‘মাদক দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স’

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

‘মাদক দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স’

নওগাঁ প্রতিনিধি ৫:১৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০১৯

‘মাদক দুর্নীতি ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স’

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার বলেছেন, ‘বর্তমানে মাদক আমাদের বড় সমস্যা। মাদক পরিবার, সমাজ সর্বোপরি দেশকে ধ্বংস করছে। কাজেই দেশকে মাদক থেকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জোর দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে মাদক, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়িত হচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির প্যারেড গ্রাউন্ডে ১৪ ও ১৬ বিজিবি কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে আটককৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।

বিজিবি রাজশাহীর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আরিফুল ইসলাম, নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৪ বিজিবি পত্নীতলার অধিনায়ক লে. কর্নেল জাহিদ হাসান, নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারজানা হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের যুবকরা আগামী দিনের দেশনায়ক। তারাই আগামীতে বিভিন্নভাবে দেশের নেতৃত্ব দেবেন। কাজেই বাংলাদেশকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত করে এই যুবশক্তিকে নির্মল এবং মেধাবী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের অধিকাংশ ছাত্রছাত্রী, কিশোর এবং যুবকরা মোবাইল ব্যবহরা করে। ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার ইত্যাদি মাধ্যমে প্রত্যেকে যদি প্রতিদিন মাদকের বিরুদ্ধে ঘৃণা প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিতে থাকে তাহলে আপনাতেই মাদকের বিরুদ্ধে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠবে। কারণ মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ছাড়া এই ভয়াল ব্যাধি থেকে আমাদের নিস্তার নেই।’

সীমান্তরক্ষায় বিজিবির ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, সীমান্তে পাশের দেশ ভারতের মতো আমাদের উন্নত সুযোগ-সুবিধা নেই। অনেক ঘাত প্রতিঘাত, কষ্ট করে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাদের সীমান্ত রক্ষায় অতন্দ্র প্রহরীর দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাদের মধ্যে প্রবল দেশপ্রেম আছে বলেই এত প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।’ 

তিনি আশা দিয়ে বলেন, ‘সরকার সীমান্ত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আলো সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নওগাঁ জেলার সীমান্ত বরাবর রাস্তা তৈরি এবং আলোকিত করে সীমান্তকে সুরক্ষিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তা শিগগিরই বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে নওগাঁস্থ ১৬ বিজিবি ও পত্নীতলাস্থ ১৪ বিজিবি কর্তৃক বিভিন্ন সময়ে আটককৃত মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়। পরে গত তিন বছরে সীমান্তে বিভিন্ন সময়ে উধারকৃত মাদকের মধ্যে বিভিন্ন প্রকার মদ ৮০১ বোতল, ফেনসিডিল ১৫ হাজার ৬৪১ বোতল, গাঁজা ২৫ কেজি, ইয়াবা ১৫৫ পিস, হেরোইন ২৫ গ্রাম, টাপেন্টা ১৫ পিস, ভারতীয় নেশা জাতীয় ইনজেকশন ৩৪৪ পিস, বাংলাদেশের নেশা জাতীয় বোতল ৪৭ পিস, চোলাই মদ ১৪৬ লিটার, কীটনাশক ১ বোতল ধ্বংস করা হয়। যার মূল্য ৭৭ লাখ ৪৬ হাজার ৮৫৫ টাকা।

এছাড়া সকালে মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ উপলক্ষে শহরে সচেতনতামূলক একটি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

এইচআর

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও