খুঁজে খুঁজে কম্বল দিচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের ডিসি

ঢাকা, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০১৯ | ১১ চৈত্র ১৪২৫

খুঁজে খুঁজে কম্বল দিচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের ডিসি

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি  ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

খুঁজে খুঁজে কম্বল দিচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের ডিসি

ঠাকুরগাঁওয়ে রাতে বাড়ি বাড়ি খুঁজে অসহায় দরিদ্র মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম।

বেশ কয়েক দিন ধরেই তার এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শুক্রবার রাতেও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।  

শহরের বিভিন্ন হোটেলে কর্মরত শ্রমিকদের শীতবস্ত্র দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। শহরের ভাগ্যকুল মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের পরিছন্নকর্মী সালেকুর রহমান জানান, এই প্রথমবার কেউ আমাকে  কম্বল দিলেন। আমি রাত-দিন হোটেলে কাজ করি। শীতের সময় অনেকেই কম্বল পায়। কিন্তু আমার কপালে জোটে না। এবার ডিসি স্যার নিজে এসে কম্বল দিলেন। কী যে ভাল লাগছে তা প্রকাশ করতে পারব না।

জেলা প্রশাসকের হাত থেকে কম্বল পেয়ে আকচা গ্রামের  ৯০ বছর বয়সী মোনষী বেওয়া বলেন, এবার তোমার কম্বলটা দিয়া জার (শীত) পালাবে। এবার তোমার কম্বলটা দিয়া জার কাটবে স্যার। হামার (আমাদের) এইতি (এদিকে) সব সময় আগত (আগে) জার (শীত) শুরু হয়। হামার গ্রামোত (গ্রামে) তোমা (আপনারা) ছাড়া কোনোদিন আর কাইয়োই (কেউই) কম্বল দেয় নাই। এ কম্বলকোনা (কম্বলটি) গাত (শরীরে) দিয়া (দিয়ে) কোনো রকম আইত (রাত) কাটমো (কাটানো যাবে) এবার। হামা (আমরা) গরিব মানষি (মানুষ)। কেউই হামার (আমাদের) খোঁজখবর নেয় না।

বৃদ্ধা মানষী বেওয়ার মতোই অনুভূতি জানালেন একই এলাকার মেনেকা রানী (৭৫), বিনোদিনী বালা (৮৫), আবেদল আলী (৬৫) ও বুধারাম রায় (৮০)।  

একই এলাকার আসমা খাতুন বলেন, ছয় সন্তান নিয়ে এলাকায় ঝুঁপড়ি ঘরে থাকি। স্বামী নেই। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খুবই কষ্টে থাকি। এক বেলা খেতে পারি তো আর এক বেলা খেতে পারি না। ডিসি স্যারের কম্বলটা খুবই কাজে লাগেবে। তার প্রতি আশীর্বাদ থাকল।

কম্বল বিতরণে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নুর কুতুবুল আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শীলাব্রত কর্মকার এবং এনডিসি মো. তরিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সহযোগিতা করছেন।

গত কয়েক রাতে সদর উপজেলার খালপাড়া, ডাক্তারপাড়া, মাস্টারপাড়া ও নারগুনের কৃষ্ণপুর গ্রামে এবং রোড রেল স্টেশন এলাকাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে শীতার্তদের মধ্যে পাঁচ হাজারেরও বেশি কম্বল বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক।  

জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে মানুষ শীতে কাবু হয়ে যায়। তাই শীত এখানে দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করে থাকে। ফলে আমরা প্রত্যেক ব্যক্তির বাড়ি গিয়ে তাদের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করে শুধু অসহায়দেরই শীতবস্ত্র দিচ্ছি।

সমাজের বিত্তবানসহ সচ্ছল ব্যক্তিদের অসহায় ও দুস্থদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এমএ