আজও তিন বিভাগে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

আজও তিন বিভাগে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ

বগুড়া প্রতিনিধি ১২:১০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯

আজও তিন বিভাগে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ

জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন বাড়ানো ও ট্যাংক লরিতে পুলিশ হয়রানি বন্ধসহ ১৫ দফা দাবিতে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই কর্মবিরতির দ্বিতীয় দিন চলছে আজ (সোমবার)। আজও  খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর  তিন বিভাগের জ্বালানি তেল উত্তোলন, বিপণন ও পরিবহন বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, ভোর থেকে বগুড়ার সকল পেট্রোল পাম্পগুলোতে পরিবহনে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ থাকার কারনে উত্তরের অনেক জেলায় বাস চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। শুধু মাত্র গ্যাস চালিত বাস চলাচল করছে।

সোমবার সকালে পেট্রোল পাম্প ওনার্স এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি এমএ মোমিন দুলাল জানান, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) উদ্ধর্তন কর্মকর্তাদের সাথে আজ বেলা ১১টায় ঢাকার সেগুন বাগিচার প্রধান কার্যালয়ে এক বৈঠকের জন্য বলা হয়েছে। সেই বৈঠকে আমাদের সাথে দাবির বিষয়ে আলোচনা হবে। যদি সন্তোষ জনক ভাবে আলোচনা সফল হয় তা হলে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

গত ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার সংগঠনের রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির আয়োজনে বগুড়া প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ১৫ দফা দাবি মেনে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আল্টিমেটাম দেন। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মঘটের কর্মসূচী ঘোষণা করেন  বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প  ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও রাজশাহী বিভাগীয় সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মিজানর রহমান রতন।

১৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— জ্বালানী তেল বিক্রির  প্রচলিত কমিশন কমপক্ষে সাড়ে সাত শতাংশ প্রদান,  জ্বালানী তেল ব্যবসায়ীরা কমিশন এজেন্ট নাকি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান-বিষয়টি সুনির্দিষ্টকরন, প্রিমিয়াম পরিশোধ স্বাপেক্ষে ট্যাংক লরী শ্রমিকদের ৫ লাখ টাকা দুর্ঘটনা বীমা প্রথা প্রণয়ন,  ট্যাংক লরীর ভাড়া বৃদ্ধি, পেট্রোল পাম্পের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স গ্রহণ বাতিল, পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত পাবলিক টয়লেট, জেনারেল ষ্টোর ও ক্লিনার নিয়োগের বিধান বাতিল, সড়ক ও জনপদ বিভাগ কর্তৃক পেট্রোল পাম্পের প্রবেশ দ্বারের ভূমির জন্য ইজারা গ্রহণের প্রথা বাতিল, ট্রেড লাইসেন্স ও বিস্ফোরক লাইসেন্স ব্যতিত অন্য দপ্তর বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক লাইসেন্স গ্রহণের সিদ্ধান্ত বাতিল, বিএসটিআই কর্তৃক আন্ডার গ্রাউন্ড ট্যাংক ৫ বছর অন্তর বাধ্যতামুলক ক্যালিব্রেশনের সিদ্ধান্ত বাতিল, ট্যাংক লরী চলাচলে পুলিশি হয়রানী বন্ধ, সুনির্দিষ্ট দপ্তর ব্যতিত সরকারী অন্যান্য দাপ্তরিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ডিলার বা এজেন্টদেরকে অযথা হয়রানী বন্ধ, নতুন কোন পেট্রোল পাম্প নির্মানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় জ্বালানী তেল মালিক সমিতির ছাড়পত্রের বিধান চালু, পেট্রোল পাম্পের পাশে যেকোন স্থাপনা নির্মানের পূর্বে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তি সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক ও বিভিন্ন জেলায় ট্যাংকলরী থেকে জোরপূর্বক পৌরসভার চাঁদা গ্রহণ বন্ধ করতে হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরী মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ মোমিন দুলাল জানান, মন্ত্রনালয় আমাদের বিষয়টি আমলে নেয়নি। আমাদের মূল দাবি তেলের কমিশন। আমরা তেল উত্তোলন, বিপণন এবং পরিবহন করি কিন্তু উৎপাদন করি না। এর সাথে বিশেষ দাবি রয়েছে। বিশেষ দাবিগুলো হলো— আমরা তেল উৎপাদন করিনা। কিন্তু কল কারখানা আইনে আমাদেরকে চালাতে বলা হচ্ছে। শব্দ দূষণসহ অনেক বিষয়েই আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে।

দুলাল আরো জানান, সরকারকে বিব্রত করতে আমলারা এসব বিষয় আমাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। আর দোষারোপ করছে আমাদের। বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে ভাবা উচিত। তিনি আরো জানান, রাজশাহী, রংপুর, খুলনার পর এর সমাধান না হলে অনান্য বিভাগেও এ ধর্মঘট প্রসারিত হবে।

এএইচ/জেডএস

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও