নতুন পেঁয়াজ বাজারে, দাম কমতির দিকে

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

নতুন পেঁয়াজ বাজারে, দাম কমতির দিকে

পাবনা প্রতিনিধি ৭:১৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৯

নতুন পেঁয়াজ বাজারে, দাম কমতির দিকে

সারাদেশে যখন পেঁয়াজের দাম নিয়ে তুমুল হৈ চৈ। তখন কিছুটা স্বস্তির খবর দিচ্ছেন পাবনার চাষিরা। দেশের পেঁয়াজ ভান্ডার হিসেবে খ্যাত এ জেলার বেড়া, সাঁথিয়া ও সুজানগর উপজেলায় কৃষকেরা আগাম জাতের পেঁয়াজ ঘরে তুলতে শুরু করেছেন। তবে এ পেঁয়াজ এখনও তেমন পুষ্ট হয়নি। বেশি দামের আশায় কৃষকেরা নির্ধারিত সময়ের আগেই জমি থেকে পেঁয়াজ তুলে বাজারে নিয়ে আনতে শুরু করেছেন।

আগাম জাতের এই পেঁয়াজ শনিবার সাঁথিয়ার করমজা হাটে এবং রোববার কাশীনাথপুরের হাটে পাইকারি হিসেবে প্রতি কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।

এদিকে বাজারে নতুন পেঁয়াজ ওঠার পর পরই পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে।

শনিবার  সাঁথিয়ার করমজা হাটে প্রায় ২০ মণের মতো নতুন পেঁয়াজ ওঠে বলে হাটের আড়তদারদের সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া রোববার পাবনার কাশীনাথপুর হাটে ৮ মণের মতো নতুন অপুষ্ট পেঁয়াজ বাজারে ওঠে।

রোববার পুরোনো দেশি পেঁয়াজ প্রতি মণে শুক্রবারের (১৫ নভেম্বর) তুলনায় ১১শ টাকা কমে বিক্রি হতে দেখা যায়। শুক্রবার একই হাটে প্রতিমণ পুরোনো দেশি পেঁয়াজ ৯ থেকে ১০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। রোববার একই মানের পেঁয়াজ কাশীনাথপুরের হাটে বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ সাত থেকে নয় হাজার টাকা দামে।

কৃষক ও পেঁয়াজের আড়তদারেরা জানিয়েছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আগাম জাতের পেঁয়াজ পুরোপুরিভাবে বাজারে আসতে শুরু হলে ওই সময়ে আরো দাম কমে যাবে।

কৃষক ও স্থানীয় কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাঁথিয়া উপজেলায় প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে কৃষকেরা আগাম জাতের পেঁয়াজ (মূলকাটা) লাগানো শুরু করেন। এবার ওই সময়ে যেসব কৃষক পেঁয়াজ লাগিয়েছিলেন তাদের বেশির ভাগেরই লাগানো পেঁয়াজ কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এরপরে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে কৃষকেরা আবারও আগাম জাতের বা মূলকাটা পদ্ধতির পেঁয়াজের আবাদ শুরু করেন। কিন্তু আবাদ করা সেই পেঁয়াজেরও বড় অংশ অক্টোবরের শেষ সপ্তাহের বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায়। কৃষকেরা আবারও নতুন করে মূলকাটা বা আগাম জাতের পেঁয়াজের আবাদ শুরু করেছেন।

সাঁথিয়া কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে যে পেঁয়াজ লাগানো হয়েছিল তার মধ্য থেকে প্রায় ১৫ হেক্টর জমির পেঁয়াজ কোনোরকমে টিকে যায়। সেই পেঁয়াজই কৃষকেরা জমি থেকে তুলে নিয়ে বাজারে এসেছেন। যদিও কৃষক ও পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের মতে এসব পেঁয়াজ আরও আট-দশদিন জমিতে থাকলে পুরোপুরি পুষ্ট হতো। কিন্তু কৃষকেরা অগ্নিমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখে সেই অপুষ্ট পেঁয়াজই বাজারে নিয়ে আসছেন।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি বছর পাবনা জেলায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ৯৫৮ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যে ৪৯ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের টার্গেট নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ৫০ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাঁথিয়ায় এবার ১৭ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

পাবনা জেলায় পেঁয়াজের আবাদ হয়ে থাকে দুই পদ্ধতিতে। এর একটি হলো মূলকাটা ও অপরটি হলো হালি। মূলকাটা পদ্ধতির পেঁয়াজই আগাম জাতের পেঁয়াজ নামে পরিচিত। জমিতে লাগানোর পর এই পেঁয়াজ ঘরে উঠতে ৫০ দিনের মতো সময় লাগে।

সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কার্যালয় তথ্যানুযায়ী, ৪৫০ হেক্টর জমিতে মাস খানেক আগে এ ধরনের পেঁয়াজ লাগানো হয়েছে এবং সেগুলো বৃষ্টি থেকে কোনোরকমে টিকে গেছে। সেই পেঁয়াজ কৃষকেরা জমি থেকে তুলে বাজারে নিয়ে আসছেন।

শনিবার সাঁথিয়ার করমজা হাটে প্রায় ২০ মণ নতুন পেঁয়াজ ওঠে। তবে নতুন পেঁয়াজের তুলনায় হাটে পুরোনো দেশি পেঁয়াজের আমদানি ছিল বেশি। নতুন পেঁয়াজ পাইকারি প্রতি কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে পুরোনো দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৭৫ থেকে ২২৫ টাকায়। শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) একই হাটে নতুন পেঁয়াজ না উঠলেও দেশি পুরোনো পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি দরে।

হাটে নতুন পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা সাঁথিয়া উপজেলার হুইখালী গ্রামের পেঁয়াজ চাষি মো. খোকন মীর বলেন, ‘আর ১০ থেকে ১২ দিন জমিতে থাকলি এই পেঁয়াজ পোক্ত হইয়া যাইত। ফলনও বাড়ত। গত কয়েক বছর ধইর‌্যা পেঁয়াজের আবাদ কইর‌্যা দাম না পাওয়ায় লছ খাইছি। কিন্তু এবার দাম বেশি দেইখ্যা সময়ের আগেই পেঁয়াজ তুইল্যা বাজারে নিয়্যা আইছি।’

করমজা হাটের পেঁয়াজের আড়তদার মুন্নাফ আলী প্রামাণিক পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করেছে। নতুন পেঁয়াজের কারণেই হোক বা অন্য কোনো কারণেই হোক একদিনের ব্যবধানেই আজ পেঁয়াজের দাম মণ প্রতি ১১শ টাকা থেকে ১২শ টাকার মতো কমেছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ পাবনার উপ-পরিচালক আজহার আলী সরকার পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ‘বাজারে নতুন যে পেঁয়াজ উঠছে তা পুরোপুরি পুষ্ট নয়। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মূলকাটা পদ্ধতির প্রচুর নতুন পেঁয়াজ কৃষকেরা বাজারে নিয়ে আসবেন বলে আশা করছি’।

এই পেঁয়াজ বাজারে আসার মাধ্যমে পেঁয়াজের দাম আর বাড়ার কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানান আজহার আলী সরকার।

এইচআর

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও