হাবিপ্রবি’র সেই শিক্ষককে বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

হাবিপ্রবি’র সেই শিক্ষককে বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন

দিনাজপুর প্রতিনিধি ৫:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০১৯

হাবিপ্রবি’র সেই শিক্ষককে বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন

গৃহকর্মীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক, ছাত্রীকে যৌন হয়রানী, যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) বায়োকেমিষ্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের সাময়িক বরখাস্তকৃত সহকারী অধ্যাপক রমজান আলীকে চূড়ান্ত বহিষ্কারের দাবিতে মানববন্ধন হয়েছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধন থেকে আগামী ২৫ জুলাই দিনাজপুরে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। সেই সাথে রমজান আলীকে বহিষ্কার নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের টালবাহানার প্রতিবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্জুরী কমিশন বরাবর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়ার কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে।

দিনাজপুর সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ কমিটির নেতৃত্বে মানববন্ধনে দিনাজপুর মহিলা পরিষদ, নাগরিক উদ্যোগ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করে।

মানববন্ধনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রমজান আলীর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ দেয় এক ছাত্রী। পরে এই ঘটনায় হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পায়।

একইসাথে তার বিরুদ্ধে গৃহকর্মীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের ঘটনারও তথ্য পায়। এরই প্রেক্ষিতে ওই শিক্ষককে বহিস্কার করার সুপারিশ করে তদন্ত কমিটি। কিন্তু তাকে বহিস্কারের টালবাহানা করলে আন্দোলনে নামে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও মহিলা পরিষদ।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বহিস্কার করে এবং রিজেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হবে বলে জানায়। কিন্তু এই ঘটনার পর ৩টি রিজেন্ট বোর্ডের সভা হয়ে যাওয়ার পরেও তাকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করেনি। সর্বশেষ গত রিজেন্ট বোর্ডের সভায় ওই শিক্ষককে বহিস্কার করা হয়নি আদালতে তার বিরুদ্ধে স্ত্রীর দায়ের করা মামলা চলছে এমন অজুহাতে।

দিনাজপুর মহিলা পরিষদের সভাপতি ও হাইকোর্টের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নির্যাতন অভিযোগ কমিটির সদস্য কানিজ রহমান জানান, রমজান আলীর স্ত্রীর যৌতুকের মামলাটি ব্যক্তিগত। যার কারনে বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্তে যৌতুকের অভিযোগে স্ত্রীর মামলাটি অর্ন্তভুক্ত করা হয়নি। শুধুমাত্র ছাত্রীকে যৌন হয়রানী এবং গৃহকর্মীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের সত্যতা পেয়ে তা আমলে নিয়ে রমজান আলীকে চূড়ান্ত বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছিলো। অথচ যে বিষয়টি তদন্তে অর্ন্তভুক্ত নয় সেই বিষয়টি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রমজান আলীকে এ যাত্রায় আবারো রক্ষা করা হলো। এ সিদ্ধান্তের ফলে পরোক্ষভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানী ও অনৈতিক কর্মকান্ডর্কে সমর্থন দেওয়ার সামিল।

দিনাজপুর সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ কমিটির আহবায়ক শফিকুল ইসলাম বলেন, সন্তানদের সবচেয়ে নিরাপদ স্থান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের কাছে। অথচ হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়ে একের পর যৌন হয়রানীর ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় মেয়ে শিক্ষার্থীরা আতংকে রয়েছে। যৌন হয়রানীর ঘটনাও বেড়ে চলেছে। নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ইয়াসমিনের স্মৃতি বিজড়িত দিনাজপুরের হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শিবির ক্যাডার রমজান আলীকে বাঁচানোর সকল অপচেষ্টা রুখে দেওয়া হবে।

মানববন্ধনে আরো বক্তব্য রাখেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরামের সভাপতি প্রফেসর ড. বলরাম রায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ড. এটিএম সফিকুল ইসলাম, প্রফেসর ড. আব্দুর রশিদ, প্রফেসর ড. মামুনুর রশিদ, দিনাজপুর সম্মিলিত সাংষ্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি রেজাউর রহমান রেজু, মহিলা পরিষদের সাধারন সম্পাদক ড. মারুফা বেগম, নুরজাহান কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক রুহুল আমিন, কারেন্টহাট কলেজের অধ্যাপক লোকমান আলী, শিক্ষার্থী সুমাইয়া, জাকারিয়া, তানিয়া প্রমুখ।

এটি/জেডএস/

 

রংপুর: আরও পড়ুন

আরও