ক্রাইস্টচার্চে নিহত সামাদের বাড়ি কুড়িগ্রামে শোকের মাতম

ঢাকা, ১৫ জুলাই, ২০১৯ | 2 0 1

ক্রাইস্টচার্চে নিহত সামাদের বাড়ি কুড়িগ্রামে শোকের মাতম

ইউনুছ আলী আনন্দ, কুড়িগ্রাম ৯:৪০ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০১৯

ক্রাইস্টচার্চে নিহত সামাদের বাড়ি কুড়িগ্রামে শোকের মাতম

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে আল নূর মসজিদে হামলার ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশির একজন হচ্ছেন—কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার  বাসিন্দা কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. আবদুস সামাদ। তিনি নাগেশ্বরীর মধুর হাইল্ল্যা গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে।

মৃত্যুর খবর শোনার পর নিহতের বাড়ি মধুর হাইল্ল্যা গ্রামে বিরাজ করছে শোকের ছায়া।

শুক্রবার সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা শোকে মুহ্যমান। এলাকাবাসীর মধ্যেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ঘরের ভেতর ড. সামাদের বড়ভাই মতিয়ার রহমান অসুস্থ অবস্থায় পড়ে আছেন। তিনি কাউকে কিছুই বলতে পারছেন না।

গ্রামের বাড়িতে ড. সামাদের ভাতিজা আবদুল মান্নান বিলাপ করছেন, আমার আর নিউজিল্যান্ডে যাওয়া হলো না। আমি হাফেজ হলে চাচা আমাকে নিউজিল্যান্ডে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। এখন কে আমাকে নিয়ে যাবে? 

আরেক ভাতিজা মামুন বলেন, চাচা এপ্রিল মাসে বাড়িতে আসতে চেয়েছিলেন। এখন আসবেন লাশ হয়ে।

ড. সামাদের বোনজামাই আহম্মদ আলী বলেন, সামাদ ভাই অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন। তার এই মৃত্যু আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। যারা আমার ভাইকে নিমর্মভাবে হত্যা করেছে, তার ফাঁসি চাই।

তিনি আরও জানান, ড. সামাদের স্ত্রী কিশোয়ারা বেগম নিরাপদে আছেন।

নিহত ড. সামাদ আজাদের ছোট ভাই শামছুজ্জামান জানান, আমাদের ১০ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড়। সন্ত্রাসী হামলায় তার নিহত হওয়ার খবর শোনার পর আমরা হতভম্ব।

নাগেশ্বরী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল ইমরান জানান, নিউজিল্যান্ডে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ড. আবদুস সামাদের মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়েছি।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রকাশনা বিভাগের উপ-পরিচালক দ্বীন মোহাম্মদ দিনু পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ড. আবদুস সামাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ব বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি ৫-৬ বছর  আগে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসরে যান। পরে তিনি  স্ত্রীসহ দুই সন্তান নিয়ে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি ডিগি নেন।

নিউজিল্যান্ডে স্ত্রী কিশোয়ারাসহ দুই ছেলে তানভীর ও তারেক সাথেই থাকতেন। বড় ছেলে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার তোহা মোহাম্মদ ঢাকায় একটি কোম্পানিতে কর্মরত।

এমএ

 

রংপুর: আরও পড়ুন

আরও