এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করলেন পুলিশ কর্মকর্তারা

ঢাকা, ১৭ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করলেন পুলিশ কর্মকর্তারা

একরাম তালুকদার, দিনাজপুর ৫:৫৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০১৯

এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করলেন পুলিশ কর্মকর্তারা

দিনাজপুরে কোনোপ প্রকার সুপারিশ ছাড়া নিজ যোগ্যতায় পুলিশে নিয়োগপ্রাপ্তদের বাড়িতে গিয়ে মিষ্টি বিতরণ করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা। পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে এমন শুভেচ্ছা পেয়ে কেঁদে ফেলেছেন নিয়োগপ্রাপ্তদের অভিভাবকরা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দিনাজপুরের সদর উপজেলার ৭নং উথরাইল ইউনিয়নের মালিগ্রাম এলাকায় সদ্য পুলিশে নিয়োগপ্রাপ্ত ফিরোজ হাসানের বাড়িতে যান দিনাজপুরের পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম। এ সময় তিনি ফিরোজ হাসানের মায়ের হাতে মিষ্টি তুলে দিয়ে তাদেরকে শুভেচ্ছা জানান। পুলিশের এমন শুভেচ্ছায় কেঁদে ফেলেন ফিরোজ হাসানের মা মোছাম্মত ফেরদৌস।

শুধু তিনিই নন, এ সময় আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন ফিরোজ হাসানের দাদা আব্দুর রহমানও।

ফিরোজ হাসানের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্বামী মারা গেছেন ২০১১ সালে। এরপর অনেক কষ্ট করে ছেলেটাকে পড়ালেখা করাচ্ছি। এবার পুলিশে আবেদন করে সে উত্তীর্ণ হয়েছে। এই নিয়োগে কোনো টাকা দিতে হয়নি। যদি টাকা দিতে হতো তাহলে আমার ছেলের চাকুরী হতো না। আর টাকা ছাড়া নিয়োগ পাওয়ার পর শুভেচ্ছা জানাতে পুলিশের কর্মকর্তারা আমার মতো গরীবের বাড়িতে এসেছেন এটা যে কত সৌভাগ্যের তা বলে বোঝানোর না। ছেলের যোগ্যতার জন্য আজ আমি এত সম্মানিত হলাম, সবাই দেখলো আমার বাড়িতে বড় কর্মকর্তারা।’

চাকুরী পাওয়া ফিরোজ হাসান বলেন, ‘আমরা খুব গরীব। টাকা দেয়ার সামর্থ্য নাই, পুলিশে চাকুরী পাওয়া একটা স্বপ্নের মতো ছিল। আজ সেই স্বপ্ন পূর্ণ হয়েছে। এখন আমি সংসারের কিছুটা হলেও স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে পারবো।’

পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম বলেন, ‘যারা উত্তীর্ণ হয়েছেন তারা নিজ যোগ্যতায় এতদূর এসেছেন। কোনো সুপারিশ ছাড়া, অর্থ ছাড়া এমন যোগ্যদের পাশে থাকতে চায় পুলিশ। তাই তাদেরকে শুভেচ্ছা জানানো, এতটুকু কাজ তো পুলিশ করতেই পারে। যোগ্যদের পাশে পুলিশ সবসময় থাকবে। আগামীতে পুলিশে যত নিয়োগ হবে তাতে কোনো অর্থ কিংবা তদবির করতে হবে না বলে কথা দেন তিনি।’

এ সময় দিনাজপুর সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার, কোতয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বজলুর রশিদ, বিরল থানার পরিদর্শক (ওসি) এটিএম গোলাম রসুলসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার বলেন, ‘যাদের বাড়িতে মিষ্টি নিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এটা তাদের প্রাপ্য। কারণ তারা নিজ যোগ্যতায় চাকুরী পেয়েছেন। প্রতিটি থানার ওসি ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের বলে দেয়া হয়েছে যে যাতে তারা সদ্য নিয়োগপ্রাপ্তদের বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এটা এক ধরনের পুরস্কার তাদের জন্য। আর আমরা যেন এটা বলতে পারি যে পুলিশে চাকুরী নিতে কোনো কথিত দালাল বা সুপারিশ প্রয়োজন হয় না।’

মালিগ্রাম থেকে পুলিশ কর্মকর্তারা যান একই উপজেলার উথরাইল এলাকার চানাচুর বিক্রেতা রঞ্জিত রায়ের বাড়িতে। সেখানে তার স্ত্রী সুধা রায় ও সদ্য পুলিশে নিয়োগ পাওয়া মনি রায়ের হাতে মিষ্টি তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান পুলিশের কর্মকর্তারা। এ সময় মনি রায় বলেন, ‘আমি পুলিশে চাকুরী পেয়েছি কোনো প্রকার ঘুষ ছাড়াই। আমিও যতদিন বেঁচে থাকতো ততদিন কোনো ঘুষ নিব না।’

মা সুধা রায় বলেন, ‘এটা অনেক বড় পাওয়া যে টাকা ছাড়াই চাকুরী পেয়েছে আমার মেয়ে। এটা একটা স্বপ্নের মতোই মনে হয় যে চানাচুর বিক্রেতার মেয়ে এখন পুলিশ। বাজারে বাজারে ওর বাবা চানাচুর বিক্রি করে। ঘুষ দিয়ে চাকুরী নেবে এমন সামর্থ তো আমাদের নেই। আবার পুলিশের কর্মকর্তারা মিষ্টি নিয়ে আমার বাড়িতে এসেছেন এটা এক মহা আনন্দের ব্যাপার।’

পরে পুলিশের কর্মকর্তারা বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর উত্তর বিষ্ণুপুর গ্রামের সুস্মিতা দেব শর্মার বাড়িতে। তার বাবা মারা গেছেন। সরকার বিনা টাকায় চাকুরী দিয়েছে এতে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন, সব ক্ষেত্রেই এমনটা হলে সমাজ বদলে যাবে। আমরা যারা আজ এভাবে পুলিশে চাকুরী পেলাম তারাও আগামীতে কোনো কাজে অনৈতিকভাবে টাকা আদায় করবো না।

বিরল উপজেলার মঙ্গলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার এলাকার মেয়ের চাকুরী হয়েছে। এটা এক আনন্দের ব্যাপার। আবার আরও আনন্দের ব্যাপার যে পুলিশ কর্মকর্তারা নিজেরাই এসেছেন শুভেচ্ছা জানাতে মিষ্টি নিয়ে।

এএসটি

 

রংপুর: আরও পড়ুন

আরও