মাধ্যমিক পদার্থ বিজ্ঞানে কিছু তথ্যগত ভুল আছে বলে দাবি ফরিদুলের

ঢাকা, শনিবার, ২১ জুলাই ২০১৮ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৫

মাধ্যমিক পদার্থ বিজ্ঞানে কিছু তথ্যগত ভুল আছে বলে দাবি ফরিদুলের

আলমগীর হোসেন, বগুড়া ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৮

print
মাধ্যমিক পদার্থ বিজ্ঞানে কিছু তথ্যগত ভুল আছে বলে দাবি ফরিদুলের

জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থ বিজ্ঞানে কিছু তথ্যগত ভুল রয়েছে বলে দাবি করেছেন বগুড়ার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল টাচ্ ইন্সটিটিউটের বিদ্যুৎ বিভাগের প্রধান (তড়িৎ কৌশল বিভাগ) মো. ফরিদুল ইসলাম সরকার। তিনি ছোট বেলা থেকে ইলেকট্রিক্যাল গবেষণা করতেন। বিজ্ঞান বিভাগে লেখাপড়া শিখে ফরিদুল ইসলাম ওই ইন্সটিটিউটে গত ২০১৬ সাল থেকে কর্মরত রয়েছেন।

ফরিদুল ইসলাম সরকার জানান, নবম-দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থ বিজ্ঞানের ১২.২.১-দ্বাদশ অধ্যায়ে তড়িৎ চৌম্বক’র সলিনয়েড় তৈরি সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোনো তারকে অনেক বার পেঁচিয়ে একটি কুণ্ডলী তৈরি করা হয়, এ রকম কুণ্ডলীকে সলিনয়েড বলে। কথাটি যুক্তিযুক্ত নয়, কারণ-কোনো তারকে শুধু ১ বার পেঁচিয়েও কুণ্ডলী বা সলিনয়েড তৈরি করা যায়। অর্থাৎ কোনো পরিবাহী তারকে ৩৬০ ডিগ্রি বাঁকানো হলে বিদ্যুৎ প্রবাহ দেওয়ার ফলে যখন চৌম্বক বলরেখা অক্ষের সমান্তরালে প্রবাহিত হয় তখনতাকে সলিনয়েড বলে। সলিনয়েডের পাক সংখ্যা প্রয়োজন অনুসারে ১ থেকে শুরু করে যেকোনো সংখ্যা হতে পারে।


একই অধ্যায়ের তড়িৎ চৌম্বক ১২.২.২-তে বলা হয়েছে, শুধু কয়েলে যে চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি হয় তা থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র তৈরি করা যায়। যদি এই কুণ্ডলীর ভেতর এক টুকরা লোহা ঢুকিয়ে দেওয়া যায়। এ কথাটি যথাযথ নয়। এখানে মূলত লোহা জাতীয় বস্তু চৌম্বক বলরেখার পরিবাহক হিসেবে কাজ করে। যেমন পরিবাহী তার বিদ্যুৎ পরিবহন করে। সলিনয়েড বিদ্যুৎ দিলে বল রেখাগুলি অক্ষের সমান্তরালে প্রবাহিত হয় আর প্যাঁচগুলো এক জায়গায় থাকে না, তাই প্যাঁচগুলো আলাদা আলাদা চৌম্বক বলরেখা সম্মিলিতভাবে সমবলে কাজ করতে পারে না। কারণ প্রত্যেকটা প্যাঁচের মধ্যে একটি দূরত্ব থাকে। শূন্য মাধ্যমে চৌম্বক বলরেখা সহজে প্রবাহিত হতে পারে না, অধিক বাধার সম্মুখীন হয়। আর লোহাতে চৌম্বক বলরেখা সহজে প্রবাহিত হয়। তাই লোহা ঢুকালে সলিনয়েডের সমস্ত প্যাঁচের উৎপন্ন বলরেখার প্রভাবে লোহার মধ্যকার অনু চৌম্বকগুলো সারিবদ্ধভাবে দণ্ড চৌম্বকের ন্যায় আচরণ করে। তাই আমরা এক কথায় বলতে পারি, লোহা উৎপাদক নয় পরিবাহক।



