নীলফামারীতে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিল বন্ধের দাবী স্থানীয়দের

ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫

নীলফামারীতে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিল বন্ধের দাবী স্থানীয়দের

নীলফামারী প্রতিনিধি ২:৪০ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০১৮

নীলফামারীতে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিল বন্ধের দাবী স্থানীয়দের

পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা সত্বেও নীলফামারী শহরের আজিজুল হক অটো রাইস মিল বন্ধ না করায় ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছেন ভুক্তভোগীরা।  মিলটি দ্রুত বন্ধ করার দাবীতে ইতোমধ্যে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিলসহ জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয়রা।

তবে মিল কর্তপক্ষ বলছেন যথাযথ নিয়মানুসারে এবং এলাকার পরিবেশ যাতে ঠিক থাকে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করেই মিলটি পরিচালনা করা হচ্ছে। একটি মহল তাদের স্বার্থ হাছিল না হওয়ায় মিল বন্ধের পাঁয়তারায় লিপ্ত হয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে ২০১০ সালে জেলা শহরের সরকার পাড়া আবাসিক এলাকায় আজিজুল হক অটো রাইস মিল চালু করা হয়। মিলের চিমনি দিয়ে বের হওয়া ধোঁয়া, ছাই, বর্জ্য, ময়লা আবর্জনা, নোংরা পানি এবং বিকট শব্দ এলাকার পরিবেশকে মারাত্মক ভাবে দুষিত করছে। হুমকির মুখে পড়েছে জনস্বাস্থ্য। পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি খাল থাকলেও সেটি বন্ধ করে দিয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ।

বারইপাড়ার ভুক্তভোগী মেহেরুন নেছা অভিযোগ করে বলেন, মিল চলাকালে মেশিনের বিকট শব্দে বাড়িতে থাকা যায় না। ধানের পঁচানো দুর্গন্ধ এবং বয়লারের উড়ন্ত ছাই ও ধুলা বাহিরে এসে পড়ায় রাস্তায়ও দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। এমনকি কাপড় শুকানোও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দূষণের কারণে গাছপালা এবং পশু পাখির জীবন বিপন্ন হতে বসেছে এখানকার।

ব্যবসায়ী সুমন ইসলাম বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি খাল থাকলেও সেটি মিলের বর্জ্য, ময়লা আবর্জনা দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন মিল কর্তৃপক্ষ। মিলের নোংরা পানি বের হয়ে খালটিকে নষ্ট করে ফেলেছে। সেখানে নামলে শরীরে চুলকানী হয়।  খেতে বসলেও মিলের ছাই ও ধুলো এসে প্লেটে পড়ে। রাতে ঠিকমত ঘুমানো যায় না। এ নিয়ে মিল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি বারবার জানানো হলেও তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করে দিব্যি মিল চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয় আতর ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, মিলের আশপাশে সহস্রাধিক মানুষ বাস করেন। রয়েছে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। মিলের দুগর্ন্ধের কারণে এলাকায় শ্বাসকষ্টের রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। প্রায়ই হাসপাতালে যেতে হচ্ছে স্থানীয়দের। বিশেষ করে ছোট ছোট শিশুরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে মিলের অব্যবস্থাপনার কারণে।

স্থানীয়রা জানান, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে অভিযোগ দেয়া হলে তদন্ত শেষে এলাকাবাসীর অভিযোগের সত্যতা পান পরিবেশ অধিদপ্তর। যার প্রেক্ষিতে চলতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে মিলটি বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয় অধিদপ্তর থেকে। নির্দেশনা সত্বেও মিলটি বন্ধ করছেন না কর্তৃপক্ষ।
তবে মিল কর্তৃপক্ষ বলছে প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে বসত বাড়ি ছিলো না বললেই চলে। তারপরও প্রয়োজনীয় নিয়ম অনুসরণ করে মিলটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মিলে ছাই, ধোঁয়া এবং অন্যান্য ক্ষতিকর জিনিস যাতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট না করে সেজন্য প্রয়োজনীয় মেশিন বসানো হয়েছে। এখন আর পরিবেশ দুষণ করছে না।

আজিজুল হক অটো রাইস মিলের পরামর্শক মোস্তাফিজুর রহমান দুলাল বলেন, এলাকার শতাধিক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে মিলটি স্থাপনের ফলে। উপার্জনের পথ তৈরি হয়েছে দরিদ্র অতিদরিদ্র মানুষদের। বাহিরে থেকে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে সেগুলো কিছু লোকের স্বার্থের কারণে। তারা অপচেষ্টায় লিপ্ত। প্রয়োজনে আমরা আদালতের শরণাপন্ন হবো মিলটি চালু রাখার ব্যাপারে।

মিলের শ্রমিক সাদেক আলী স্থানীয় কিছু মানুষের অভিযোগ সঠিক নয় দাবী করে বলেন, মিলের ভিতরে ধোঁয়া, বালু, ছাই যাতে বাহিরের ক্ষতি না করে সেজন্য সাইক্লোন মেশিন রয়েছে। আমরা শ্রমিকরা এখানে কর্ম করে খাই, স্থানীয় কিছু মানুষ চাইছে না মিলটি থাক।

তবে মিলের স্বত্বাধিকারী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুল হক বলেন, সরকারী যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে মিলটি পরিচালনা করা হচ্ছে।
এলাকার মানুষ যাতে ক্ষতির মুখে না পড়েন সেটির ব্যবস্থা করা হয়েছে মিলের ভিতরে। কি কারণে কিছু মানুষ মিলটির বিপক্ষে নেমেছেন আমার বোধগম্য নয়। এর পিছনে রহস্য থাকতে পারে।

পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে মিল বন্ধের যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে সেটি আমি মোকাবেলা করছি আইনগতভাবে। জানতে চাইলে নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম বলেন, যেহেতু অভিযোগ এসেছে। সেটি দেখবে পরিবেশ অধিদপ্তর। নিয়ম বর্হিভুতভাবে পরিচালিত হলে জেলা প্রশাসক থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে সংশ্লিষ্ঠ বিভাগকে।

এনএ/আরজি