সাবেক এমপি কাদের খানের যাবজ্জীবন

ঢাকা, ২৩ জুন, ২০১৯ | 2 0 1

সাবেক এমপি কাদের খানের যাবজ্জীবন

মো শাহাদৎ হোসেন মিশুক, গাইবান্ধা ২:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৯

সাবেক এমপি কাদের খানের যাবজ্জীবন

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকারদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি_ মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলার মূল হোতা ও পরিকল্পনাকারী ডা. আব্দুল কাদের খানের বিরুদ্ধে দায়ের করা অস্ত্র মামলায় ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ‘ক্যাপিটাল এ’ ধারায় যাবজ্জীবন এবং ‘স্মল এফ’ ধারায় ১৫ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক এই আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, পৃথক ধারায় একটিতে যাবজ্জীবন ও আরেকটিতে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে কাদের খানকে।

এই মামলায় ১৮ জন স্বাক্ষী স্বাক্ষ্য দেন। রায় চলাকালীন আব্দুল কাদের খান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আব্দুল কাদের খান সুন্দরগঞ্জের ছাপড়হাটী ইউনিয়নের পশ্চিম ছাপড়হাটী খানপাড়া গ্রামের মৃত নয়ান খানের ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের সর্বানন্দ ইউনিয়নের উত্তর সাহাবাজ মাষ্টারপাড়া গ্রামের নিজ বাড়ীর ভিতরে কয়েকজন দুর্বৃত্তের হাতে গুলিবিদ্ধ হন তৎকালীন সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটন। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ১ জানুয়ারি মনজুরুল ইসলাম লিটনের বড় বোন ফাহমিদা বুলবুল কাকলী বাদী হয়ে ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

লিটন হত্যাকাণ্ডের পর আব্দুল কাদের খান তার ব্যবহৃত একটি পিস্তল সুন্দরগঞ্জ থানায় জমা দেন। এই হত্যা মামলার তদন্তে জাতীয় পার্টি (জাপা) কেন্দ্রীয় কমিটির তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান ও একই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আব্দুল কাদের খানকে মূল হোতা ও পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া শহরের রহমান নগরের বাসা থেকে গাইবান্ধা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে গাইবান্ধায় নিয়ে আসে। পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড চলাকালীন মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেন আবদুল কাদের খান। আব্দুল কাদের খান জানান পশ্চিম ছাপড়হাটী খানপাড়া গ্রামে তার নিজ বাড়ীর ভিতরে লিটন হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তল ও গুলি মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা আছে। ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ গিয়ে তল্লাশি করে একটি খালি ম্যাগজিনসহ পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলিসহ আরেকটি ম্যাগজিন উদ্ধার করে জব্দ করে। এই পিস্তল ও গুলির কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি আব্দুল কাদের খান।

পরে এ ঘটনায় ২৫ ফেব্রুয়ারি সুন্দরগঞ্জ থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু হায়দার মো. আশরাফুজ্জামান এজাহার দায়ের করলে মামলা নং ৪১ হিসেবে রুজু করা হয়। এই মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় সুন্দরগঞ্জের কঞ্চিবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মুক্তারুল আলমকে। তিনি ২০১৭ সালের ৫ এপ্রিল ডা. আব্দুল কাদের খানকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দায়ের করেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম জিন্না বলেন, আমার মক্কেল এই মামলায় ন্যায়বিচার পান নি। এই রায়ে মক্কেল সন্তুষ্ট না। জুডিশিয়াল মাইন্ড হলে আমার মক্কেল খালাস পেত। তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

এএসটি/

 

রংপুর: আরও পড়ুন

আরও