বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে পিইসি পরীক্ষা দিতে দেয়নি প্রধান শিক্ষক

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে পিইসি পরীক্ষা দিতে দেয়নি প্রধান শিক্ষক

পাবনা প্রতিনিধি  ১২:৫৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৯, ২০১৯

বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে পিইসি পরীক্ষা দিতে দেয়নি প্রধান শিক্ষক

বুদ্ধি প্রতিবন্ধী তাই ফলাফল খারাপ হতে পারে এমন অজুহাতে পাবনার চাটমোহরে হিমু খাতুন নামে এক শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপণী পরীক্ষায় অংশ নিতে দেননি প্রধান শিক্ষক।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দক্ষিণ শিবরামপুর সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। প্রধান শিক্ষক আবুল কালামের নিষেধাজ্ঞার কারণে রবিবার থেকে শুরু হওয়া পিইসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত রয়েছে হিমু খাতুন।

ফলাফল খারাপ করলে স্কুলের দুর্নাম হবে তাই পরীক্ষা দেয়ানো হয়নি বলে প্রতিবেদকের কাছে অভিযুক্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষকও অকপটে স্বীকারও করেছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, চাটমোহর উপজেলার  রামচন্দ্রপুর গ্রামের আবদুল হাই ও সেলিনা পারভীন দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে হিমু বড়। জন্ম থেকেই হিমু বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার চলাফেরা আর ১০ জন ছেলে-মেয়ের মতো স্বাভাবিক নয়। তবে একটু সময় দিলে সবকিছুই বুঝতে পারে সে।

দক্ষিণ শিবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী হিমু গত অক্টোবর মাসে স্কুলের চূড়ান্ত মডেল টেস্ট পরীক্ষায়ও পাস করেছে। কিন্তু রোববার থেকে শুরু হওয়া পিইসি পরীক্ষায় তার কেন্দ্র গুনাইগাছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হিমুর আসনটি ছিল ফাঁকা।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর স্বজনরা জানান, পিইসি পরীক্ষা শুরুর দুই দিন আগে হিমুদের বাড়িতে যান দক্ষিণ শিবরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম। এ সময় তিনি ফলাফল ভাল করতে না পারলে স্কুলের দুর্নাম হবে, তাই হিমুকে এ বছর পরীক্ষা না দেয়ানোর জন্য হিমুর বাবা-মাকে বলেন। প্রধান শিক্ষকের এমন কথায় হিমুর বাবা-মা রাজি হন। এরপর প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম কৌশলে হিমুকে এ বছর পরীক্ষা দেবে না মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্রও নেন।

আবদুল হাই বলেন, ‘ওই স্কুলে ভালো পড়াশোনা হয় না। ছাত্র-ছাত্রী কম। তবুও মেয়েকে দিয়েছিলাম স্কুলটি বাড়ির পাশে বলে। আমার মেয়ে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হলেও পড়তে ও লিখতে পারে। তবে অন্যদের চেয়ে একটু দেরি হয়। পরীক্ষার দুইদিন আগে প্রধান শিক্ষক বাড়িতে এসে ভাল ফলাফল করতে না পারলে স্কুলের দুর্নাম হবে এবং আগামিতে ভাল প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেয়ানোর জন্য একটি প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে গেছে। সে জন্য হিমুর এ বছর পরীক্ষা দেয়া হল না।’

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আবুল কালামের মুঠোফেনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হিমু নামের ওই শিক্ষার্থী লিখতে পারে না, বুঝে না কিছুই। তো দেখলাম, পরীক্ষা দিলে ফেল করবে, এতে স্কুলের বদনাম হবে তাই আগামি বছর পরীক্ষা দেয়ার জন্য হিমুর বাবা-মায়ের কাছ থেকে প্রত্যয়ন নিয়েছি।’

পরে তিনি এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে গণমাধ্যমকর্মীদের বারংবার অনুরোধ করেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. আশরাফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এত বছর যে মেয়েটি পাস করে এল সেই মেয়ে পাস করতে পারবে না এটা ভুল। আর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়। ওই প্রধান শিক্ষক প্রত্যয়ন নিয়ে এবং স্কুলের দুর্নাম হবে বলে পরীক্ষা দিতে না দিয়ে অপরাধ করেছেন। এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এমকে

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও