাররম হোসেন হাইকোর্টের ভুয়া ও জাল নথি তৈরি করে হামিদ এন্ড সন্স ব্রিক্স নামে একটি ইটভাটা চালাচ্ছেন।

পার্বতীপুর থানা সূত্রে জানা যায়, গত মার্চ মাসের শেষের দিকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার হয়বতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পার্শ্বে যমুনা ইটভাটার কারণে শ্বাসকষ্টসহ নানাবিধ সমস্যার কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বরাবরে ভাটা বন্ধের চিঠি লিখে ২য় শ্রেনীর ছাত্রী মাইশা মনওয়ারা মিশু। চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন এবং নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ওই শিশুর সাথে কথা বলেন। পরে ভাটাটি বন্ধ করার উদ্যোগ গ্রহন করতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন। এদিকে ভাটা বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ করে স্থানীয় প্রশাসন অভিযানকালে দেখতে পায় লাইসেন্স না থাকলেও উচ্চ আদালতের রিটের মাধ্যমে যমুনা ভাটাটি চলছে।

হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে ইটভাটা শিশুর উদ্বেগের খবর তুলে ধরে এ নিয়ে পৃথক রিট চুড়ান্ত শুনানির উদ্যোগ নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে পাওয়া একাধিক ‘কথিত’ আদেশ আদালতে নজরে আনে রাষ্ট্রপক্ষ। রিট দুটি হচ্ছে ২০১৭ সালের ২৫ আক্টোবর দায়ের করা ১৫০৯৩/২০১৭  অন্যটি ২০১৮ সালের ১৯ নভেম্বর দায়ের করা ১৪৬০৫/২০১৮ নং রিট। ২০১৭ সালে কথিত রিটে আবেদনকারী ২২ জন এবং ২০১৮ সালে কথিত রিটে আবেদনকারী ২৬ জন। এরপর আদালত সংশ্লিষ্ট শাখার সুপারকে ডেকে রিট আবেদন ও রাষ্ট্রপক্ষের দেখানো আদেশের নথি সরবরাহ করতে মৌখিত নির্দেশ দেন। আদালত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছ থেকে ওই মামলা দুটির আদেশের নকলের ফটোকপি সংগ্রহ করে নথি সরবরাহ করারও নির্দেশ দেন। পরে নকলের ফটোকপি যাচাই করে দেখা গেছে ওই নকলগুলো রিট শাখা থেকে সরবরাহ করা হয়নি এবং সংশ্লিষ্টদের সই জাল করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গত ৩০ এপ্রিল উচ্চ আদালত এক আদেশে ৩১ ইটভাটার সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ওই তিন জেলার (দিনাজপুর, রংপুর ও নীলফামারী) পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন। গত ২০ মে বিচারপতিদ্বয়ের ওই বেঞ্চ ৩১ ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করতে পুলিশ সুপারদেরকে আদেশ দেন। বিষয়টি তদন্ত করে জাল আদেশ তৈরীর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশের সিআইডি বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়। এই ঘটনায় গত ২০ জুন পার্বতীপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে ৩১টি ইটভাটার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

পার্বতীপুর থানার পরিদর্শক (ওসি) মোখলেসুর রহমান জানান, হাইকোর্টের নির্দেশে হওয়া মামলার আসামী হিসেবে সাঁইতাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোকাররম হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এটি/জেডএস/

 

রংপুর: আরও পড়ুন

আরও