অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলার ঘটনায় বহিস্কার ৫

ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০ | ৯ মাঘ ১৪২৬

অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলার ঘটনায় বহিস্কার ৫

রাজশাহী ব্যুরো ৫:৩৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯

অধ্যক্ষকে পানিতে ফেলার ঘটনায় বহিস্কার ৫

রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে লাঞ্চিত এবং পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়ার ঘটনায় ৪ শিক্ষার্থীকে বহিস্কারসহ ১৬ ছাত্রের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির গত ৯ ডিসেম্বরের একাডেমিক কাম প্রশাসনিক পরিষদের সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

এর মধ্যে ৪ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিস্কার, ৫ শিক্ষার্থীর মূল সদনপত্র আগামী তিন বছর আটকে রাখা এবং ৭ শিক্ষার্থীকে টিসি (ট্রান্সফার সার্টিফিকেট) দিয়ে অন্য কোন ইন্সটিটিউটে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অপরাধী চিহ্নিত হওয়া এসব ছাত্র সকলেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এছাড়াও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাজশাহী পলিটেকনিকে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। এরই মধ্যে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকরের জন্য কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দিন আহমেদ।

অধ্যক্ষ জানান, একাডেমিক কাম প্রশাসনিক পরিষদের সভায় তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এই কমিটির দেয়া প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে ওই সভায় দোষী সাব্যস্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে এসব সিদ্ধান্ত চুড়ান্তভাবে কার্যকর করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

সূত্র জানায়, সভায় যাদের ছাত্রত্ব বাতিল বা রেজিস্ট্রেশন বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে তারা হলেন, অধ্যক্ষকে পুকুরে ফেলার মুল হোতা ছাত্রলীগের বহিস্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ২০১৫-১৬ সেশনের কম্পিউটার বিভাগের ৮ম পর্বের শিক্ষার্থী কামাল হোসেন ওরফে সৌরভ, একই সেশনের ইলেকট্র মেডিক্যাল বিভাগের ৭ম পর্বের শিক্ষার্থী রায়হানুল ইসলাম, ২০১৭-২০১৮ সেশনের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ৫ম পর্বের ছাত্র মুরাদ হোসেন ও ২০১৮-২০১৯ সেশনের মেকানিক্যাল বিভাগের ৩য় পর্বের শিক্ষার্থী সাজিব হোসেন।

আর সরাসরি ঘটানার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা ৫ শিক্ষার্থীর মূল সনদপ্রত্রসহ অনান্য কাগজপত্র আগামী তিন বছরের জন্য আটকে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। তারা হলেন, ২০১৫-২০১৬ সেশনের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের কৌশিক জামান ওরফে বনি, ইলেকট্রো-মেডিক্যাল বিভাগের সালমান রহমান ওরফে টনি, পাওয়ার বিভাগের সাব্বির অহম্মেদ, মেকাট্রনিক্স বিভাগের হাসিবুল হাসান ও কম্পিউটার বিভাগের মারুফ হোসেন।

এছাড়াও পরোক্ষভাবে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায়ে ৭ শিক্ষার্থীকে অন্যত্র বদলি করার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। এরা হলেন, ২০১৫-২০১৬ সেশনের পাওয়ার বিভাগের ৬ষ্ঠ পর্বের (অকৃতকার্য) নাঈম ইসলাম, ২০১৬-২০১৭ সেশনের ইলেকট্রনিক্স ৭ম পর্বের প্লাবন কুমার কুন্ডু, মেকাট্রনিক্স ৭ম পর্বের মেহেদী মাহমুদ, মেকানিক্যাল বিভাগের ৭ম পর্বের মহেদি হাসান, ২০১৭-১৮ সেশনের ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ৫ম পর্বের ওমর আজিজ, ২০১৮-২০১৯ সেশনের ৩য় পর্বের কম্পিউটার বিভাগের মাহবুবুর রহমান ও পাওয়ার ৩য় পর্বের মাসুদ রানা মীম।

তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি চলমান রেখে সুষ্ঠুভাবে একাডেমিক কার্যক্রম চালানো অসম্ভব। একারণে আগামী ৫ বছর এখানে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া ছাত্রলীগের টর্চারশেল হিসেবে পরিচিত ১১১৯ নম্বর কক্ষটি ভেঙ্গে ছাত্র কমনরুম নির্মাণের সুপারিশ করা হয়েছে।

মিডটার্মে ফেল এবং ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা দুই শিক্ষার্থীকে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে অধ্যক্ষকে চাপ দেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে গত ২ নভেম্বর কার্যালয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে তাদের কথার কাটাকাটি হয়। এরই জের ধরে ওই দিন দুপুরে অধ্যক্ষকে লাঞ্চিত করার পর টেনেহিঁচড়ে ক্যাম্পাসের ভেতরের একটি পুকুরের পানিতে ফেলে দেয় ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। এ ঘটনায়  সাতজনের নাম উল্লেখসহ ৫০ জনকে আসামি করে মামলা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস জানান, মামলাটি প্রথমে চন্দ্রিমা থানা পুলিশ তদন্ত করছিল। পরে সেটি ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

বিএইচ/এসএস

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও