দ্বিতীয় তিস্তা সেতুতে খুলেছে লালমনিরহাটের উন্নয়নের নতুন দ্বার

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ | ৪ শ্রাবণ ১৪২৫

দ্বিতীয় তিস্তা সেতুতে খুলেছে লালমনিরহাটের উন্নয়নের নতুন দ্বার

আরিফুর রশীদ, লালমনিরহাট ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৮

print
দ্বিতীয় তিস্তা সেতুতে খুলেছে লালমনিরহাটের উন্নয়নের নতুন দ্বার

দ্বিতীয় তিস্তা সেতুতে খুলেছে উত্তরাঞ্চলের পিছিয়ে পড়া জেলা লালমনিরহাটের উন্নয়নের নতুন দ্বার। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সাথে সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ পুরো অঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও জীবনযাত্রার মানে প্রভাব ফেলছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পাশাপশি অবস্থান হলেও লালমনিরহাট ও বিভাগীয় শহর রংপুরের মধ্যকার যোগাযোগের অন্তরায় তিস্তা নদী। সেই বাধা কাটাতে ২০১২ সালে ১২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১২১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিস্তা নদীর ওপর ৮৫০ মিটার দীর্ঘ লালমনিরহাটের কাকিনা ও রংপুরের মহিপুরে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন।

এবছরের শুরুতে সেতুটির কাজ শেষ হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষা না করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জনগণের ভোগান্তির কথা চিস্তা করে গত মার্চ মাসে তা চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়।

যোগাযোগ ব্যবস্থায় অধিকতর উন্নয়ন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক রুট বুড়িমারী স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও বিভাগীয় শহর রংপুরের দূরত্ব কমিয়ে আনার জন্যই লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের রুদ্রেশ্বর ও রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের মহিপুর এলাকায় তিস্তা নদীর ওপর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু নির্মাণ করে সরকার।

দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, সেতুটি খুলে দেয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রংপুর শহরের সঙ্গে লালমনিরহাটের আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার লোকজন যোগাযোগ করতে পারছে। এর সুফল পাচ্ছে রংপুরের পিছিয়ে থাকা গঙ্গাচড়া উপজেলার মানুষও।

ব্যবসায়ীদের অভিমতে, সেতুটি এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও উৎপাদিত কৃষি পণ্য বাজারজাতে ভূমিকা রাখছে। এছাড়া পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দরের সঙ্গে সড়কপথে বিভাগীয় শহর রংপুর ও ঢাকার দূরত্ব কমেছে প্রায় ৬০ কিলোমিটার। এতে তারা কম সময়ে কাঁচামালসহ কৃষিজাত পণ্য পরিবহনে সক্ষম হচ্ছেন।

তাছাড়া বুড়িমারী স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যও দ্বিগুণ বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বল্প সময়ে বন্দরের গুরুত্ব অনেকগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে দাবি করছেন তারা।

বুড়িমারী স্থলবন্দর ব্যবহারকারী মেসার্স সায়েদ এন্টারপ্রাইজ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক ব্যবসায়ী সায়েদুজ্জামান সাঈদ বলেন, কাকিনা-মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু চালুর ফলে বুড়িমারী-লালমনিরহাট-বড়বাড়ী হয়ে ঘুরে আর রংপুর যেতে হচ্ছে না। এতে অল্প সময়ে পণ্য গন্তব্যে পাঠানো যাচ্ছে। কমেছে পরিবহন খরচও।

কাকিনা এলাকার স্থানীয় কলেজছাত্রী নাজিফা মোবাশশিরা বলেন, সেতুটি চালুর ফলে রংপুরের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হয়েছে। লালমনিরহাটের ৪টি উপজেলার শিক্ষার্থীরা বাড়িতে থেকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ রংপুরের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনার সুযোগ পাবে।

কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা এলাকার স্কুলশিক্ষক মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, আগে অসুস্থ রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথ ঘুরে রংপুরে নিতে হতো। অনেক সময় দীর্ঘ পথ হওয়ায় অসুস্থ রোগী রংপুর পৌঁছানোর আগেই মৃত্যুবরণ করত। সেতুটি খুলে দেয়ায় সময় ও য়াতায়াত খরচ দু’টোই কমে এসেছে, এতে উন্নত চিকিৎসা সেবায় দারুন পরিবর্তন এসেছে। মূলত সেতুটির দ্বার খুলে যাওয়ায় রংপুর ও লালমনিরহাট দু’জেলার উন্নয়নের দুয়ার খুলে গেছে।

লালমনিরহাটের চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও বিশিষ্ট শিল্পপতি শেখ আব্দুল হামিদ বলেন, সেতুটি পিছিয়ে থাকা রংপুর অঞ্চলের ইতিবাচক আর্থ-সামাজিক পরিবর্তনের সুযোগ এনেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান ও বাণিজ্য সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

এসবি

 
.



আলোচিত সংবাদ