তিনি আরো বলেন, ২০১৮ সালের পদার্থ বিজ্ঞান বইয়ে তড়িৎ চৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক হিসেবে বিজ্ঞানী ওয়েস্টেডের নাম উল্লেখ্য করা হয়েছে- যা সঠিক। ১৮১৯ সালে বিজ্ঞানী ওয়েস্টেডের তড়িতের চৌম্বক ক্রিয়া আবিষ্কারের পর অনেক বিজ্ঞানী চেষ্টা করতে থাকেন চৌম্বকক্ষেত্র থেকে তড়িৎ প্রবাহ সৃষ্টি করা যায় কিনা। এই নিয়ে যারা কাজ করেছিলেন তাদের মধ্যে ইংল্যান্ডে মাইকেল ফ্যারাডে, আমেরিকায় জোসেফ হেনরি এবং রাশিয়াতে এইচ. এফ. ই লেঞ্জ তিনজনই পৃথক পৃথকভাবে সাফল্য লাভ করেন। কিন্তু ১৮৩১ সালে মাইকেল ফ্যারাডে তার পরীক্ষালদ্ধ ফলাফল প্রথম প্রকাশ করেন, তাই মাইকেল ফ্যারাডেকেই তড়িৎ চৌম্বক আবেশের আবিষ্কারক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
ওই অধ্যায়ের ১২.২.৪-তে ডিসি মটর- বলা হয়েছে, একটি তারের মধ্য দিয়ে খুব বেশি বিদ্যুৎ পরিবহন করা যায় না। এটাও সঠিক নয়। কারণ একটি তারের মধ্য দিয়ে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারবে তা নির্ভর করবে তারের প্রস্থচ্ছেদের ক্ষেত্রফল এবং উপাদানের ওপর। আর চৌম্বকচ্চালক বলের একক হিসেবে আমরা জানি (প্রবাহ গুণ পাক সংখ্যা) বা এ.টি। তাই পাক সংখ্যা যদি ১টিও হয় এবং কারেন্ট যদি বেশি হয় তাহলেও অধিক শক্তিশালী তড়িৎ চৌম্বক তৈরি করা সম্ভব। আবার যান্ত্রিক শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে শুধু বিকর্ষণ বলের কথা উল্লেখ্য করা হয়েছে। এ কথাটাও যথাযথ নয়। কারণ একটি মটরে আকর্ষণ ও বিকর্ষণ বল দুইটি সমানভাবে কাজ করে। এমনিভাবে পদার্থ বিজ্ঞানে জেনারেটর, ট্রান্সফর্মার বিষয়ে যথার্থ সংজ্ঞা এবং সুষ্পষ্ট ধারণা দেয়া হয়নি।

সাবেক বগুড়া পলিটেশনিক্যাল ইন্সটিটিউটের উপাধ্যক্ষ ও বতর্মানে পাবনা পলিটেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ ড. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, পদার্থ বিজ্ঞানের উক্ত বিষয়গুলো নিয়ে আমিও ভাবছি। বইয়ে যা আছে তা শতভাগ সঠিক তাও বলা যাবে না আবার শতভাগ সঠিক নয় তাও বলা যাবে না। এটা বিজ্ঞানসম্মত শিক্ষা। ফরিদুল ইসলামের উত্থাপিত তথ্য নিয়ে স্টাডি করার জন্য তড়িৎ চৌম্বক বিভাগের এক শিক্ষককে দায়িত্ব দিয়েছি।

ঢাকা সরকারি উদ্যান কলেজের পদার্থ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও তড়িৎ আবেশে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনকারী ড. সাইদুজ্জামান জানান, ফরিদুল ইসলামের উত্থাপিত বিষয়গুলোর সাথে আমি একমত প্রকাশ করছি। শুধু উনি চৌম্বক প্রবাহ নিয়ে যে কথা বলেছেন, তা পরীক্ষা না করা পর্যন্ত একমত প্রকাশ করতে পারছি না।

এএইচ/এইচকে/আরপি

 
.



আলোচিত সংবাদ