পৌর মেয়রের অবৈধ নৌ-বন্দর, রাজস্ব হারাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পৌর মেয়রের অবৈধ নৌ-বন্দর, রাজস্ব হারাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ

পাবনা প্রতিনিধি ২:২৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৯

পৌর মেয়রের অবৈধ নৌ-বন্দর, রাজস্ব হারাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ

বাংলাদেশে নৌ-বন্দর পরিচলনায় একমাত্র অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ ( বিআইডব্লিউটিএ)। নদীকেন্দ্রিক মালামাল পরিবহন ও পণ্যবাহী জাহাজ থেকে মালামাল খালাস, শ্রমিক ও পণ্য ওঠানামা সক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনায় বিআইডব্লিউটিএ ব্যতীত কোন প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেয়া হয়নি।

অথচ সকল নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে অবৈধ নৌ বন্দর তৈরী করে তা পরিচালনা করছেন পাবনার বেড়া পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুল বাতেন। গত প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বেড়া পৌর এলাকার বৃশালিখায় হুরাসাগর নদে এ ছোট পরিসরের এ বন্দরে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে মালামাল খালাস করলেও প্রশাসন অবৈধ এ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কোনই ব্যবস্থা নেয়নি।

বৃশালিখা ঘাটের মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরেই রাষ্ট্রায়ত্ত বাঘাবাড়ী নৌ বন্দর। দূর দূরান্ত থেকে আসা মালবাহী নৌযানগুলো বৃশালিখার অবৈধ ঘাটে নোঙর করায় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ ( বিআইডব্লিউটিএ) ।

সরেজমিনে বেড়া পৌরসভার বৃশালিখায় গিয়ে দেখা যায়, বন্দর পরিচালনার জন্য হুরাসাগর নদের পাড়ে বেড়া পৌরসভার মেয়র আব্দুল বাতেন একটি একতলা ভবন নির্মান করেছেন। সেখানে ঝুলানো সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে, বৃশালিখা বেসরকারী রাজঘাট, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় আলহাজ আব্দুল বাতেন। পাশেই ঘাটে নোঙর করা ১০ টি মালবাহী জাহাজ থেকে সিমেন্ট, কয়লা, ও বিভিন্ন খাদ্য শস্য নামানো হচ্ছে। পরে ট্রাকযোগে সেসব পণ্য নেয়া হচ্ছে স্ব স্ব গন্তব্য স্থলে।

এ সময় কথা হয় পোটন ট্রেডার্স নামের একটি পণ্য পরিবহন সংস্থার প্রতিনিধি সোহরাব হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, “আমরা বাঘাবাড়ী বন্দরে একটি জাহাজটি নামিয়ে আনলে আমাদের অবশ্যই সরকার নির্ধারিত টোল দিতে হত। যা এই বৃশালিখা ঘাট থেকে অনেক বেশী। সেক্ষেত্রে আমরা খুব সহজেই তুলনামূলক অনেক কম খরচে বৃশালিখা ঘাটে পণ্য আনা নেওয়া করতে পারি।

সোহরাব আরো বলেন, বাঘাবাড়ি নৌ বন্দরে শ্রমিক সংকটসহ নানা জটিলতা রয়েছে। ফলে, পণ্য নিয়ে জাহাজ থেকে নামাতে সময় অনেক বেশি লাগে। বেড়া বৃশালিখা ঘাটে সে সমস্যা নেই। তবে, সোহরাব সরকারি নৌ বন্দর এড়িয়ে বৃশালিখা ঘাটে পণ্য নামিয়ে কত টাকা সাশ্রয় করেছেন তা জানাতে রাজি হননি।

এ সময় বৃশালিখা ঘাটে দেখা হওয়া পণ্য পরিবহন সংশ্লিষ্ট কোন ব্যক্তিই ঘাটটিতে পণ্য নামাতে কত টাকা পরিশোধ করতে হয় তা নির্দিষ্ট করে বলেননি।

এ ঘাট পরিচালনাকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনৈতিক বলে মত দিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের ( বিআইডব্লিউটিএ) অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রচলিত আইনানুসারে কেবল মাত্র বিআইডব্লিউটিএ দেশে নৌবন্দর পরিচালনায় বৈধ কর্তৃপক্ষ। বাঘাবাড়ি নৌবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় তারা সরকারী বা বেসরকারী কোন সংস্থাকে নৌবন্দর পরিচালনায় অনুমোদন দেননি। স্থানীয় সরকার খেয়া পারাপারের জন্য ঘাট ইজারা দিতে পারে, কিন্তু পণ্যবাহী জাহাজ নোঙর করে বৃশালিখা ঘাটে যেভাবে বন্দরের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।

তিনি আরো বলেন, বাঘাবাড়ি ঘাটে নোঙর করা প্রতিটি মালবাহী জাহাজকে প্রতি টন মাল খালাসের জন্য ৩৪.৫০ টাকা দিতে হয়। বৃশালিখা ঘাটের কারণে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

রফিকুল ইসলাম আরো বলেন, অবৈধ ঘাটটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে কয়েক দফা লিখিত অনুরোধ জানিয়েছি। অজ্ঞাত কারণে তারা এ ব্যপারে কোন ব্যবস্থা নেয় নি।

এ ব্যপারে বেড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আনাম সিদ্দিকী বলেন, বৃশালিখা ঘাটটি বেড়া পৌরসভা কর্তৃক পরিচালিত হয়। এটা উপজেলা প্রশাসনের বিষয় নয়। আমরা ঘাটটির ব্যপারে অবগত নই।

বৃশালিখা ঘাটকে কোনমতেই অবৈধ নয় বলে দাবি করেছেন, বেড়া পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার আইন অনুসারে, ঘাট থেকে অর্জিত রাজস্ব অবশ্যই স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষ পাবে। যেহেতু, বৃশালিখা ঘাট পৌর এলাকার মধ্যে, তাই পৌরসভা সেখান থেকে রাজস্ব সংগ্রহ করছে। এখানে বিআইডব্লিউটিএর অনুমোদনের কোন প্রয়োজন নেই।

আরজে/জেডএস

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও