সৈয়দপুরে ফলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী

ঢাকা, ২১ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

সৈয়দপুরে ফলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী

নীলফামারী প্রতিনিধি ১০:৩১ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০১৯

সৈয়দপুরে ফলের বাজার ঊর্ধ্বমুখী

রমজান মাসকে কেন্দ্র করে সিন্ডিকেটের কবলে সৈয়দপুরে দেশীয় ও আমদানি নির্ভর ফলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী দর বিরাজ করছে। সাধ্যের বাইরে দরের কারণে ইফতার সামগ্রীর রেসিপিতে ফল জুটছে না নিম্নআয়ীদের।

সৈয়দপুরের শহরের মদিনা মোড়, রেলগেট, পাঁচমাথা মোড়,সোহেলা রানা মোড়সহ বিভিন্ন এলাকার খুচরা ফলের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় লিচু, কলা, বেল, তরমুজসহ আমদানি নির্ভর ফল আপেল, খেজুর, আঙ্গুর, ডালিম সারি-সারি করে সাজানো খুচরা দোকান।

দেখতে অনেকটা ছোট ফলের বাগান। তবে সব ফলেরই আকাশচুম্বি দর। বিশেষ করে ক’দিন আগেই কলা ১৬ থেকে ২০ হালি দরে পাওয়া যেত। সে কলা এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৮ টাকা হালি। প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরের একটি তরমুজ ১২০ থেকে ১৫০ টাকা। আনারস প্রতিটি ৮০ থেকে ৯০ টাকা। বেলের অবস্থা একই। একটি মধ্যম আকৃতির বেল ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এ দর চলছে দেশীয় ফলের। পাশাপাশি বিদেশি আমদানি করা ফলের বাজার দর আরো ঊর্ধ্বমুখী।

মকবুল হোসেন নামে এক খুচরা ফলের দোকানি জানায়, রোজার এক সপ্তাহ আগে ফাইভ স্টার খেজুর ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। সেই খেজুর ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ডাবাস খেজুর ছিল ১৩০ টাকা এখন ১৯০ থেকে ১৯৫, নাগাল খেজুর ছিল ৮০-৯০ টাকা বর্তমান ১২০, সাহারা খেজুর ৮০-৯০ টাকার স্থলে ১১০ টাকা এমনকি লেজিস খেজুরের অবস্থা একই।

আপেলের বাজার দরে গালা ১৮০, ফুজি ১৯০, হানি ১৭৫ টাকা কেজি ও হাড্ডি, রয়েল গালা একই দরে কেজি প্রতি কেনা হচ্ছে। অথচ এ সকল আপেল রোজার আগে বর্তমান দরের চেয়ে কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা দর কম ছিল।

আঙুর এমকেএস ১৮০ টাকা, লোকনাথ ৩২০ টাকা, সনু ১৯০ টাকা প্রতি কেজি। এই ফলেও কেজি প্রতি ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। একই ঊর্ধ্বমুখী দরে কেনা-বেচা হচ্ছে মালটা। মালটা পিরামিড, ওরেঞ্জ, রানি প্রতি কেজি ১৬২ টাকা দরে ক্রয় করতে হচ্ছে।

আর এ দরে কিনে খুচরা ব্যবসায়ীরা কেজি প্রতি দর বাড়ায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে ফলের ক্রয় ক্ষমতা।

এ নিয়ে খুচরা ব্যবসায়ী ও মোকাম মালিকদের সাথে কথা হলে তারা পরস্পরের কাঁধে এর দায় চাপিয়ে দিলেও সাধারণ ক্রেতারা মনে করছেন এটি সিন্ডিকেট বা কারসাজি।

সৈয়দপুরের পাঁচ মাথা মোড়ের খুচরা ফল বিক্রেতা আবিদ জানান, আমাদের করার কিছুই নেই। তারা সকালে একদর আবার বিকেলে একদর চাচ্ছেন। এক্ষেত্রে প্যাকেট বা বস্তা প্রতি ২শ থেকে ৩শ টাকা দর বাড়ানো হচ্ছে।

লাড্ডান নামে এক ফল খুচরা ফল বিক্রেতা পরিবর্তন ডটকমকে জানান, স্থানীয় বাজার ছাড়াও এখানকার ফলভান্ডারগুলো পুরো উত্তরাঞ্চল এমনকি দক্ষিণাঞ্চলেও ফল সরবরাহ করে। তারা বাইপাল থেকে তেঁতুলিয়া, কুড়িগ্রাম থেকে যশোর- বিশাল এ বাজারে সরবরাহের আধিপত্য করছেন। আর তাই রমজান মাসকে টার্গেট করে প্রতিদিন শুধু খেজুর সরবরাহ করা হয় দেড় কোটি টাকার।

এতে আমদানি করা বিশাল বাজারে এ মূল্যে সরবরাহ হওয়ায় স্থানীয় থেকে আঞ্চলিক ভোক্তারাও রোজায় ইফতার সামগ্রিতে ফল কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন।

ভোক্তারা জানান, রোজার আগে দেড় হাজার মণ খেজুর সৈয়দপুর নর্দান কোল্ড স্টোর থেকে বের করার পর মেয়াদোত্তীর্ণের অভিযোগে সৈয়দপুর নির্বাহী কর্মকর্তা জব্দ করে ধ্বংস করেন। এতে ফল ডিলাররা ক্ষিপ্ত হয়ে ফলের দর বাড়িয়েছে। এছাড়া এর জন্য সরকারের দুর্বল বাজার মনিটরিং ব্যবস্থাকেও দায়ী করছেন তারা।

দামবৃদ্ধি কৃত্রিম কারসাজি না অন্য কিছু এ নিয়ে জানতে চাইলে বিক্রমপুর ফল ভান্ডারের প্রোপাইটার শাহ আলম ও বিছমিল্লাহ ফল ভান্ডারের প্রোপাইটার বাদশা বলেন, ফণীর প্রভাবে এমন হয়েছে। অনেক জাহাজ ঘাটে নোঙর করতে না পারায় ফল নিয়ে দেরিতে প্রবেশ করায় সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে দাম বেড়েছে। আর দাম বাড়ানোয় কোনো সিন্ডিকেট করা হয়নি। মূল মোকাম থেকে দাম বাড়ানোয় এ অবস্থা হয়েছে।

সৈয়দপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) পরিমল কুমার সরকার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, আমরা নিয়মিত বাজার মনিটরিং করছি। চলছে অভিযান। এক্ষেত্রে ফলের বাজার দরের অসামঞ্জস্য পাওয়া গেলে তখনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এইচআর

 

রংপুর: আরও পড়ুন

আরও