বিঘাপ্রতি ধান চাষীদের লোকসান ২ হাজার টাকা

ঢাকা, ১ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

বিঘাপ্রতি ধান চাষীদের লোকসান ২ হাজার টাকা

একরাম তালুকদার, দিনাজপুর ২:২৭ অপরাহ্ণ, মে ১৪, ২০১৯

বিঘাপ্রতি ধান চাষীদের লোকসান ২ হাজার টাকা

উৎপাদন মৌসুমের শুরুতেই বোরো ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ধানের জেলা দিনাজপুরের কৃষকরা। বাজারে ধান বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না তারা। এই অবস্থায় বোরো ধান আবাদ করে এবার চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন ধানের জেলার কৃষকরা।

বাজারে ধানের দাম না থাকায় ইতিমধ্যেই যারা ধান কেটেছেন করেছেন, তারা বাজারে পানির দামে ধান বিক্রি করে হতাশ ও বিমর্ষ হয়ে বাড়ী ফিরছেন। আর যারা এখনও ধান কাটেন নি, তারা চড়াদামে মজুরী দিয়ে ধান কাটার সাহস পাচ্ছেন না।

দিনাজপুরের অন্যতম বৃহৎ ধানের বাজার সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ ধানের হাটে গিয়ে সোমবার দেখা যায়, বোরো ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতিমন ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। কৃষকরা  জানান, এই দামে ধান বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা উৎপাদন খরচও উঠবে না তাদের। বাজারে দাম না থাকায় বাধ্য হয়েই লোকসান দিয়ে ধান বিক্রি করছেন তারা।

গোপালগঞ্জ হাটে ধান বিক্রি করতে আসা সদর উপজেলার নশিপুর গ্রামের কৃষক হাফিজউদ্দীন জানান, প্রতিবিঘা জমিতে ধান উৎপাদন করতে খরচ হয়েছে সব মিলিয়ে ১৮ হাজার থেকে ১৯ হাজার টাকা। আর একবিঘা জমিতে ধান উৎপাদন হয়েছে ৩৪ মন। এক বিঘা জমির ধান বাজারে বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন ১৭ হাজার টাকা। এতে লাভ তো দূরের কথা এক বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করে উৎপাদন খরচেই তার লোকসান গুনতে হচ্ছে ২ হাজার টাকা। তিনি জানান, ধার-দেনা করে বোরো ধান আবাদ করার পর তিনি ধার-দেনা শোধ করবেন কিভাবে, আর খাবেনই বা কি? একই কথা জানান, বাজারে ধান বিক্রি করতে আসা অন্য কৃষকরাও।

খোজ নিয়ে জানা যায়, বোরো ধান কাটার ভরা মৌসুম শুরু হওয়ায় শ্রমিক সংকটের কারণে চড়া দাম দিয়ে কৃষি শ্রমিক নিয়োগ করতে হচ্ছে। প্রতি বিঘা জমির ধান কাটা ও মাড়াই করতে শ্রমিকদের দিতে হচ্ছে ৫ হাজার টাকা। এর উপর বাজারে ধানের দাম না থাকায় ধান কাটতেও সাহস পাচ্ছেন না কৃষকরা।

দিনাজপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কৃষক মোঃ সহিরউদ্দীন জানান, বর্গা নিয়ে ৪ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছেন তিনি। চাষ, সার, কীটনাশক, বীজ ও সেচসহ ৪ বিঘা জমিতে তারা মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার টাকা। এখন প্রতি বিঘা জমির ধান কাটা ও মাড়াই করতে কৃষি শ্রমিকরা চাচ্ছে ২০ হাজার টাকা এবং কৃষি শ্রমিকরা ধান কাটার সাথে সাথেই মজুরীর টাকা বুঝে নেবে। এই অবস্থায় বাজারে ধানের দাম না থাকায় বোরো কাটতে সাহস পাচ্ছেন না তিনি।

দিনাজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ তৌহিদুল ইকবাল পরিবর্তন ডটকমকে জানান, দিনাজপুরে জেলায় এবার মোট ১ লাখ ৭৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই বোরো ধান কাটা শুরু করেছে কৃষকরা।

বাজারে বোরো ধানের দাম না থাকার কথা স্বীকার করে তিনি জানান, দিনাজপুরে এখনও বোরো সংগ্রহ অভিযান শুরু করেনি খাদ্য বিভাগ। তবে বোরো সংগ্রহ অভিযান শুরু হলে বাজারে ধানের বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে সারাদেশে গত ২৫ এপ্রিল বোরো সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও এখনও দিনাজপুরে শুরু হয়নি বোরো সংগ্রহ অভিযান। আর এই সুযোগেই বাজারে ইচ্ছামত দামে ধান কিনছেন মিল মালিক ও মধ্যস্বত্বভোগীরা।

দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ আশ্রাফুজ্জামান পরিবর্তন ডটকমকে জানান, দিনাজপুরে এবার ৮৫ হাজার ৪৭ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল, ৮ হাজার ৭৮৪ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৫ হাজার ৪৮ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ২ হাজার ৪৭৯ জন মিল মালিকের সাথে চুক্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। দিনাজপুরে মাত্র ৫ শতাংশ জমিতে বোরো ধান কাটায় এখনও বোরো সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয়নি।

তবে আগামী ৪/৫ দিনের মধ্যেই বোরো সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হবে বলে জানান জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। 

দিনাজপুরে বোরো ধানের দাম কম থাকার কথা স্বীকার করে নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি জানান, বিষয়টি নিয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে আলাপ আলোচনা করা হবে।

তিনি জানান, কৃষি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বর্তমান সরকার কৃষকদের বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে আসছে। সার নিয়ে ও কৃষি উপকরণ নিয়ে কৃষকদের আর উদ্বেগের মধ্যে থাকতে হয় না।

এরপরও কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পায়, সে ব্যাপারে সরকার সজাগ রয়েছে বলে জানান সরকারী নীতি নির্ধারক পর্যায়ের এই প্রতিমন্ত্রী।

এএসটি/

 

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আরও