রংপুরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে জমি নির্বাচন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ | ৯ ফাল্গুন ১৪২৫

রংপুরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে জমি নির্বাচন

রংপুর অফিস ৯:৫২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

রংপুরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে জমি নির্বাচন

রংপুরে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) স্থাপনের জন্য জমি নির্বাচন করা হয়েছে। রংপুর জেলা প্রশাসন গঙ্গাচড়া উপজেলায় প্রায় ২৫৪ দশমিক ২৩ একর খাসজমি চিহ্নিত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) ব্যবস্থাপক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) বরাবর পাঠিয়েছে।

রংপুর জেলা প্রশাসকের দাবি—জমিটি ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত। তাই অধিগ্রহণের প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া শ্রমিকের সহজলভ্যতা থাকায় প্রস্তাবিত এলাকায় শ্রমঘন শিল্পকারখানা স্থাপনের সুযোগ রয়েছে।

২০০৮ সালে রংপুর বিভাগে উন্নীত হওয়ায় সারা দেশের সাথে এমনকি ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চল, নেপাল ও ভুটানের সাথে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু জেলার একমাত্র বিসিক শিল্পনগরীতে দীর্ঘদিন থেকে শিল্প সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি এবং অবকাঠামো সুবিধা না থাকায় শিল্পকারখানা নির্মাণে উৎসাহী হচ্ছেন না নতুন উদ্যোক্তারা। তাই উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে এবং এ অঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের জন্য ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে এসএজেড স্থাপনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

তাদের দাবির প্রেক্ষিতে বেজার ব্যবস্থাপক যুগ্ম সচিব (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মনিরুজ্জামান সরকারি খাসজমি প্রাধান্য দিয়ে রংপুর জেলায় ২০০ থেকে ৩০০ একর বা তদূর্ধ্ব জমি এসইজেড প্রতিষ্ঠায় জরুরি ভিত্তিতে কিছু তথ্য পাঠানোর জন্য রংপুরের জেলা প্রশাসককে অনুরোধ করেন।

প্রায় এক বছর আগে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এসইজেড) স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জমির তথ্য চেয়ে বেজা কর্তৃপক্ষ রংপুরে জেলা প্রশাসনে চিঠি পাঠালে তা অজ্ঞাত কারণে উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি। ফলে উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

বর্তমান জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীব রংপুরে যোগদান করে এ ব্যাপারে বিভিন্ন উপজেলা পরিদর্শন করে উপযুক্ত জমির খোঁজ করতে থাকেন। অবশেষে গঙ্গাচড়া উপজেলায় এসইজেড স্থাপনের জন্য উপযুক্ত খাসজমি নির্বাচন করে ২০১৮ সালের ১৮ জুন বেজার ব্যবস্থাপক যুগ্ম সচিব (বিনিয়োগ উন্নয়ন) বরাবর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠান।

প্রস্তাবিত স্থানটি তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত শেখ হাসিনা সড়ক সেতুর উত্তর প্রান্তের লাগোয়া এবং কাকিনা (লালমনিরহাটের কালিগঞ্জ উপজেলা) রংপুর সড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত। এই স্থান থেকে সড়ক, রেল ও নৌ—তিন পথেই যোগাযোগ স্থাপন সহজ। রংপুর থেকে ১০ কিলোমিটার এবং লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার কাকিনা রেলস্টেশন থেকে চার কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত।

পাশাপাশি নৌপথে এ স্থান থেকে সহজেই নীলফামারী ও লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং রংপুর জেলার কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার সাথে যোগাযোগ সম্ভব। এ ছাড়াও প্রস্তাবিত স্থান থেকে লালমনিরহাটের বুড়িমারীস্থল বন্দরের সঙ্গে সড়ক ও রেলপথে যোগাযোগও সম্ভব। ফলে কম খরচে বুড়িমারী স্থল বন্দরের মাধ্যমে ভারত, নেপাল ও ভুটানে সড়ক ও রেলপথে পণ্য পরিবহন করা সহজ। এমনকি তিস্তা নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নৌ চ্যানেল বিস্তৃত করে ভারতে পণ্য পরিবহন সম্ভব। প্রস্তাবিত এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত জমির লাগোয়া পূর্বপাশে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের এবং ইন্ট্রাকো সোলার পাওয়ার লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সোলার পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। প্রয়োজনে উৎপাদিত সৌরশক্তি এ অর্থনৈতিক জোনে স্থাপিত শিল্পে ব্যবহার করা যাবে।

সরেজমিনে মঙ্গলবার সকালে গংঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, ইচলি মৌজার ৬৬৮ নং দাগে খাসজমিতে চলছে পুরোদমে আবাদ। কিছু লোকজন কাঁচা এবং টিনশেড বাড়ি করে বসবাস করছেন।

এ সময় কথা হয় স্থানীয় সার্ভেয়ার (আমিন) মোফাজ্জল হোসেনের সাথে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জমি মাপার পেশার সাথে সম্পৃক্ত।

তিনি নিশ্চিত করে বলেন, ইচলি মৌজার ৬৬৮ নং দাগের জমি ১ নং খাস খতিয়ানের। আগে ব্রিজ না থাকায় ওই জমির প্রতি দখলদারদের তেমন দৃষ্টি ছিল না। কিন্তু এখন যাতায়াতের সুবিধার জন্য অনেকের চোখ পড়েছে জমিটি ওপর।

রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, রংপুরে এসইজেড স্থাপনের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। তাদের চাহিদামতো প্রস্তাবিত জমি নির্বাচন করে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রাদি বর্তমান জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীব বেজা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন।

তিনি বলেন, এসইজেড স্থাপিত হলে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চল, নেপাল ও ভুটানের সাথে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি দ্রুত এসইজেড স্থাপনের পরবর্তী কর্মকাণ্ড শুরু করার জন্য বর্তমান সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শির বাড়ি রংপুর। তাই তিনি (মন্ত্রী) ভালো করে জানেন, পিছিয়ে পড়া এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে এসইজেড স্থাপনের কোনো বিকল্প নেই।

জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীব জানান, ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রাদি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন সম্ভাব্যতা যাচাইসহ পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

এমএ