হট লাইনে অভিযোগ পেয়ে শিক্ষাবোর্ডে দুদকের অভিযান

ঢাকা, শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

হট লাইনে অভিযোগ পেয়ে শিক্ষাবোর্ডে দুদকের অভিযান

রাজশাহী ব্যুরো ১১:৪১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯

হট লাইনে অভিযোগ পেয়ে শিক্ষাবোর্ডে দুদকের অভিযান

হট লাইনে সনদ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় রাজশাহীর উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে একটি টিম গোপনে ও প্রকাশ্যে এ অভিযান পরিচালনা করেন। পরে জড়িত ছয় জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

সন্ধ্যায় দুদকের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ছাত্র-ছাত্রীদের সনদপত্র উত্তোলন, নাম সংশোধন, ফলাফল সংশোধন, ভর্তি বাতিল, এক কলেজে ভর্তি বাতিল করে নতুন কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পাদনে সরকার নির্ধারিত ফি-এর অতিরিক্ত ফি আদায় এবং বিদ্যালয় মঞ্জুরী নবায়ন, বিদ্যালয়ে নতুন বিভাগ খোলা, মহাবিদ্যালয়ের এ্যাডহক কমিটি, কার্যনির্বাহী কমিটি, একাডেমিক স্বীকৃতি ও মহাবিদ্যালয়ের ছাড়পত্র প্রদান ইত্যাদি কাজে উৎকোচ গ্রহণ ও দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে- বলে একজন ভূক্তভোগী দুদকের হট লাইন অভিযোগ করেন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে দুদক এ অভিযান চালায়। সকালে গোপনে তথ্য সংগ্রহ গিয়ে লক্ষ্য করে সেবা প্রত্যাশীদের নিকট থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বোর্ডের কর্মচারী নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ১২০০ টাকা গ্রহণ করছে এবং আবেদন ফরম গ্রহণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেবা প্রদানের নিশ্চয়তা দিচ্ছে।

কাউন্টারের মাধ্যমে আবেদনপত্র নেওয়ার নিয়ম থাকলেও অধিকাংশ আবেদন ফরম বিভিন্ন কর্মচারীর মাধ্যমে সরাসরি নিয়ে বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারী উৎকোচের বিনিময়ে কাজ করে দিচ্ছে। 

এছাড়া সেবা প্রত্যাশী এসএমএস’র মাধ্যমে ডেলিভারি কাউন্টার হতে সংশ্লিষ্ট সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও তারা পাচ্ছে না। প্রার্থী বাড়তি টাকা দিয়ে সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করলে সেবা প্রদান করছে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রার। পর্যালোচনা করে এর সত্যতা পাওয়া যায়।

এসবের সাথে জড়িত থাকার দায়ে শিক্ষাবোর্ডের পত্রপ্রাপ্তি শাখার অফিস সহকারী মুরাদ আলী, স্ক্রিপ্ট শাখার দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী রুবেল খান, আসলাম হোসেন ওরফে চৌধুরীকে হাতেনাতে প্রার্থীদের আবেদন ফরম ও উৎকোচসহ আটক করে সংশ্লিষ্ট শাখায় নিয়ে যাওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ইসমাইল হোসেন, পত্রপ্রাপ্তি শাখার অফিস সহকারী শহিদুল ইসলাম ও সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আহসান আলী অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এ ৬ জনকে উৎকোচ গ্রহণের বিষয়ে বোর্ডের সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেনের সাথে আলোচনা করা হয়।

পরে দায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট শাখাকে নির্দেশ দেন সচিব। টিম এ বিষয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিএইচ/এআরই

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও