এখন কেউ ঝুঁকি না নিয়ে যান ক্লিনিকে

ঢাকা, বুধবার, ১৯ জুন ২০১৯ | ৫ আষাঢ় ১৪২৬

এখন কেউ ঝুঁকি না নিয়ে যান ক্লিনিকে

নীলফামারী প্রতিনিধি ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

এখন কেউ ঝুঁকি না নিয়ে যান ক্লিনিকে

প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি নিরাপদ প্রসব কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে গ্রামে গ্রামে অবস্থিত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো (সিসি)।

ইতোমধ্যে জেলার ১৬টি কমিউনিটি ক্লিনিকে পুরোদমে শুরু হয়েছে গর্ভবতী মায়েদের সন্তান প্রসব।

প্রয়োজনীয় পরামর্শ, চেকআপ করাসহ প্রতি মাসে মাসে সিসিতে গিয়ে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের (সিএইচসিপি) সহযোগিতা নিচ্ছেন গর্ভবতী মায়েরা।

নীলফামারী সদরের পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের তছির উদ্দিন ক্লিনিকের সিএইচসিপি মনসুরা আক্তার জানান, আমার এখানে প্রতি মাসে দুই একজন করে গর্ভবতী মায়ের সন্তান প্রসব করানো হয়।

২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে এখানে এ কর্মসূচী শুরু হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণের ফলে দক্ষতার সাথে মায়েদের সেবা কার্যক্রম দেয়া হয়।

তিনি বলেন, গর্ভবতী মায়েদের জন্য খোঁজ খবর রাখার জন্য মোবাইল ফোন নম্বর খাতায় লিখে রাখা হয়েছে। কোনো মাসে যদি না আসেন তাহলে ফোন করে খোঁজ খবর নেয়া হয়।

পাঁচ মাসের অন্তস্বত্বা দুলালী বেগম জানান, আমি প্রতি মাসে মাসে ক্লিনিকে গিয়ে আপার সাথে পরামর্শ করে আসি। চেকআপ করা, খাদ্যগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে থাকেন আপা।

কচুকাটা ইউনিয়নের দুহুলী কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি স্বপ্না রানী রায় জানান, আমার ক্লিনিকে ২০১৪সাল থেকে নিরাপদ প্রসব কেন্দ্র হিসেবে চালু হয়। প্রতি মাসেই ডেলিভারি হয়ে থাকে এখানে।

প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং সচেতনতা সৃষ্টির ফলে গ্রামের কেউ আর বাড়িতে সন্তান প্রসব করান না। প্রসব বেদনা শুরু হলেই ক্লিনিকে নিয়ে আসেন গর্ভবতী মাকে।

কচুকাটা গ্রামে রাশেদা বেগম জানান, গর্ভবতী হওয়ার পর থেকেই আমি ক্লিনিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে সেবা গ্রহণ করি। সেখানেই আমার সন্তান প্রসব হয়। এখন আমি ও আমার সন্তান ভালো রয়েছে।

একই এলাকার জাহানারা বেগম বলেন, আগোত বাড়িতে বাড়িতে সন্তান প্রসব করানো হতো। এখন আর কেউ ঝুঁকি নেয় না। কোনো সমস্যা হলে ক্লিনিকে যায়। ওখানে ভালো চিকিৎসা পাওয়া যায়, এমনকি ওষুধও দেন ডাক্তার আপা।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, জেলার ১৯২টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ১৬টি নিরাপদ প্রসব কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখানে প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রদান, প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে সিএইচসিপিদের। পাশাপাশি সহযোগিতা করছে বেসরকারি সংস্থা ল্যাম্ব।

সিভিল সার্জন ডা. রণজিৎ কুমার বর্মণ জানান, বাড়িতে প্রসব শুন্যের কোটায় নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে।

এ জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা মাঠ পর্যায়ে উদ্বুদ্ধকরণসহ বাড়িতে প্রসবের ঝুঁকির বিষয় অবহিত করছেন জনগণের মাঝে।

তিনি জানান, শুধু নিরাপদ প্রসব নয় ২৮ প্রকারের ওষুধ প্রদান করা হচ্ছে রোগীদের জন্য।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী উদ্যোগ কমিউনিটি ক্লিনিক। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে সিসিগুলো চালু করলেও ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দেয়। এর ফলে গ্রামের মানুষদের চিকিৎসা সেবা হুমকীর মুখে পড়ে।

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু কন্যার যুগোপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে গর্ভবতী মায়েরাও উপকারভোগী হচ্ছেন। বাড়িতে বাড়িতে আর সন্তান প্রসব করানো হচ্ছে না। নিরাপদ কেন্দ্র হিসেবে সিসিগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে।

এআরই