নীলফামারীতে মুক্তা চাষে সফল দুই যুবক

ঢাকা, ২৮ আগস্ট, ২০১৯ | 2 0 1

নীলফামারীতে মুক্তা চাষে সফল দুই যুবক

নুর আলম, নীলফামারী ১২:১৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৯, ২০১৯

নীলফামারীতে মুক্তা চাষে সফল দুই যুবক

ঝিনুক থেকে মুক্তা চাষে সফল হয়েছেন নীলফামারীর দুই যুবক- জুলফিকার রহমান বাবলা ও আল মামুন বাবু।

জেলার ডোমারে নিজ পুকুরে তারা পরীক্ষামূলক মুক্তা চাষ করছেন।

জানা গেছে, ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের জামিরবাড়ী চাকধাপাড়া গ্রামের জুলফিকার রহমান বাবলা ও হাজিপাড়া গ্রামের সেলিম আল মামুন বাবু। তারা বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, ময়মনসিংহে প্রশিক্ষণ নিয়ে ‍নিজ এলাকায় শুরু করেন মুক্তা চাষ। নীলফামারীর সোনারায় ইউনিয়নের জামিরবাড়ী চাকধাপাড়ায় ৯০ শতকে বাবলা ও হাজিপাড়া গ্রামে ৫৭ শতকের পুকুরে বাবু মাছ চাষের পাশাপাশি শুরু করেন ঝিনুক থেকে মুক্তা চাষ।

সেলিম আল মামুন বাবু বলেন, ‘৫০ হাজার ঝিনুক সংগ্রহ করে পুকুরে ছাড়ি। সেখান থেকে ৬০০ ঝিনুকে মুক্তা হয়। পরীক্ষামূলক প্রকল্প হলেও মুক্তা আহরণে কাঙ্খিত সাফল্য এসেছে।’ তিনি জানান, তারা দীর্ষদিন ধরে বাণিজ্যিকভাবে মাছ উৎপাদন করে আসছিলেন। এরই মধ্যে মাছের পুকুরেই ঝিনুক থেকে মুক্তা চাষের সম্ভাবনার কথা চিন্তা করেন। এবং পরীক্ষমূলক শুরু করেন। এক বছরের মাথায় জুন মাসে ঝিনুক থেকে মুক্তা আহরণে সফল হন দুই উদ্যোক্তা।

বাবু বলেন, ‘প্রতি শতক জমিতে (জলাশয়ে) ৬০ থেকে ৭০টি ঝিনুকে মুক্তা উৎপাদন হয়েছে। এখানে প্রতিটি দেশি ঝিনুকে একটি করে মুক্তা হয়।’

তিনি জানান, মুক্তা চাষের জন্য প্রয়োজন কিছু সরঞ্জাম। এসব সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ঝিনুক অপারেশনের কিটবক্স, দুই ধরনের নেট বক্স ও ইমেজ তৈরির জন্য কিছু যন্ত্রপাতি। সাধারণত ১৮ থেকে ২০ মাস বয়সে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ইমেজটি স্থাপন করা হয় ঝিনুকের পেটে। এরপর দুই থেকে আড়াই ফুট পানির নিচে ডুবিয়ে রাখা হয় ঝিনুকগুলোকে। এভাবে ২১ থেকে ২৮ দিন রাখার পর সেগুলোকে উন্মুক্ত করা হয় পুকুরে। এরপর আট থেকে ১০ মাসের মধ্যে স্থাপিত ইমেজটি মুক্তায় পরিণত হয়। সবশেষে পুকুর থেকে ঝিনুক তুলে আহরণ করা হয় মুক্তা।

চাষীরা জানান, ঝিনুক সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রতিটি মুক্তা আহরণ পর্যন্ত খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ টাকা। আর প্রতিটি প্রমাণ সাইজের ঝিনুকের বাজার দাম প্রায় পাঁচ হাজার টাকা।

জুলফিকার রহমান বাবলা বলেন, মাছ চাষের প্রশিক্ষণ নিতে ময়মনসিংহের বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে যাই। সেখানে স্বাদু পানিতে মুক্তা চাষের প্রশিক্ষণ নিই। এরপর থেকে স্থানীয়ভাবে ঝিনুক ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করে মুক্তা চাষে নামি।

তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গের স্বাদু পানিতে মুক্তা চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এর ব্যাপকতা ছড়িয়ে পড়লে অনেক নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান হবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি সুদৃঢ় হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘আমাদের দেশের জলবায়ু মুক্তা চাষ উপযোগী। বাংলাদেশের শীতকাল দীর্ঘ নয় এবং সারা বছরই উষ্ণ আবহাওয়া বিদ্যমান থাকায় তা ঝিনুক বৃদ্ধি ও মুক্তা চাষের অনুকূলে। আমাদের দেশে জলাভূমিতে মাছ চাষের সঙ্গে মুক্তা চাষ সম্ভব। মুক্তা চাষ ব্যয়বহুল কিংবা কঠিন নয়।’

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নীলফামারী উপ-কেন্দ্রের  সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রাশিদুল হাসান বলেন, মুক্তা চাষের সম্ভবনা রয়েছে এই অঞ্চলে। বেশ কিছু জায়গায় এটির উৎপাদন হয়েছে। বেশ কয়েকজন যুবক প্রশিক্ষণ নিয়ে সফলতাও পেয়েছেন। সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে আরো সম্প্রসারণ ঘটিয়ে যুবকদের সম্পৃক্ত করণের ব্যাপারে।

তিনি বলেন, বাজার তৈরিসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে অর্থনৈতিক ভাবে এগিয়ে যাবেন চাষীরা।

এনএ/এসইউজে

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও