সাঁওতাল পল্লিতে হামলা: রমেশের লাশ উত্তোলন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ আগস্ট ২০১৮ | ১ ভাদ্র ১৪২৫

সাঁওতাল পল্লিতে হামলা: রমেশের লাশ উত্তোলন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি ৩:৪৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮

print
সাঁওতাল পল্লিতে হামলা: রমেশের লাশ উত্তোলন

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ সাঁওতাল পল্লিতে হামলার ঘটনায় নিহত রমেশ টুডুর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গুমানিগঞ্জ ইউনিয়নের সিংটাজুড়ি এলাকা থেকে দাফনের ১৪ মাস পর তার লাশ উত্তোলন করা হয়।

গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য এ তার লাশ উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মরদেহ উত্তোলনের সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউল আলম, পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন মিয়া পিপিএম, স্থানীয় থানার তদন্তকারি কর্মকর্তা নাজমুল আহমেদসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, ইক্ষু খামারের জমি থেকে সাওতালদের উচ্ছেদের ঘটনায় তিন সাওতাল নিহত হন। নিহত তিনজনের মধ্যে শ্যামল হেমরম ও মঙ্গল মার্ডীর মরদেহ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু ঘটনার দুই দিন পর একটি ধানক্ষেতে রমেশ টুডুর মরদেহ পাওয়া গেলে তার পরিবার মরদেহটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে সমাধি করে।

পরবর্তীতে থোমাস হেমরমের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষীতে আদালতের বিচারক পার্থ ভদ্র ৩০ জানুয়ারি রমেশ টুডুর মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৫৬ সালে উপজেলার মহিমাগঞ্জ রংপুর চিনিকলের জন্য সাপমারা ইউনিয়নের সাহেবগঞ্জ এলাকার প্রায় ২ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করে সরকার। ওই এলাকায় সে সময় ২০টি গ্রামের মধ্যে ১৫টিতে সাঁওতালদের বসবাস ছিল। বাকী ৫টি গ্রামে ছিল বাঙালিদের বসবাস। কিন্তু ২০০৪ সালে চিনিকলটি বন্ধ হয়ে গেলে সাঁওতালরা ওই জমিতে ফিরে আসার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে তারা সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের এক হাজার ৮শ ৪০ একর জমির মধ্যে প্রায় দেড় হাজার একর জমি দখলে নিয়ে সেখানে বাড়িঘর গড়ে তোলেন।

সেখান থেকে সাঁওতালদের উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে ২০১৬ সালের ৬ নভেম্বর সাঁওতালদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে রংপুর চিনিকল কর্মকর্তা/কর্মচারী ও পুলিশের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশের অভিযোগ সাঁওতালরা তাদের ওপর আক্রমন চালায়।

এএইচএ/এফবি/এসএফ

 
.


আলোচিত সংবাদ