সড়ক ঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, দুর্ভোগ

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সড়ক ঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, দুর্ভোগ

বাবুল আখতার রানা, নওগাঁ ১১:১০ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১২, ২০১৯

সড়ক ঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, দুর্ভোগ

সড়কের পাশে ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তূপ। সেখান থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পথচারী, বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা নাক ঢেকে চলাচল করছে। এভাবে প্রতিদিন নওগাঁ শহরের বাইপাস-ডিগ্রির মোড় সড়কের কোমাইগাড়ী এলাকায় পৌরসভার ট্রাক, ট্রলি ও ভ্যানে করে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনার কারণে শহরের অত্যন্ত ব্যস্ততম সড়ক কিছুটা সংকীর্ণ হয়ে গেছে।

পৌরসভা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১৯৬৩ সালে নওগাঁ পৌরসভা গঠিত হয়। তখন উকিলপাড়া, মাস্টারপাড়া, পার-নওগাঁ, চকদেবপাড়া, হাট-নওগাঁ, কালীতলা, ধর্মতলা, বাঙ্গাবাড়িয়া ও কাজিপাড়া ছিল পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত। ১৯৮৯ সালে আরও কিছু এলাকা পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত হয়। এসব এলাকা হচ্ছে— আরজি নওগাঁ, রজাকপুর, শেখপুরা, বোয়ালিয়া, জগৎসিংহ, খালিশকুড়ি, ভবানীপুর, সুলতানপুর, কোমাইগাড়ি, বরুনকান্দি, শিবপুর, চকবাড়িয়া ও চকরামচন্দ্র গ্রাম।

বর্তমান পুরো পৌরসভায় প্রায় দুই লাখ লোকের বসবাস। শুরু থেকেই পৌরসভার বর্জ্য কোমাইগাড়ী এলাকায় ছোট যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধের রাস্তা ডিগ্রির মোড়-বাইপাস সড়কের পশ্চিম পাশে ফেলা হচ্ছে। রাস্তার পূর্ব পাশে নদী। বর্তমানে কোমাইগাড়ী এলাকার যে স্থানটিতে পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হয় তার পাশেই গড়ে উঠেছে আবাসিক এলাকা। বর্জ্য ফেলার ওই স্থান থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরেই নওগাঁ সরকারি কলেজ ও নওগাঁ পলিটেকনিক কলেজ। ফলে কলেজের শিক্ষার্থী, এলাকার অধিবাসী এবং পথচারীদের দুর্গন্ধের কারণে সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

বর্জ্য ফেলার স্থানটির পাশেই বাড়ি নজরুল ইসলামের। শহরের কোমাইগাড়ী এলাকার এই বাসিন্দা বলেন, ‘ময়লার স্তুপের পরিধি দিন দিন বাড়ছে। ১০-১৫ বছর আগে প্রায় ১০০ মিটার এলাকা জুড়ে ময়লা ফেলা হতো। কিন্তু এখন সড়কের পাশে প্রায় ৩০০-৪০০ মিটার এলাকা জুড়ে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। বর্জ্য ফেলার জায়গা না পেয়ে অনেক সময় সড়কের ওপরেই বর্জ্য ফেলে রাখে। অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছে যে, মনে হয় এই এলাকা ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাই।’

শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা একটি বেসরকারি কলেজের শিক্ষক রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘ডিগ্রির মোড়-বাইপাস সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন আমার কর্মস্থলে যাওয়া-আসা করতে হয়। পুরো রাস্তাই ভালো। কিন্তু কোমাইগাড়ী এলাকার এলেই বর্জ্য ফেলারওই স্থানটি পার হতেই যেন দম বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার পাশে খোলা স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ফলে বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে।’

নওগাঁ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী লাভলী আকতার ও সুলতানা বানু বলেন, ‘আমাদের বাসা পৌরসভার শিবপুর এলাকায়। প্রতিদিন ডিগ্রির মোড়-বাইপাস সড়ক দিয়ে আমরা হেঁটে কলেজে যাতায়াত করি। রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ থেকে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়ায়। ফলে এই সড়ক দিয়ে যাওয়া-আসা করা কষ্টকর হয়ে পড়ে।’

নওগাঁ পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক মজিবর রহমান বলেন, পৌরসভার ৪০জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন চারটি ট্রাক ও ১৫টি ট্রলিতে বর্জ্য ভরে এনে কোমাইগাড়ী এলাকার নিয়ে ফেলে। অন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই সেখানেই ফেলতে হয়।

নওগাঁ পৌরসভার মেয়র নজমুল হক বলেন, ‘নওগাঁ পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক একটি প্রকল্প ইতোমধ্যে অনুমোদন হয়েছে। একটি বিদেশী উন্নয়ন সংস্থা এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে। এটি এখন টেন্ডারের অপেক্ষায় রয়েছে। চলতি বছরেই এই প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে পয়ঃনিষ্কাশন বর্জ্যরে বিজ্ঞান সম্মত ব্যবস্থাপনা, বর্জ্য পরিবহনে আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও পরিশোধানাগার নির্মাণ ইত্যাদি। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নওগাঁবাসীর এই সমস্যা আর থাকবে না।’

বিএআর/জেডএস

 

রাজশাহী: আরও পড়ুন

আরও