আমের ভারে নুইয়ে আছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ আমগাছ

ঢাকা, শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫

আমের ভারে নুইয়ে আছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ আমগাছ

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০১৮

print
আমের ভারে নুইয়ে আছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ আমগাছ

দূর থেকে দেখে মনে হয় এটি একটি বটগাছ। একটু কাছে গেলে মনে হতে পারে এটি হয়ত একটি বিশাল আমের বাগান। তবে আরো কাছে যেতেই এসব ধারণার বিপরীত চিত্র দেখা যাবে। একটি আমগাছ থেকেই বের হওয়া ডালগুলো চারদিকে ছড়িয়ে বিশাল আকার ধারণ করেছে। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী এলাকায় অবস্থিত এশিয়ার সর্ববৃহৎ আমগাছ এটি। বিশাল আম গাছে ফলনও হয়েছে প্রচুর।

তিন বছরের জন্য এ গাছের আম দেড় লাখ টাকায় লিজ দেওয়া হয়েছে বলে জানালেন গাছের মালিক সাইদুর রহমান ও নূর ইসলাম।

আম ক্রয়কারী সোলেমান আলী জানান, ‘দেড় লাখ টাকায় ৩ বছরের জন্য গাছটি লিজ নিয়েছি। ফলন মৌসুমে গাছটি আমাকে দেখাশোনা করতে হয়। এ বছর ভালোই আম ধরেছে। তবে ঝড়ে কিছু আম ঝরে পড়ছে। তারপরও আশা করছি প্রায় ৮০ মণের মতো আম পাওয়া যাবে।’

গাছের মালিক নূর ইসলাম বলেন, ‘সূর্যাপুরী জাতের এই গাছটির আম খুবই সুস্বাদু ও মিষ্টি। আগে মৌসুমে ১শ মণের বেশি আম পাওয়া গেলেও এখন ৭০ থেকে ৮০ মণ আম পাওয়া যায়। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক মানুষ অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখে আমের জন্য।’

গাছটি নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে নূর ইসলাম আরো বলেন, আম গাছটি দেখতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রত্যহ শতশত মানুষ এখানে ছুটে আসে। তাই এ গাছটিকে ঘিরে পিকনিক স্পট গড়ে তোলার ইচ্ছে আছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এলাকাটিকে পিকনিক স্পট হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিয়ার রহমান বলেন, ব্যতিক্রমী এ গাছের আম বাজারের অন্য আমের চাইতে চাহিদা বেশি এবং দামও বেশি। এখানকার আমের পাশাপাশি এই গাছের চারার চাহিদাও রয়েছে। এ গাছটির জাত সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছর অসংখ্য চারা করা হয় এবং আগ্রহীদের নিকট বিক্রি করা হয়।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নির্বাহী অফিসার আব্দুল মান্নান জানান, এ আম গাছটি প্রায় ২ বিঘা জুড়ে অবস্থিত। বিশাল আকৃতির গাছটি দেখতে আসা দর্শনার্থীদের কথা ভেবে এটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা সরকারের উচ্চ মহলে পাঠানো হয়েছে।

সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী আম গাছটি পরিদর্শন করে এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার আশ্বাস দেন।

বিআইবি/এসএফ

 
.


আলোচিত সংবাদ