কুড়িগ্রামে বড়াইবাড়ী সীমান্ত ট্র্যাজেডির ১৮ বছর পূর্তি

ঢাকা, সোমবার, ২০ মে ২০১৯ | ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

কুড়িগ্রামে বড়াইবাড়ী সীমান্ত ট্র্যাজেডির ১৮ বছর পূর্তি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ৮:১৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

কুড়িগ্রামে বড়াইবাড়ী সীমান্ত ট্র্যাজেডির ১৮ বছর পূর্তি

কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী উপজেলার বড়াইবাড়ী সীমান্ত ট্র্যাজেডির ১৮ বছর পূর্তিতে বড়াইবাড়ী দিবস নানা আয়োজনে পালন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এ ট্র্যাজেডিতে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, চলমান নির্মাণিত ব্রিজ ও রাস্তা তিন শহীদদের নামে নামকরণ করাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছেন এলাকাবাসী।

২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল এই দিনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বড়াইবাড়ী গ্রামে ঢুকে তৎকালীন বড়াইবাড়ী বিডিআর ক্যাম্প দখলে নিতে গুলি চালায়। তবে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) ও গ্রামবাসীদের মিলিত প্রতিরোধে হার মানে বিএসএফ।

এ ঘটনায় নিহত হন বাংলাদেশের তিন বিডিআর জওয়ান আর বিএসএফের ১৬ জন।

সেই থেকে ১৮ এপ্রিল বড়াইবাড়ী সীমান্ত ট্র্যাজেডির ঐতিহাসিক এই দিনটি পালিত হচ্ছে ‘বড়াইবাড়ী দিবস’ হিসেবে।

এ দিবস পালন উপলক্ষে বড়াইবাড়ী, চুলিয়ারচর, বারবান্দা উদযাপন কমিটির আয়োজনে রৌমারী উপজেলাবাসী সকাল থেকে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি হাতে নেয়।

কর্মসূচিতে ছিল বর্ণাঢ্য র‌্যালি, বড়াইবাড়ী গ্রামে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের।

সকাল ৯টায় শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন সাবেক এমপি রুহুল আমিন, বড়াইবাড়ী বিজিবি ক্যাম্প, সাংবাদিকবৃন্দ, চুলিয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বারবান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলাবাড়ি বিবিসি উচ্চ বিদ্যালয়, বকবান্দা উচ্চ বিদ্যালয়, বড়াইবাড়ী ও বারবান্দা গ্রামবাসির পক্ষে, বারবান্দা সূর্য সংগঠনসহ এলাকার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন।

রৌমারী সদর ইউপি সদস্য আরসাদ হোসেন হেলালের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন—প্রধান অতিথি সাবেক সংসদ সদস্য রুহুল আমিন, বিশেষ অতিথি ছিলেন রৌমারী উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মাহমুদা আকতার স্মৃতি, রাজীবপুর ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ মোকলেছুর রহমান, শৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হাবিল, রৌমারী সদর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম শালু, সাংবাদিক মতিয়ার রহমান চিশতী, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ হারুন, বড়াইবাড়ী ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বিজিবি ক্যাম্পে সামনে শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, চলমান নির্মাণিত ব্রিজ ও রাস্তা তিন শহীদের নামে নামকরণ করাসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালের ১৮ এপ্রিল ভোররাতে ভারতের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশ অভ্যন্তরে অবৈধভাবে প্রবেশ করে তৎকালীন বড়াইবাড়ী বিডিআর ক্যাম্প দখল নিতে বড়াইবাড়ী  গ্রামের ঘুমন্ত মানুষের ওপর হামলা চালায় ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। ওই দিন হামলার জবাব দেয় বিডিআর (বর্তমোনে বিজিবি)। বিডিআরের সঙ্গে যোগ দেয় জনতা। সেই প্রতিরোধে বিএসএফ ১৬ জনের মরদেহ ফেলে পালিয়ে যায়।

ওইদিন বিএসএফের গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন ৩৩ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের ল্যান্স নায়েক ওয়াহিদুজ্জামান, সিপাহি মাহফুজার রহমান এবং ২৬ রাইফেলস্ ব্যাটালিয়নের সিপাহি আবদুল কাদের। এ ছাড়া আহত হন বিডিআরের হাবিলদার আবদুল গনি, নায়েক নজরুল ইসলাম, ন্যান্স নায়েক আবু বকর সিদ্দিক, সিপাহি হাবিবুর রহমান ও সিপাহি জাহিদুর নবী।

এমএ